Home » ভারতকে কেন নির্বাসিত করা হল আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে?

ভারতকে কেন নির্বাসিত করা হল আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে?

সময় কলকাতা স্পোর্টস ডেস্ক :   ফুটবলের “ঘুমন্ত দৈত্য” ভারতের ওপরে শাস্তির খাঁড়া। কোনও স্তরের আন্তর্জাতিক ফুটবলে অংশ নিতে পারবে না ভারত। ফিফা জানিয়েছে ভারতীয় ফুটবলে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের কারণে এই নির্বাসন। বিশবাঁও জলে ভারতীয় ফুটবল ,অনিশ্চয়তার অন্ধকারে অক্টোবরে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য অনুর্দ্ধ ১৭ মহিলা ফুটবল বিশ্বকাপ।

 স্বাধীনতা দিবসের পরের দিনই গাঢ় অন্ধকার নেমে এল ভারতের ফুটবলের ওপরে । অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনকে নির্বাসিত করল ফিফা। ফিফার তরফে এক প্রেস বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ফেডারেশনে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের কারণেই এই নির্বাসন। বাস্তবে, ফেডারেশনের নির্বাচনে সুপ্রিম কোর্টের গড়ে দেওয়া কমিটির হস্তক্ষেপ  ভালো ভাবে নেয়নি ফিফা।

‘তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ’ – অভিযোগ আদতে কী ?

ফেডারেশনকে নির্বাসিত করার পেছনে যে যে কারণ কাজ করেছে সেই কারণ সমূহ উল্লেখ করার আগে বলা দরকার ভারতের ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা যে বিপদে পড়তে পারে, ভারতের ফুটবলে অন্ধকার নেমে আসতে পারে তার ইঙ্গিত মিলেছিল আগেই।যেদিন দেশের ফটবলের সর্বোচ্চ সংস্থায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে মামলা হয় আলাদতে সেদিনই দেখা দেয় অশনি সংকেত ।উল্লেখ্য,১২ মে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন দিল্লি ফুটবল ক্লাবের শীর্ষ কর্তা। ওই শীর্ষ কর্তা অভিযোগ জানান, বেআইনি ভাবে বারো বছরের বেশি সময় এআইএফএফ-এর শীর্ষ পদ দখল দখল করে রয়েছেন প্রফুল প্যাটেল। বিগত প্রায় তেরো বছর ধরে এআইএফএফ-এর কোনও নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়নি। প্রফুল্ল প্যাটেল তিন চার বছরের মেয়াদ পূর্ণ করে ফেলেছিলেনষ এবং আবার প্রেসিডেন্ট পদে দাঁড়ানোর অধিকারই ছিল না তাঁর। অনিয়মের অভিযোগ এনে ১৮ মে সুপ্রিম কোর্ট অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের শাসকগোষ্ঠীর কমিটিকে ভেঙে দেয়।দেশের শীর্ষ আদালত রায় দেয় নির্বাচন করে নতুন কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত ফেডারেশনের সমস্ত দায়িত্ব এবং কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে তিন সদস্যের সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত কমিটি অফ অ্যাডমিনেস্ট্রিরস (সিওএ ) নামক কমিটির মাধ্যমে ।
এই কমিটিতে ছিলেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায়, প্রাক্তন বিচারক অনিল ডাভে এবং প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি। এর পরই শুরু হয় জটিলতা কারণ ফিফা কখনও কোনও দেশের ফুটবল সংস্থার উপর রাজনৈতিক বা সরকারি হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করে না এবং এই কারণেই তারা নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল পাকিস্তানকে।সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর ভারতীয় ফুটবলের পরিস্থিতি খাতিয়ে দেখতে ভারতে আসে ফিফা এবং এএফসি’র প্রতিনিধি দল। ওই সফরে এসে ফেডারেশনের দায়িত্বে থাকা সিওএ কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয় প্রতিনিধি দলের। ফিফা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়,এআইএফএফ-এর নতুন সংবিধান চূড়ান্ত করতে হবে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে। নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। নির্বাচনে যাঁরা জিতবেন সেই কমিটিকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু করতে হবে, জানানো হয় ফিফার তরফে।

 

ফিফার এই নির্দেশের পরই স্পষ্ট ছিল বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে না পারলে নির্বাসনের মুখে পড়তে হবে ভারতীয় ফুটবলকে। ফলে ৩১ জুলাই পেরিয়ে যাওয়ার পর আরও ১৫ দিন অতিরিক্ত সময় দিয়েও নতুন সংবিধান চূড়ান্ত হয় নি।নির্বাচনের দেরি থাকলেও ফিফার কাছে সুস্পষ্ট হয় নি ভারতীয় ফুটবলের ওপরে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ থেকে বেরিয়ে এসে কেন নতুন সংবিধান তৈরী হচ্ছে না।ফলে “ব্যান” সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়।

নির্বাসন উঠতে পারে কীভাবে?

এআইএফএফ’কে ফিফার নির্বাসন থেকে মুক্ত হতে হলে সিওএ’কে সরতে হবে এবং ক্ষমতায় আসতে হবে এআইএফএফ-এর নতুন এক্সিকিউটিভ কমিটিকে। নতুন এক্সিকিউটিভ কমিটি এআইএফএফ-এর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হাতে পেলে তবেই এই নির্বাসন থেকে মুক্ত হবে ভারতীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা।
এর ফলে চলতি বছর ১১ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর দেশের মাটিতে অনূর্ধ্ব-১৭ মহিলা বিশ্বকাপ আয়োজিত হওয়ার কথা। কিন্তু এই নির্বাসনের ফলে বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ হারাতে পারে ভারত। ফিফার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী ১১-৩০ অক্টোবর ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ মহিলা বিশ্বকাপ ভারতে হওয়ার কথা থাকলেও আপাতত তা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ভারতের ক্রীড়ামন্ত্রকের সঙ্গে লাগাতার যোগাযোগ রেখে চলেছে ফিফা এবং তারা আশাবাদী এর সঠিক পথ খুঁজে বের করা সম্ভব হবে।

যতক্ষন নিষেধাজ্ঞা না উঠছে,ততক্ষন সিনিয়র হোক কিংবা জুনিয়র,বা বয়স ভিত্তিক ক্ষেত্রে ভারতের কোনও জাতীয় দলই কোনও রকম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে পারবে না।এ এফ সি ক্লাবেও ভারতের কোনও ক্লাব অংশ নিতে পারবে না।নির্বাসনের ধাক্কায় পিছিয়ে অন্ধকারে ডুবে গেল ভারতীয় ফুটবল। কারণ ভারতীয় ফুটবলের ব়্যাঙ্ক আবার নতুন করে শুরু করতে হবে।
সবমিলিয়ে নির্যাস, রাজনৈতিক নেতাদের ক্রীড়া সংস্থার পদ কব্জা করে রাখার বাসনা, অস্বচ্ছতা, ফুটবল গঠন তন্ত্রে গড়িমসি রেখে ” তৃতীয় ” পক্ষের অনাকাঙ্খিত হস্তক্ষেপে ভারতের ফুটবল পিছিয়ে গেল কয়েক যুগ।।

About Post Author