সময় কলকাতা ডেস্ক : সোমবার আর সিকিউরিটি গার্ডের উর্দি চাপিয়ে জামশেদপুর শহরে দ্বাররক্ষার কাজে যেতে হবে না বিরজু শাহকে। নিদারুন অর্থকষ্টে ভুগতে থাকা প্রাক্তন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বক্সার বিরজু শাহ ঘুমিয়ে পড়েছেন চিরতরে । সোনা জিতেছেন দেশের হয়ে,৯৪ সালের এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন ভারতের হয়ে। কমনওয়েলথ গেমসেও ব্রোঞ্জ ছিল তাঁর। ঝুড়ি ঝুড়ি পদক ছিল তাঁর।ছিল না প্রাপ্য সম্মান আর অর্থ। পাকাপাকি চাকরি ছিল না সেঅর্থে।৫০ বছর হতে না হতেই শান্তির খোঁজে অমৃতলোকে পাড়ি দিলেন বিরজু শাহ।
আজ থেকে ২৬ বছর আগে পৃথিবীর সেরা সাত বক্সারের অন্যতম ছিলেন বিরজু শাহ।অথচ প্রবল অর্থকষ্ট নিয়ে গত ৭ বছর পরিবারের সদস্যদের মুখে দুটো রুটি তুলে দিতে প্রাণান্ত হয়ে যাচ্ছিল তাঁর। বাড়িতে পক্ষাঘাতগ্রস্থ স্ত্রী আর বাবা তাঁদের চিকিৎসা করাতে হত। দুই সন্তান অর্থের তাড়নায় পড়া ছেড়েছে কিছুদিন হল। পেরে উঠছিলেন না বক্সিং গ্লাভস হাতে বহু যুদ্ধ জিতে আসা মানুষটা। শোকে দুঃখে আর মানসিক চাপে চিড়েচ্যাপ্টা হচ্ছিলেন প্রতিদিন।সুগার আর উচ্চ রক্ত চাপের সাঁড়াশি আক্রমণ শরীরকে ঝাঁজরা করে দিচ্ছিল বিরজুকে। ৭ বছর ধরে নামেমাত্র পারিশ্রমিকে প্রহরীর কাজ। দিনমজুরির হিসেবে পয়সা পেতেন। খাওয়া হত না ভালোভাবে, চিকিৎসা করাতে পারেন নি নিজের।রবিবার ঘুম ভাঙে নি তাঁর।টাটা মেন হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হলে ডেথ সার্টিফিকেট লিখে দেওয়া ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না চিকিৎসকদের। বক্সিং রিঙের বাইরে আর ভার আর বইতে পারছিলেন না তিনি। তাঁর সংসার আরও বিপাকে পড়ল তাঁর মৃত্যুতে ।বাস্তব জীবনে হারেন নি তিনি। তাঁর মৃত্যুতে হেরেছে ঝাড়খন্ড সরকার বা দেশ যারা বিরজু শাহর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে আগ্রহ বোধ করে নি।অন্ধকারে বক্সারের কেটে গেল প্রায় অর্ধজীবনকাল অথচ এমনটা কি হওয়ার কথা ছিল? এভাবেই চলে যাওয়ার কথা ছিল কি?।।


More Stories
স্বাস্থ্য পরিষেবায় আধুনিকীকরণে জোর দেবেন নরেশ রায়
আদালত চত্বরে প্রবল ক্ষোভের মুখে অরুণ ভৌমিক
নিজের স্ত্রীকে আবার বিয়ে করছেন খগেশ্বর রায়