Home » টাকি জোড়া মন্দির পাড়ার মুখার্জি বাড়ির পুজোর ইতিহাস

টাকি জোড়া মন্দির পাড়ার মুখার্জি বাড়ির পুজোর ইতিহাস

সময় কলকাতা ডেস্কঃ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ইছামতি নদীর কোলে ছোট্ট এক চিলতে শহর টাকি। রায়চৌধুরী, মুন্সি, পুব, উত্তর ও দক্ষিণ সহ একাধিক জমিদার বাড়ি রয়েছে এই প্রাচীন টাকি শহরে। বেশিরভাগ জমিদার বাড়িতেই আড়াইশো থেকে তিনশো বছর ধরে সাড়ম্বরে পালিত হয়ে আসছে মৃন্ময়ীর আরাধনা। তার মধ্যে অন্যতম হল টাকি জোড়া মন্দির পাড়ার মুখার্জি পরিবারের পুজো।

১২০৮ বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ভারতে ইংরেজ শাসন কালে ওয়ারেন হেস্টিংসের সময় বাদুড়িয়ার বাজিতপুর গ্রামে এক বিধ্বংসী বন্যা হয়। সেই বন্যায় ভিটেবাড়ি ছাড়া হন সেই গ্রামেরই পুরোহিত হরিরামকৃষ্ণ মুখার্জী। ভিটেবাটি হারিয়ে তিনি চলে আসেন টাকিতে। তারপর সেই সময় টাকির জমিদারদের সহায়তায় তিনি চালু করেন অকাল বোধন। তারপর কেটে গিয়েছে প্রায় আড়াইশোরও বেশি বছর। তবুও এখনো স্বমহিমায় পালিত হচ্ছে টাকি মুখার্জি পরিবারের দুর্গার আরাধনা। এমনকী সপ্তমী থেকে অষ্টমী ও অষ্টমীর শেষে নবমীর সন্ধিক্ষণে সন্ধিপুজো হত এই মুখার্জি বাড়িতে।

প্রচলন ছিল আগে গুরুবাড়ির পুজো হবে তারপর একে একে অন্যান্য জমিদারদের বাড়িতে শুরু হবে সন্ধিপুজো। কিন্তু সেইসময় ফোনের তেমন চল ছিল না। যার কারণে মানুষ জানতে পারত না যে গুরু বাড়ির পুজো শুরু হয়েছে। তারপর সেই কথা মাথায় রেখে চালু হলো সন্ধিক্ষণে ডাকের প্রচলন। তৎকালীন জমিদারদের অধীনস্ত সৈয়দপুর, হাসনাবাদ, থুবা ও আমলানি সহ একাধিক গ্রামের প্রজারা সারিবদ্ধ ভাবে এক হাত অন্তর গুরু বাড়ি থেকে রায়চৌধুরীদের দক্ষিণের বাড়ি অবধি দাঁড়িয়ে থাকত। আর যখনই সন্ধিপুজো শুরু হতো তখন একে একে পুজো পুজো পুজো বলে ডাক দেওয়া হতো। তারপর সেই বার্তা পৌঁছে যেত অন্য বাড়িতে। ঠিক একই রকম ভাবে বলির সময়ও, যখন গুরু বাড়িতে বলি শুরু হতো তারপরে বলি বলি বলি করে ডাক দেওয়া হতো। তারপর অন্য বাড়িতে বার্তা পৌছলে সেখানে বলি হত। আর তার থেকেই শুরু হলো সন্ধিক্ষণে ও বলির সময় ডাকের প্রচলন।

তবে,প্রজারা এখন আর সারিবদ্ধ ভাবে রাস্তায় জড়ো হন না। ফলে মলিন হয়ে গিয়েছে ডাক প্রথা। কিন্তু থেমে যায়নি টাকির এই মুখার্জি গুরু বাড়ির পুজোর ঐতিহ্য। এখনো এই পুজোয় সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে ভোগের ব্যবস্থা করা হয়। বিশেষ করে অষ্টমীর ভোগ খেতে এখানে ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে বসিরহাট, বারাসাত ও কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটক থেকে শুরু করে পূর্ণ্যার্থীরা। যা যথেষ্টই গর্বের এক অধ্যায় এই মুখার্জি পরিবারের কাছে।

About Post Author