সময় কলকাতা ডেস্কঃ দুর্গাপুজোর এখনও বাকি প্রায় দেড় সপ্তাহ। তারপরেই উৎসবের মরসুম। ইতিমধ্যেই পুজোর ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে। কিন্তু, তার আগেই সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ধূমধাম করে দুর্গাপুজো শুরু হয়ে গেল কাশীপুরের পঞ্চকোট রাজবংশে। রাজবংশের প্রথা মেনে পুরুলিয়ার কাশীপুরের দেবী বাড়িতে শুরু হল দুর্গাপুজো।
প্রায় ২০০০ বছরের পুরনো এই পুজো। মা এখানে পূজিতা হন রাজরাজেশ্বরী রূপে। এখানে প্রায় ১৫ দিন ধরে মায়ের পুজো চলে। কথিত রয়েছে, রামচন্দ্র রাবণ বধের জন্য যে ১৬ দিনব্যাপী পুজো করে ছিলেন,সেই ধারা মেনেই এখানে ১৫ দিন ধরে মায়ের পুজো হয়। আর সেই কারণে এই পুজোকে ষোড়শকল্পের পুজোও বলা হয়ে থাকে। ষোড়শ কল্পের ষোড়শী রূপে মা পূজিতা হন এখানে। প্রথা মেনে আজও রাজ পরিবারের সদস্যরা মন্দির চত্বরে একসঙ্গে সম্মিলিত হয়ে মায়ের প্রসাদ গ্রহণ করেন।

জানা গিয়েছে, পঞ্চকোট রাজ বংশের এই দেবী মন্দিরে সারা বছরই মা অধিষ্ঠিত থাকেন। পঞ্চকোট রাজবংশের দুর্গাপুজোয় বলি প্রথারও প্রচলন রয়েছে। পুরনো সেই ঐতিহ্য মেনেই এখনও বলি দেওয়ার রীতি প্রচলিত রয়েছে। তবে, প্রতিদিন অবশ্য বলি দেওয়া হয় না। মোট পাঁচদিন বলি হয়। পুজো শুরুর দিন ছাগ ও আখ বলি দেওয়া হয়। চতুর্থপত্রিকার দিন বলি হয়। এরপর সপ্তমী, অষ্টমী, নবমীতে বলি দেওয়া হবে। দশমীতে ঘট বিসর্জনের মাধ্যমে পুজোর সমাপন হবে।
কাশীপুরের পঞ্চকোট রাজবংশের পুজোর এখন আর তেমন জৌলুস নেই। তবে, সাবেকিয়ানা আর ঐতিহ্য আজও বর্তমান রয়েছে। পুজোর এই কয়েকটা দিন রাজ পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে জমায়েত হন। এমনকী স্থানীয়রাও এই পুজোয় সামিল হন। ১৫ দিন ধরে জমজমাট হয়ে ওঠে গোটা কাশীপুর।

রাজবংশের অন্যতম সদস্য সোমেশ্বর লাল সিংহ দে এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘পঞ্চকোট রাজাদের পুজোয় দেবী প্রতিমার সঙ্গে দুই সখী থাকেন, জয়া ও বিজয়া। ভারতীয় রীতিতে কোনও রাজকন্যার রাজপুত্রের সঙ্গে বিবাহ হলে বাপের বাড়ি থেকে রাজকন্যা সখীদের সঙ্গে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি আসতেন। শাস্ত্রমতে দুর্গাও অষ্টসখী নিয়ে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে জয়া, বিজয়া অন্যতম। স্বাধীনতার পর দুই দশক অবধি সন্ধিপুজোর সময় তোপধ্বনি করা হত। সেই তোপের শব্দ শুনে এলাকার অন্য মন্দিরগুলিতে পুজো শুরু হত।’


More Stories
হর্ষ-বিষাদে পালিত ঈদ-উল-আযহা
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস
চিকিৎসকের বঙ্গসংস্কৃতির উদযাপন নববর্ষে