Home » নিয়োগ দুর্নীতিতে পুরো মন্ত্রিসভার গ্রেপ্তারি চেয়ে সরব শুভেন্দু

নিয়োগ দুর্নীতিতে পুরো মন্ত্রিসভার গ্রেপ্তারি চেয়ে সরব শুভেন্দু

সময় কলকাতা ডেস্কঃ নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে বিধানসভায় বিজেপি আনা মুলতুবি প্রস্তাব ঘিরে উত্তাল বিধানসভা। সোমবার সকাল থেকেই বিধানসভায় নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়েছেন বিজেপির একাধিক বিধায়কেরা। তারপরেই বিধানসভায় মুলতুবি প্রস্তাব আনে বিজেপি। বিচারাধীন বিষয় বলে বিজেপির আনা মুলতবি প্রস্তাব খারিজ করে দেয় স্পিকার। মুলতুবি প্রস্তাব খারিজের পরেই বিজেপি বিধায়করা বিধানসভার বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে। বিক্ষোভ চলাকালীন নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে কার্যত হুংকার দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু অধিকারী দাবি নিয়োগ দুর্নীতিতে যারা জড়িত রয়েছেন সেই মন্ত্রীদের গ্রেফতার করতে হবে অবিলম্বে। শুধু সেখানেই থেমে থাকেননি শুভেন্দু। শুভেন্দুর দাবি পুরো মন্ত্রি সভাকে গ্রেফতার করতে হবে রাজ্যের নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে। পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ অযোগ্য প্রার্থীদের কারা নিয়োগ করলো তার কৈফিয়ৎ দিতে হবে সরকারকে।

শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ মেধাদের বাদ দিয়ে অযোগ্যদের জন্য সুপারিশ করেছেন মন্ত্রিসভা, আর মন্ত্রিসভার দায়বদ্ধতা রয়েছে বিধানসভার কাছে। সে কারণেই বিধানসভায় মুলতুবি প্রস্তাব এনেছিল বিজেপি। প্রসঙ্গত নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে হাজিরা দিয়ে রাজ্যের শিক্ষা সচিব মনীশ জৈন জানিয়েছিলেন অযোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগের জন্য নির্দেশে এসেছিল শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর কাছ থেকেই। নিয়োগ দুর্নীতিতে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর নাম জড়ানোয় বিজেপির তীব্র কটাক্ষের মুখে পড়ছে রাজ্যের শাসক দল। কার্যত রাজ্য সরকারকে তুলোধোনা করছে বিজেপি। তার উপর গোদের উপর বিষ ফোঁড়ার মতন যন্ত্রণা দিচ্ছে আদালতের পর্যবেক্ষণ। অযোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র ভৎসনা করেছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন অবিলম্বে এই নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করতে, না হলে তৃণমূল কংগ্রেসের লোগো বাতিলের জন্য নির্বাচন কমিশনে আর্জি জানাবেন তিনি। এমত অবস্থায় নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে কার্যত সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে রাজ্য সরকার। নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে পর্ষদের একাধিক কর্মকর্তা ইতিমধ্যেই জেলে। তারই মাঝে শিক্ষা সচিবের মুখে শিক্ষা মন্ত্রীর নাম আসায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে রাজ্য সরকার। যদিও বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নাম না করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ। তাসত্ত্বেও আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে ক্রমাগত নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে একের পর এক নাম প্রকাশ্যে আসায় অনেকটাই ব্যাকফুটে চলে গিয়েছে শাসকদল,এ কথা মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনের পর ছন্নছাড়া হয়ে যাওয়া বিজেপি নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে অনেকটাই অক্সিজেন জোগাড় করছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের। সোমবার বিধানসভার বাইরে বিক্ষোভ চলাকালীন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর রাজ্য মন্ত্রিসভার গ্রেপ্তারির দাবি জানানো ,পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে বিজেপি কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করবে এমনটাই মনে করছে বিজেপির অন্যান্য নেতৃত্ব বৃন্দ।

About Post Author