সময় কলকাতা,অর্কজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়ঃ মরণ বাঁচন ম্যাচে কোরিয়া ম্যাজিক। পর্তুগালকে ২-১ গোলে হারিয়ে নক আউটে পৌঁছে গেল দক্ষিণ কোরিয়া। ইতিপূর্বেই নক আউটে নিজেদের জায়গা পাকা করে নিয়েছিল রোনাল্ডোরা। এদিন নিয়মরক্ষার ম্যাচে মাঠে নামে পর্তুগাল। অন্যদিকে পরের পর্বে যাওয়ার চাপ নিয়েই এদিন মাঠে নামে কোরিয়া। পর্তুগালকে না হারাতে পারলে এবারের মত বিশ্বকাপে ইতি টানতে হত কাস্ত্রো কোস্টার দলকে। এদিন প্রথম দলে একাধিক পরিবর্তন করেছিলেন পর্তুগালের কোচ ফার্নান্দো স্যান্টোস। কিন্ত সেই দলও যথেষ্ট শক্তিশালী। ম্যাচ শুরুর সাত মিনিটের মাথায় রিকার্ডো হোর্তার গোলে এগিয়েও যায় পর্তুগাল। মরণ বাঁচন ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি সন, কিমরা। ম্যাচের ২৭ মিনিটে কোরিয়ার আক্রমণের কাছে হার মানতে হয় পর্তুগিজ রক্ষণকে। গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান কোরিয়ার ডিফেন্ডার কিম ইয়াং। প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয় ১-১ গোলে।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই বিপক্ষের রক্ষণে আক্রমণের ঝড় তোলে। কিন্তু পর্তুগাল গোলের সুযোগগুলিকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। দ্বিতীয়ার্ধের সংযুক্তি সময় ম্যাচের রং পাল্টে দেন কোরিয়ার ফরওয়ার্ড হোয়াং হি চ্যান। এই জয়ের ফলে গোল পার্থক্যে নক আউটে যাওয়া নিশ্চিত হয় দক্ষিণ কোরিয়ার। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এশিয়ান কনফেডারেশনের তিনটি দল জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়া উঠে গেল শেষ ষোলোয়।
জিতেও দোহার আল জানৌব স্টেডিয়ামে ঘানা-উরুগুয়ে ম্যাচের দিকে চেয়েছিল দ: কোরিয়া। ম্যাচের শুরু আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে আফ্রিকার দেশটি। ম্যাচের ১৮তম মিনিটে কুদুসকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় ঘানা। আন্দ্রে আয়ুর শট দুরন্ত দক্ষতায় বাঁচিয়ে দেন উরুগুয়ের গোলরক্ষক সার্গিও রোচেত। উল্টে ২৬ মিনিটে জিওর্জিয়ান ডি আরাসকেইটার গোলে এগিয়ে যায় উরুগুয়ে। ৩২ মিনিটে উরুগুয়ের হয়ে ফের ব্যবধান বাড়ান জিওর্জিয়ান। আর একটি গোল করতে পারলেই নক আউটে যাওয়া নিশ্চিত হয়ে যেত উরুগুয়ের। কিন্তু একাধিক সুযোগ তৈরী করলেও কাজে লাগাতে পারেননি ডারউইন নুনেজ, সুয়ারেজ, ভালভের্দেরা। ২-০ গোলে জিতেও গ্ৰুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে সুয়ারেজদের। এটাই সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ উরুগুয়ের তারকা সুয়ারেজ, কাভানি, গোডিনদের। ম্যাচের শেষে স্বপ্নভঙ্গের কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন সুয়ারেজ।
অন্যদিকে গ্ৰুপ জির ম্যাচে ফের অঘটন। লুসাইল স্টেডিয়ামে গ্রুপের শেষ ম্যাচে হেরে গেল ব্রাজিল।অতিরিক্ত সময়ে ভিনসেন্ট আবু বাকারের একমাত্র গোলে হারতে হল তিতের দলকে। ১৯৯৪ বিশ্বকাপের পর এ বারের বিশ্বকাপে গ্রুপে কোনও দলই নিজেদের সব ম্যাচে জিততে পারল না। পর্তুগালের মতই গ্ৰুপের শেষ ম্যাচে মাঠে নামার আগে শেষ ষোলোয় পৌঁছে গিয়েছিল সেলেকাওরা। এদিন দলে একাধিক পরিবর্তন করেন কোচ তিতে। গোটা ম্যাচে প্রচুর সুযোগ পেয়েছিলেন রদ্রিগো, আন্তোনি, গ্যাব্রিয়েল জেসুসরা। কিন্তু একটাও কাজে লাগাতে পারেননি। সুযোগ নষ্টের খেসারত দিতে হল পাঁচ বারের বিশ্বকাপজয়ীদের। দ্বিতীয়ার্ধের সংযুক্তি সময়ে ডান দিকের উইং থেকে গোলের ঠিকানা লেখা ক্রস করেন এমবেকেলি। সেই ক্রস থেকে গোল করতে ভোলেননি ক্যামেরুনের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার আবু-বাকার। দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না গোলকিপার এদেরসনের। উত্তেজনায় জার্সি খুলে ফেলে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড এবং লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আবু-বাকার। শেষ পাঁচ মিনিট দশ জনের ক্যামেরুনকে পেয়েও গোল শোধ করতে ব্যর্থ হয় ব্রাজিল।
ব্রাজিলকে হারালেও ক্যামেরুনকে পরের পর্বে যাওয়ার জন্য গ্ৰুপের অন্য ম্যাচে তাকিয়ে থাকতে হয়েছিল। সার্বিয়া বনাম সুইৎজারল্যান্ড ম্যাচটি অমীমাংসিত হলে কিংবা সুইৎজারল্যান্ড হারলে, ক্যামেরুনের সম্ভাবনা থাকত। কিন্তু স্টেডিয়াম ৯৭৪-এ নাটকীয় ম্যাচে সার্বিয়ার বিরুদ্ধে জিতেই মাঠ ছাড়ল সুইৎজারল্যান্ড। ম্যাচ শুরুর ২০ মিনিটে সুইসদের এগিয়ে দেন অভিজ্ঞ উইঙ্গার জর্দান শাকিরি। কিন্তু মাত্র ছয় মিনিটের মাথায় সার্বিয়ার হয়ে সমতা ফেরান মিত্রোভিচ। ম্যাচের ৩৫ মিনিটে দুশান ভ্লাহোভিচের গোলে এগিয়ে যায় সার্বিয়া। ৪৪ মিনিটে সুইৎজারল্যান্ডের হয়ে সমতা ফেরান ক্য়ামেরুনে জন্মানো ব্রেল এমবোলো। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই রেমো ফ্রলারের গোলে এগিয়ে যায় সুইসরা। শেষ অবধি ৩-২ ব্য়বধানে জিতে গোল পার্থক্য়ে দ্বিতীয় স্থানে থেকে নকআউটে সুইৎজারল্য়ান্ড


More Stories
জিতল লাল হলুদ,অভিষেকে ইউসেফের জোড়া গোল
পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে ছেঁটে ফেলতে পারে আইসিসি?
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বদলে আইসল্যান্ড? নেট- দুনিয়ায় হইচই