সময় কলকাতা ডেস্কঃ পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে আবাস যোজনার সমস্যা সমাধানে আরও কড়া পদক্ষেপ নবান্নের। সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এবার বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য পঞ্চায়েত দফতর ৯ সদস্যের বিশেষ টাস্ক ফোর্স তৈরি করল। রাজ্য পঞ্চায়েত দপ্তরের সচিব পি উল্গানাথন-এর নেতৃত্বে এই টাস্ক ফোর্স কাজ করবে। অফিসে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। তৈরি হয়েছে বিশেষ পর্যবেক্ষক দল।
নবান্ন সূত্রে খবর, জেলায় জেলায় সমীক্ষা, উপভোক্তাদের অভিযোগ সম্পর্কিত তথ্য সহ বিস্তারিত বিষয় নিয়ে কাজ করবে এই টাস্ক ফোর্স। অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত বিভিন্ন জেলায় জেলায় পরিদর্শনও করবে এই টাস্ক ফোর্স। উল্লেখ্য, দীর্ঘ জটিলতার পর আবাস যোজনায় রাজ্যের জন্য ৮২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র। তবে শর্তসাপেক্ষে কেন্দ্র এই টাকা দিয়ে বলা হয়েছে, এই প্রকল্পে শুধু প্রধানমন্ত্রীর নামই থাকবে, মুখ্যমন্ত্রীর নয়। রাজ্যের দাবি ছিল, যেহেতু এটি যৌথ প্রকল্প, তাই প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রী উভয়ের নামই থাক প্রকল্পে। কিন্তু সেই দাবি খারিজ করে দিয়েছে কেন্দ্র। সেই সঙ্গে বলে দেওয়া হয়েছে, এই প্রকল্পে কোনওরকম দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না।
অন্যদিকে,এই প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তালিকায় যাতে গরমিল না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে ত্রিস্তরীয় পরীক্ষাপদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন। গত সপ্তাহেই নবান্নে রাজ্যের কুড়িটি দফতরের সচিব, জেলাশাসক এবং জেলার পুলিশ সুপারদের নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। এদিনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আবাস যোজনায় তালিকা তৈরিতে ত্রিস্তরীয় পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করা হবে।
জানা গিয়েছে,প্রথম স্তরে সম্ভাব্য সুবিধাভোগীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খতিয়ে দেখবেন আইসিডিএস এবং আশা কর্মীরা। তাঁদের রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রথম স্তরে বাছাই করা হবে। দ্বিতীয় স্তরে সম্ভাব্য সুবিধাপ্রাপকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাই করবেন স্থানীয় থানার ওসিরা। তৃতীয় এবং সর্বোচ্চ স্তরে খোদ জেলাশাসককে বলা হয়েছে সুবিধাভোগীরা যোগ্য কিনা সেটা যেন সরেজমিনে খতিয়ে দেখা হয়। এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই এবার পুলিশকেও ঢোকানো হয়েছে। এর বাইরেও প্রতিটি মহকুমা শাসকের অফিসে আলাদা করে কন্ট্রোল রুম খোলা হবে। সেই কন্ট্রোল রুম থেকে প্রতি মুহূর্তে এই প্রকল্প সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কয়েকদিন আগেই ঘোষণা করেছেন, নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে আবাস যোজনার বাড়ির তালিকা জানাতে হবে। কার্যত সেকারণেই এবার আরও তৎপর প্রশাসন। কেননা আগামী ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই এই কাজ শেষ করতে হবে।

উল্লেখ্য, পঞ্চায়েত ভোটের আগে আগামী একমাসের মধ্যে গোটা রাজ্যে ১১ লক্ষ উপভোক্তাকে চিহ্নিত করবে সরকার। যাঁরা সরকারের থেকে বাড়ি তৈরির জন্য টাকা পাবেন। এই প্রকল্পে মোট সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। অতি সম্প্রতি রাজ্যের আবাস যোজনার খাতে বকেয়া ৮২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল কেন্দ্র। এই টাকা যাতে কোনও ভাবে নয়ছয় না হয়, তা পঞ্চায়েত ভোটের আগে স্পষ্ট করে দিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি