সময় কলকাতা, অর্কজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়ঃ মধ্যরাতে মরুদেশে যাদু দেখালেন মেসি। অক্ষত রাখলেন সেমি ফাইনালের রেকর্ড। ক্রোয়েশিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা। এদিন আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম গোলটি করলেন মেসি। বাকি দুটি গোল করেন জুলিয়ান আলভারেজ।
সেমিফাইনালে দোহার লুসাই স্টেডিয়ামে এই বিশ্বকাপে অপরাজেয় ক্রোয়েশিয়াকে থামিয়ে দিল আর্জেন্টিনা। কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল বধের পর আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে ক্রোটরা। এদিন শুরু থেকেই ম্যাচের রাশ ছিল ক্রোয়েশিয়ার দখলে। মাঝমাঠে লোক বাড়িয়ে বলের দখল নিজেদের কাছে রেখে আর্জেন্টিনার ডিফেন্সে চাপ তৈরি করছিলেন দালিচের ছেলেরা। দুই প্রান্ত থেকে আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়াচ্ছিলেন পেরিসিচ, পাসালিচরা। গোলের সুযোগ বেশি তৈরি করলেও গোলের মুখ খুলতে পারেননি তারা। প্রথমার্ধের ২০ মিনিটের পর খেলায় ফেরে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ২৫ মিনিটে প্রথম ক্রোয়েশিয়ার গোলমুখী শট করেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। কোনোমতে শরীর বাম দিকে ছুড়ে পরিস্থিতির সামাল দেন বিশ্বকাপে দুরন্ত ফর্মে থাকা ক্রোট গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ। যদিও এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় আলবিসেলেস্তেদের দখলে। ম্যাচের ৩২ মিনিটে এনজোর লং বল ধরে ক্রোট বক্সে ঢুকে পড়েন জুলিয়ান আলভারেজ। পরিস্থিতি সামাল দিতে জুলিয়ানের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন ক্রোট গোল রক্ষক। পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। পেনাল্টি থেকে গোল করতে এবার ভুল করেননি মেসি। জোড়ালো শটে তেকাঠি ভেদ করেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। পরাস্ত করেন এই বিশ্বকাপে সব থেকে বেশি পেনাল্টি বাঁচানো গোলরক্ষককে। পেনাল্টি থেকে গোল করে রেকর্ড গড়লেন মেসি। ১১ গোল করে দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় বাতিস্তুকাকে পিছনে ফেললেন তিনি। ম্যাচের ৩৯ মিনিটে মাঝমাঠে মেসির থেকে বল ধরে দুরন্ত গতিতে ক্রোট রক্ষণে ঢুকে পড়েন জুলিয়ান। সোসা, জুরানোভিচ ও আগুয়ান ক্রোট গোলরক্ষক ডমিনিককে পরাস্ত করে বল জড়িয়ে দেন জালে। ৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মারাদোনার বিস্ময় গোলের স্মৃতি ফিরিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে ব্যবধান বাড়ালেন ম্যাঞ্চেস্টার সিটির তরুণ স্ট্রাইকার। এরপর ম্যাচের রাশ চলে যায় নীল-সাদা বাহিনীর দখলে। রক্ষণ থেকে মাঝমাঠ তখন যেন অপ্রতিরোধ্য মেসিরা।
এদিন শুরু থেকেই মেসিকে কড়া নজরে রেখেছিলেন ক্রোট ডিফেন্ডাররা। জোনাল মার্কিংয়ে মেসিকে আটকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেন ভার্ডিওল, ব্রজোভিচরা। কিন্তু নিজের সেরা দিনে তাকে আটকে রাখার সাধ্যি কারুর নেই। ফের একবার প্রমাণ করলেন আর্জেন্টিনার প্রাণ ভোমরা। ম্যাচের ৬৯ মিনিটে ফের একবার জ্বলে উঠলেন তিনি। ডান প্রান্তে সাইড লাইনের কাছে দুজন ক্রোট ডিফেন্ডারকে ঘাড়ে নিয়ে ক্রোয়েশিয়ার বক্সে ঢুকে পড়েন মেসি। তারপর যে বল আলভারেজকে বাড়ালেন তা থেকে গোল না করাই কঠিন। ফের একবার গোল করে ক্রোয়েশিয়ার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে ইতি টানলেন ২২ বছরের জুলিয়ান। পাশাপাশি মারাদোনা, মেসির যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে নতুন দাবিদারের জন্ম দেখল কাতারের লুসাই স্টেডিয়াম।
যদিও দ্বিতীয়ার্ধে মরিয়া প্রয়াস করেছিল ক্রোয়েশিয়া। মাঝমাঠে বেশ কয়েকবার দেখা গেল মদ্রিচ ঝলক। বল নিজেদের দখলে রেখে আর্জেন্টিনা রক্ষণে হানা দিলেও, আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক এমি মার্টিনেজ কে পরাস্ত করতে পারেনি। ৯০ মিনিটে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর নীরবে মাঠ ছাড়লেন ক্রোয়েশিয়ার এলএমটেন। এটাই শেষ বিশ্বকাপ ৩৭ বছরের রিয়াল মাদ্রিদ তারকার। ম্যাচের পর চোখে জল মেসির। এই জল কি শুধুই ফাইনালে যাওয়ার আন্দন্দের নাকি, ফুটবল জীবনের গোধূলি লগ্নে ফুটবল দেবতার দেওয়া সুযোগের কৃতজ্ঞতায়?


More Stories
জিতল লাল হলুদ,অভিষেকে ইউসেফের জোড়া গোল
পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে ছেঁটে ফেলতে পারে আইসিসি?
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বদলে আইসল্যান্ড? নেট- দুনিয়ায় হইচই