সময় কলকাতা ডেস্ক: একদিকে ফুটবলের আধুনিক ঈশ্বর লিয়োনেল মেসি যিনি ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আর্জেন্টিনা বাসীকে এনে দিতে চান সোনার ট্রফি। যিনি নিজের প্রাপ্তির খাতায় আরেকটি চূড়ান্ত প্রাপ্তি কে যোগ করতে চান। অপরদিকে মাত্র ২৩ বছর বয়সে পেলের রেকর্ড ছোবার হাতছানি যার কাছে তিনি এই বিশ্বকাপের ‘টর্নে়ডো’ কিলিয়ান এমবাপে। তবে এই দুজনের দ্বৈরথ, স্বপ্ন পুরন সবটাই রয়েছে যার হাতে তার বাঁশিই কিন্তু শেষ কথা বলবে। তিনি কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালের রেফারি পোল্যান্ডের সাইমন মার্সিনিয়াক। তিনিই এই বিশ্বকাপের ফাইনালে মেসি-এমবাপেদের নিয়ন্ত্রণ করবেন। সেইসঙ্গে তাকে ফাইনালে অ্যাসিস্ট করার জন্য থাকবেন পাওএল সোকলনিকি ও থমাস লিস্টকিউইচ। আর ভার-এর প্রধান রেফারি থাকছেন মার্সিনিয়াকের দেশেরই টমাস কিয়াতকোস্কি। ৪১ বছর বয়সের এই টানটান নির্মেদ চেহারার মানুষটি এই বিশ্বকাপেরই আরও দু’টি ম্যাচ খেলিয়েছেন। গ্রুপ লিগে ফ্রান্স এবং ডেনমার্কের ম্যাচে রেফারি ছিলেন মার্সিনিয়াক। আবার প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচও খেলিয়েছিলেন তিনিই।
এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার রেফারি-ভাগ্য বেশ খারাপ। নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে তাদের ম্যাচে বিতর্কের জেরেই শেষমেশ বাড়ি ফিরতে হয়েছিল রেফারি মাতেউ লাহোজেকে। ম্যাচে ১৫টি হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন মাতেউ। যার মধ্যে মেসি-সহ আর্জেন্টিনার ৮ জন ফুটবলার হলুদ কার্ড দেখেছিলেন। নেদারল্যান্ডসের ফুটবলাররা দেখেছিলেন ৭টি হলুদ এবং ১টি লাল কার্ড। ওই ম্যাচে মেসির সঙ্গেও তর্কাতর্কি হয়েছিল মাতেউয়ের। পরে সাংবাদিক বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রেফারি বাছা নিয়ে ফিফার কাছে প্রকাশ্যেই অভিযোগ জানিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন ক্যাপ্টেন।
তবে মার্সিনিয়াকের রেকর্ডে অবশ্য এমন বিতর্ক নেই। এ পর্যন্ত নিজের কেরিয়ারে ২০০টিরও বেশি ফুটবল ম্যাচ খেলিয়েছেন এই পোলিশ রেফারি। ম্যাচের সুবিচারক হিসাবে পোল্যান্ডের রেফারিদের মধ্যে তাঁর নম্বর বেশির দিকেই।
তবে কে এই সাইমন মার্সিনিয়াক? যার বাঁশি নিয়ন্ত্রন করবে মেসি এম্বাপে র ভবিষ্যৎ।
সাইমন মাত্র ২১ বছর বয়স থেকে ম্যাচ রেফারি হিসাবে কেরিয়ার শুরু করেন। যদিও তিনি কিছুদিন অ্যামেচার ফুটবলার হিসাবে খেলেছেন। কিন্তু ২০০৬ সালে ২৫ বছর বয়সে পুরোপুরি পেশাদার রেফারি হিসাবেই কাজ শুরু করেন।
ফিফার তালিকাভুক্ত রেফারি হিসাবে তাঁর নাম ওঠে ২০১১ সালে। তার পর থেকে বহু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রেফারি হওয়ার জন্য তাঁকে বেছে নিয়েছে ফিফা। যেমন বেছে নেওয়া হয়েছে বিশ্বকাপের ফাইনালের ম্যাচের জন্যও।
এর আগে ২০১৪-র বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের ম্যাচে রেফারি হয়েছেন মার্সিনিয়াক। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ লিগের ম্যাচেও রেফারি ছিলেন তিনি। সে বার জার্মানি-সুইডেন এবং আর্জেন্টিনা-আইসল্যান্ড ম্যাচ খেলিয়েছিলেন। জার্মানি ম্যাচ জিতেছিল, ড্র হয়েছিল আর্জেন্টিনার ম্যাচ। যদিও মেসিরা একটি পেনাল্টি এবং তিনটি ফ্রি কিক পেয়েছিলেন ওই ম্যাচে।
তবে ২০২২ সালের বিশ্বকাপে মার্সিনিয়াকের রেকর্ডও যথেষ্ট ভাল। আসুন এক ঝলকে দেখে নি এই বিশ্বকাপে মারসিনিকের রেকর্ডঃ
শেষ ১৬-র আর্জেন্টিনা-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে ২-১ গোলে জিতেছিলেন মেসিরা। গ্রুপ লিগে ফ্রান্স-ডেনমার্কের ম্যাচের ফলও ছিল ২-১।
অপরদিকে আর্জেন্টিনার ম্যাচে একটি পেনাল্টি হয়েছিল। সেই পেনাল্টি থেকে গোল ও করেন মেসি । দু’টি হলুদ কার্ড দেখেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ফুটবলার।
আবার ফ্রান্সের ম্যাচে কোনও পেনাল্টি হয়নি। দু’টি গোল দেন এমবাপে। হলুদ কার্ড দেখেছিলেন তিন জন ফুটবলার।
দু’টি ম্যাচেই মোট পাঁচটি হলুদ কার্ড দেখালেও কোনও লাল কার্ড দেখাননি মার্সিনিয়াক। তবে বিশ্বকাপের ফাইনালে তিনি কী করতে চলেছেন আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে দু’দেশের সমর্থকেরা। আর রবিবার বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে মেসি-এমবাপেদের পাশাপাশি নজর থাকবে মার্সিনিয়াকের দিকেও।


More Stories
জিতল লাল হলুদ,অভিষেকে ইউসেফের জোড়া গোল
পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে ছেঁটে ফেলতে পারে আইসিসি?
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বদলে আইসল্যান্ড? নেট- দুনিয়ায় হইচই