Home » কাতার বিশ্বকাপের জানা অজানা

কাতার বিশ্বকাপের জানা অজানা

সময় কলকাতা ডেস্ক :

আর্জেন্টিনার নাটকীয় জয় দিয়ে শেষ হল কাতার বিশ্বকাপ। দীর্ঘ ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ খেতাবের মুখ দেখবে বুয়েনার্স আয়র্স। এই বিশ্বকাপে যেমন খেতাব জয়ের ১৬ বছরের স্বপ্ন পূরণ হল মেসির। অপরদিকে ফাইনালে দুরন্ত হ্যাটট্রিক করেও ট্র্যাজিক নায়ক হয়ে থাকতে হল কিলিয়ান এমবাপেকে। ফাইনাল শেষে একাধিক রেকর্ডের সাক্ষী থাকল মরুদেশ। একবার দেখে নেওয়া যাক কি কি রেকর্ড হল এই বিশ্বকাপে।

১) এবছর বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল মধ্য-প্রাচ্যের দেশ কাতারে। আয়োজক দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার ছাড়পত্র পেয়ে যায় কাতার। গ্রুপ লিগের প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে ২-০ গোলে হার দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে কাতার। প্রথম আয়োজক দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ হারার নজির গড়ে কাতার।

২) দ্বিতীয় বয়স্ক গোলদাতা হিসেবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে পর্তুগালের সেন্টার ব্যাক পেপে। প্রি কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচের ৩৩ মিনিটে দুরন্ত হেড করেন প্রাক্তন রিয়াল মাদ্রিদ ফুটবলার। ৩৯ বছর ২৮৩ দিনের মাথায় গোলটি করেন পেপে। যদিও সব থেকে বেশি বয়সে বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ড এখনও অক্ষুন্ন রয়েছে ক্যামেরুনের রজার মিল্লার। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ৪২ বছরে গোল করেছিলেন তিনি।

৩) বিশ্বকাপের ফাইনালে দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে হ্যাটট্রিক করেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপে। এর আগে ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেছিলেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি জিওফ হার্স্ট। সেবার খেতাব জিতেছিল ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপ ফাইনালে দলের খেলোয়াড় হ্যাটট্রিক করেও, দল জিততে না পারার ঘটনা এই প্রথম।

৪) বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে প্রি কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ফাইনাল পর্যন্ত প্রত্যেক খেলায় গোল করে নজির গড়েন লিওনেল মেসি। প্রি কোয়ার্টার ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে, কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে, সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে এবং ফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে রেকর্ড গড়লেন আর্জেন্টিনার এল এম টেন। বিশ্বকাপে প্রি কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার সূচনা হয়েছিল ১৯৮৬ মেক্সিকো বিশ্বকাপ থেকে।

৫) প্রথম মহিলা রেফারি হিসেবে পুরুষদের বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করে রেকর্ড গড়েন স্টেফানি ফ্র্যাপার্ট। গ্রুপ লিগে জার্মানি বনাম কোস্টারিকা ম্যাচটি পরিচালনা করেন ৩৮ বছরের এই ফরাসি রেফারি। পাশাপশি এই ম্যাচটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন পাঁচজন মহিলা অফিসিয়ালস। যা বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে প্রথমবার।

৬) আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলে মরক্কো। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যাওয়া পর্যন্ত মাত্র একটি গোল হজম করতে হয় ‘দ্য অ্যাটলাস লায়ন্সদের।’ আর সেই গোলটিও হয় আত্মঘাতী। বিশ্বকাপে গ্রুপ লিগে শক্তিশালী ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে ড্র, এরপর ইউরোপের তিন শক্তিধর দেশ বেলজিয়াম, স্পেন, পর্তুগালকে পরাস্ত করে মরক্কো। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে হারলেও দর্শকদের মন জিতে নেয় ওয়ালিদ রেগুরাইয়ের ছেলেরা।

৭) ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ রাখতে প্রায়শই পকেট থেকে হলুদ ও লাল কার্ড বার করতে হয় রেফারিদের। বিশ্বকাপের একটি ম্যাচে সর্বাধিক হলুদ কার্ড দেখিয়ে রেকর্ড গড়েন স্পেনিশ রেফারি অ্যান্টোনিও লোহজ। কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডস ম্যাচে মোট ১৮ বার হলুদ কার্ড দেখান তিনি। এর মধ্যে আর্জেন্টিনার ৮ জন ও নেদারল্যান্ডসের ৬ জন হলুদ কার্ড দেখেন। দুটি হলুদ কার্ড দেখায় মাঠ ছাড়তে হয় ডাচ ডিফেন্ডার দেঞ্জিল ডুমফ্রিসকে। হলুদ কার্ডের কোপ থেকে বাদ পড়েননি আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি ও সহকারি কোচ ওয়াল্টার স্যামুয়েলও।

৮) প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে পরপর পাঁচটি বিশ্বকাপে গোল করে নজির গড়েন পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো। গ্রুপ লিগে ঘনার বিরুদ্ধে পেনাল্টি থেকে গোল করেন সিআরসেভেন। কিন্তু এবারও বিশ্বকাপের স্বপ্ন অধরাই থেকে গিয়েছে পর্তুগালের কাছে। মরক্কোর কাছে ১-০ গোলে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়ছে সবুজ মেরুন ব্রিগেডকে।

About Post Author