Home » জয় শ্রী রাম স্লোগানে ক্ষুব্ধ মমতা’ সরব দিলীপ ঘোষ

জয় শ্রী রাম স্লোগানে ক্ষুব্ধ মমতা’ সরব দিলীপ ঘোষ

সময় কলকাতা ডেস্কঃ শুক্রবার হাওড়া স্টেশনে বন্দে ভারত উদ্বোধনের সময় মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে জয় শ্রীরাম স্লোগান দিতে থাকেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। তারপরেই উদ্বোধনী মঞ্চে উঠতে রাজি হননি মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আচরণ নিয়ে সরব বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ। মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ শানিয়ে মেদিনীপুরের সাংসদ বলেন, উনি নাম, বদনামের ধার ধারেন না। টাকার থলি নিয়ে রাজ্যে রাজ্যে ঘোরেন। কিন্তু কিছু করতে পারেন না। কারণ ওনার এই আচরণ। আমাদের দেশে বন্দে মাতরম বলতে আইনি বাধা নেই। জয় শ্রীরাম বলতেও বাধা নেই। উনি ক্ষেপে যাচ্ছেন কেন? ওনার রাজনীতিটাই নেগেটিভ পলিটিকস। শুধু নাটক। একইসঙ্গে পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল বলেন,’মুখ্যমন্ত্রী শুধু ছুতো খোঁজেন। জয়শ্রী রাম তো ভগবানের নাম। জয়বাংলা বললে যদি অসুবিধা না হয়, তাহলে জয়শ্রীরামে কি সমস্যা। ’

প্রসঙ্গত,ঠিক এমনই এক ঘটনা ঘটেছিল একুশের জানুয়ারিতেও। সেবারও প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে দেশনায়ক সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তীতে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেবার মমতা বক্তৃতা করতে ওঠার পর জয় শ্রীরাম স্লোগান দেন অনেকে। ক্ষোভে বক্তৃতা থামিয়ে নেমে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হাওড়ায় রেলের অনুষ্ঠানেও। স্লোগান চলাকালীন রেলমন্ত্রী এবং সাংসদরা বারবার ভিড়ের উদ্দেশ্যে চুপ করার অনুরোধ করলেও সেই স্লোগান থামে নি। শেষমেশ রেলমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রীকে মঞ্চে ওঠার অনুরোধ করেন। তবে, মঞ্চেই ওঠেননি প্রশাসনিক প্রধান। পরে গিয়ে রাজ্যপালকে সম্পূর্ণ ঘটনার বিবরণ দেন তিনি।
এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ভিক্টোরিয়ার মতোই এটাও দলীয় কর্মসূচি ছিল না। ছিল প্রশাসনিক অনুষ্ঠান। তবে, এই অনুষ্ঠানে এতজন দলীয় কর্মী কিভাবে হাজির হয়ে গেলেন? প্রশ্ন উঠছে, কেন এই অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক স্লোগান উঠে এল? এমনকী, বারবার রেলমন্ত্রী এবং সাংসদরা বারবার ভিড়ের উদ্দেশ্যে চুপ করার অনুরোধ করলেও, তা একপ্রকার এড়িয়ে গিয়েছেন দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি কর্মীরা লাগামছাড়া হয়ে পড়েছেন? নাকি, সম্পূর্ণটাই বিজেপির কৌশল? এই অভিযোগকেই হাতিয়ার করে মাঠে নেমেছে তৃণমূল। এটা অসভ্যতা ছাড়া কিছুই নয়। সরব তৃণমূলের রাজ্য মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে বিজেপি যে পুরোমাত্রায় দলের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে উঠে পড়ে লেগেছে, তা বৃহস্পতিবারই বোঝা গিয়েছিল। সরকারি অনুষ্ঠানের আয়োজন দেখভাল করতে হাওড়া স্টেশনে সদলবলে গিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও। যদিও, এই ইস্যুতে সরব বাংলার শাসকদল।

About Post Author