সময় কলকাতা ডেস্ক,৫ জানুয়ারিঃ কেন্দ্রীয় বঞ্চনা শব্দটির সঙ্গে বহু দিনের পরিচয় বাংলার। ৩৪ বছরের বাম আমল থেকেই এই শব্দবন্ধ আউরে চলেছেন বাংলার রাজনীতিকরা। কিন্তু সত্যিই কী বাংলার উপর বিরাগ কেন্দ্রীয় সরকার?প্রশ্ন উঠছে নানান স্তরে।
সংসদীয় গণতন্ত্রের রীতি ও নীতি মেনে চলা কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্পর্কে বয়ে চলেছে নানান খাতে। তারপরও দেখা যায় একশ দিনের প্রকল্প থেকে শুরু করে মিড ডে মিল প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, গ্রামীণ এলাকায় প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা এমনকি পরিশ্রুত পানীয় জল প্রকল্প এবং গৃহ বিদ্যুতায়নের ক্ষেত্রে যে সকল প্রকল্প গুলো রয়েছে তার বেশিরভাগটাই কেন্দ্র রাজ্য যৌথ প্রকল্প। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রকল্পের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ব্যয় বহন করে কেন্দ্র আর ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ব্যয় বহন করে রাজ্য সরকার। বর্তমানে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বাস্তবায়ন একটি রাজনৈতিক ইস্যু।
শাসক ও বিরোধী দুজনেই জন দরদি বলে দাবি করলেও বঞ্চিত হচ্ছেন সেই উপভোক্তারা? কেন এই প্রশ্ন উঠছে? কেন্দ্রীয় সরকার অনিয়মের অভিযোগে রাজ্যের বরাদ্দ অর্থ বহু প্রকল্পে আটকে রেখেছে। নিয়ম করে রাজ্যের বিরোধীদল বিজেপির নেতারা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে আসছেন কেন্দ্রের কাছে।আর তার জেরেই নিত্য নতুন নিয়মের প্যাচ কলে রাজ্য পাচ্ছে না কেন্দ্রের বরাদ্দ অর্থ। তাতে বঞ্চিত হচ্ছে রাজ্যবাসী। প্রকৃত উপভোক্তা কাজ করেও একশো দিনের মুজুরি পাচ্ছেন না। প্রশ্ন প্রকৃত উপভোক্তাদের বাছেন রাজ্য প্রশাসনের কর্মী ও আমলারা। কিন্তু, সেই কাজ তারা দক্ষতার সঙ্গে না করার জেরেই বাড়ছে দূর্নীতির অভিযোগ। আর বঞ্চিত হচ্ছেন রাজ্যের সাধারণ মানুষ। প্রশ্ন এই বঞ্চনার দায় কার? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে শাসক দলের সব নেতারাই কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে সোচ্চার বহু দিন ধরে। আবার রাজ্যের বিরোধী দল ও তাদের নেতা শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু সুকান্ত মজুমদারের দাবি, রাজ্যের মানুষ কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হক তা তাঁরা চান না। তার চান, স্বচ্ছ ভাবে কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়িত হোক রাজ্যে।
শুধুই কী শাসকের দায়? কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা মাইনে নেওয়া প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের দায়বদ্ধতা থাকবে না? নির্ভুল তালিকা কিংবা উপভোক্তা খুঁজে বেড় করার দায় কি তাদের উপর বর্তায় না? আর আমলা থেকে সরকারি কর্মীরা যাতে নিয়মের মধ্যে নির্ভুলভাবে কাজ করতে পারে, তার ব্যবস্থাই বা আইনপ্রণেতারা করবেন না কেন ?


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
মোদি ও বিজেপিকে খোঁচা : আগাম জামিন পেলেন নিয়ে নেহা সিং রাঠোর