Home » মানিকের স্ত্রী-পুত্রকে জেল হেফাজতে পাঠানোর আর্জি ইডি-র

মানিকের স্ত্রী-পুত্রকে জেল হেফাজতে পাঠানোর আর্জি ইডি-র

সময় কলকাতা ডেস্ক,৮ জানুয়ারিঃ নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নয়া মোড়। এবার প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যের স্ত্রী শতরূপা ভট্টাচার্য ও ছেলে সৌভিক ভট্টাচার্যকে জেল হেফাজতে পাঠানোর আর্জি আদালতে জানাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। একইসঙ্গে মানিক ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠ তাপস মণ্ডলকেও জেলে পাঠানোর আর্জি জানাল ইডি। শনিবার ইডি-র তরফে আদালতের কাছে তিনজনের জন্যই জেল হেফাজতের আর্জি জানানো হয়। যদিও বিচারক তদন্তকারী আধিকারিকদের লিখিত ভাবে আর্জি জানানোর কথা বলেছেন। এদিকে,৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধৃত প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, শনিবারই ব্যাঙ্কশাল কোর্টে এসে আত্মসমর্পণ করেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যের স্ত্রী শতরূপা ভট্টাচার্য ও ছেলে সৌভিক ভট্টাচার্য। একইসঙ্গে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে এসে আত্মসমর্পণ করেছিলেন মানিক ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠ তাপস মণ্ডলও।

মানিক ভট্টাচার্যের গ্রেফতারির পরই উঠে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। কিছুদিন আগেই প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত মানিক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা ইডির। কলকাতায় এমপি-এমএলএ আদালতে ১৫৯ পাতারও বেশি চার্জশিট জমা দেয় ইডির তদন্তকারী অফিসাররা। গ্রেফতারির ৫৭ দিনের মাথায় মানিকের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেয় ইডি। সূত্রের খবর চার্জশিটে মানিককেই মূল চক্রী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। চার্জশিটে নাম রয়েছে মানিকের স্ত্রী ও ছেলেরও। চার্জশিটে ইডি জানিয়েছে, মানিক ভট্টাচার্য অফলাইন রেজিস্ট্রেশন, অনলাইন ক্লাস ও ডিএলএড প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশনের নামে কোটি কোটি টাকার প্রতারণা করেছেন। পেশ করা হয় সাক্ষীদের বয়ানও।

অন্যদিকে ইডি-র দেওয়া সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে নাম ছিল তাপস মণ্ডলেরও। নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেমে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে কামাখ্যা মন্দিরের কাছে মানিক ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠ একটি টিচার্স ট্রেনিং সেটারের কর্ণধার তাপস মণ্ডলের বাড়িতে হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের একটি বড় দল। প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে তাপস মণ্ডল প্রত্যক্ষ ভাবে যুক্ত রয়েছে বলেই ইডি সূত্রের খবর। জানা গিয়েছিল,মানিক ভট্টাচার্যকে জেরা করে তাঁর বাড়ি থেকে যেসব কাগজপত্র উদ্ধার হয়েছে তা থেকেই এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে। তবে শুধু এই ট্রেনিং সেন্টারই নয়,এরকমই বেশ কয়েকটি ট্রেনিং সেন্টার নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল। এই সব ট্রেনিং সেন্টারই মিডলম্যানের কাজ করত।

উল্লেখ্য, টেট দুর্নীতি মামলায় নাম জড়িয়েছিল মানিক ভট্টাচার্যের। প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যকে বেশ কিছু নথি জমা দিতে বলেছিল আদালত। সেই মামলার শুনানিতে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘মানিক ভট্টাচার্য যে নথি জমা করেছে তা ভুয়ো। মানিকবাবুর কাছে ২০১৭ সালের নথি চাওয়া হয়েছিল। উনি ২০২২ সালে ভুয়ো নথি বানিয়ে আদালতে পেশ করেছেন।’ এরপরই অবিলম্বে মানিকবাবুকে প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি পদ থেকে অপসারণের নির্দেশ দেন তিনি।

About Post Author