Home » ওএমআর শিটেই গুপ্ত সঙ্কেত, দাবি ইডির

ওএমআর শিটেই গুপ্ত সঙ্কেত, দাবি ইডির

সময় কলকাতা ডেস্ক,১০ ফেব্রুয়ারিঃ ২০১২ এবং ২০১৪ সালের প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় ওএমআর শিট ব্যবহার করেই যাবতীয় দুর্নীতি হয়েছে। আর তাতে যুক্ত ছিলেন পর্ষদের তৎকালীন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য এবং হুগলির তৃণমূল যুবনেতা কুন্তল ঘোষ। নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডের তদন্তে এমনটাই দাবি করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি।

এদিন ইডির আধিকারিকরা দাবি করেন,ফাঁকা ওএমআর শিটেই হত চাকরি। লক্ষ লক্ষ ওএমআর শিটকে কাজে লাগিয়ে নিয়োগের জন্যে অযোগ্য চাকরিপ্রার্থীদেরও বেছে নেওয়া হত। এক্ষেত্রে,কাদের ওএমআর শিট আলাদা করে রাখতে হবে,তাঁর জন্য পরীক্ষার্থীদের ওএমআর শিটে নির্দিষ্ট দুটি প্রশ্নেরই উত্তর দিতে হত। একইসঙ্গে এদিন ইডি জানান, পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও মানিক ভট্টাচার্য দুজনেই বেসরকারি ডিএলএড, বিএড কলেজগুলিকে ছাড়পত্র এবং এনওসি সার্টিফিকেট দিতে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলেছেন। প্রতি কলেজ পিছু পার্থ পেতেন ৬ থেকে ৮ লক্ষ টাকা। আর মানিক পেতেন ২ থেকে ৫ লক্ষ টাকা।


যদিও ইডির তরফে আরও দাবি করা হয়েছে, ১৩০ জন চাকরিপ্রার্থীর প্রত্যেকের থেকে ৮ লক্ষ টাকা করে নিয়েছিলেন কুন্তল ঘোষ। চাকরি বিক্রির নামে ১০ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা ও অন্যান্য প্রতিশ্রুতি দিয়ে, ১২০০ চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা করে নিয়ে নিয়েছিলেন কুন্তল। অর্পিতার ফ্ল্যাটে পাওয়া ৫০ কোটির মধ্যে ছিল কুন্তলের টাকাও। নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডের তদন্তে এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করল ইডি। শুধু তাই নয়, কুন্তলের বাড়ি থেকে গত বছরের ডিসেম্বরের টেটের ২৫০ ওএমআর শিট পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।


প্রসঙ্গত, মধ্য শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠ তাপস মণ্ডলকে জেরা করতেই হুগলির তৃণমূল যুবনেতা কুন্তল ঘোষের নাম উঠে আসে। বেআইনিভাবে শিক্ষক নিয়োগের নাম করে চাকরিপ্রার্থীদের থেকে ১৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে হুগলির যুব তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষের বিরুদ্ধে। সূত্রের খবর, তাপস মণ্ডল ইডি আধিকারিকদের জানিয়েছেন, ৩২৫ জন শিক্ষক পদপ্রার্থীর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ১৯ কোটি টাকা নিয়েছেন কুন্তল ঘোষ। মোট ২৬০০ চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে তুলেছেন তিনি। এই সংক্রান্ত একাধিক নথিও তাঁর কাছে রয়েছে বলে দাবি করেছেন তাপস। একইসঙ্গে মানিক ভট্টাচার্য ঘনিষ্ঠ তাপস মণ্ডল জানান, কুন্তল শুধু প্রাথমিকের চাকরিপ্রার্থীদের থেকে টাকাই তোলেননি, উচ্চপ্রাথমিক,সংগঠক শিক্ষক পদে চাকরি দিতেও টাকা তুলেছেন।

About Post Author