Home » ঝালদা পুরসভার দায়িত্বে শীলা চট্টোপাধ্যায়, নির্দেশ হাই কোর্টের

ঝালদা পুরসভার দায়িত্বে শীলা চট্টোপাধ্যায়, নির্দেশ হাই কোর্টের

সময় কলকাতা ডেস্ক,১০ ফেব্রুয়ারিঃ ঝালদা পুরসভা নিয়ে ফের ধাক্কা রাজ্যের। বৃহস্পতিবার ঝালদা পুরসভা সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে কলকাতা হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ই বহাল রাখল ডিভিশন বেঞ্চ। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত শীলা চট্টোপাধ্যায়ই ঝালদা পুরসভার চেয়ারম্যান পদে থাকবেন, এমনটাই  নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তাঁকে অপসারিত করা যাবে না। যদিও এর আগে হাই কোর্ট রায়ে জানিয়েছিল, ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঝালদা পুরসভার উপ-প্রধান শীলা চট্টোপাধ্যায় পুরপ্রধানের দায়িত্ব সামলাবেন। তারই মাঝে বৃহস্পতিবার শুনানিতে ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ই বহাল রাখল। এর আগে মহকুমাশাসক শীলা চট্টোপাধ্যায়ের কাউন্সিলর পদ খারিজের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপরই রাজ্যের তরফে অস্থায়ী চেয়ারম্যান হিসাবে সুদীপ কর্মকারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ঝালদা পুরসভা নিয়ে জট দীর্ঘদিনের।গত ১৯ জানুয়ারি দলবিরোধী কাজের অভিযোগে শীলা চট্টোপাধ্যায়ের কাউন্সিলর পদ খারিজ করেন ঝালদার মহকুমা শাসক ঋতম ঝা। আর তার এক ঘণ্টার মধ্যেই সুদীপ কর্মকারকে নয়া পুরপ্রধান হিসাবে ঘোষণা করে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। দায়িত্ব নেওয়ার দু’দিনের মধ্যে এই পরিস্থিতিতে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। মামলার শুনানিতে বিচারপতি অমৃতা সিনহা সওয়াল-জবাব শোনার পর শীলা চট্টোপাধ্যায়ের কাউন্সিলর পদ খারিজ সংক্রান্ত মহকুমা শাসকের নির্দেশে স্থগিতাদেশ জারি করেন। পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণিমা কান্দুকে পুরপ্রধান হিসাবে দায়িত্ব সামলানোর নির্দেশ দেয় কলকাতা হাই কোর্ট। কিন্তু সিঙ্গল বেঞ্চের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায় রাজ্য সরকার। সেই মামলারই শুনানি হল বৃহস্পতিবার। তাতে ফের রাজ্য সরকার ধাক্কা খেল।


উল্লেখ্য, ঝালদায় পুরসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দেখা গিয়েছিল ত্রিশঙ্কু ফলাফল হয়। পরে নির্দলের সমর্থন নিয়ে বোর্ড গড়ে তৃণমূল। এরমধ্যেই খুন হয়ে যান কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দু। সেই তদন্ত এখনও চলছে। এর আগে নভেম্বরে ঝালদায় নির্দলে জিতে তৃণমূলে যাওয়া এক কাউন্সিলর শাসকদল ছাড়ার কথা ঘোষণা করার পরেই সংখ্যা সঙ্কট তৈরি হয়। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে গত ২ ডিসেম্বর একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সেই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জবা মাছুয়াকে ঝালদা পুরসভার চেয়ারম্যান করার কথা। তা খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট।


এরপর হাইকোর্টের নির্দেশ মতো ১৬ জানুয়ারি ঝালদার পুরপ্রধান নির্বাচনের দিন ধার্য করা হয়েছিল। সেখানে ১২ আসনের পুরসভায় ৭-০ ব্যবিধানে জেতেন কংগ্রেসের শীলা চট্টোপাধ্যায়। শীলা চট্টোপাধ্যায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যে তাঁর কাউন্সিলর পদ খারিজ করে নোটিস জারি করেন স্থানীয় মহকুমা শাসক। এমনকী তাঁকে চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল কংগ্রেস।

About Post Author