Home » তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জের? জগদ্দলে গ্রেফতার অর্জুন সিংয়ের ভাইপো!

তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জের? জগদ্দলে গ্রেফতার অর্জুন সিংয়ের ভাইপো!

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৭ ফেব্রুয়ারি: বিগত পাঁচদিন ধরে শ্যামনগরে এক্সাইড ব্যাটারি কারখানায় দুই শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে গোলমাল চলছিল। সেই গোলমালের জেরে এবার গ্রেফতার হলেন ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিংয়ের ভাইপো সঞ্জয় সিং। তিনি ওই ব্যাটারি কারখানার একটি শ্রমিক সংগঠনের ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট। উল্লেখ্য, এর আগে এই ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করেছিল জগদ্দল থানার পুলিশ। এবার সঞ্জয় সিং-সহ চারজনকে গ্রেফতার করা হল। সঞ্জয় সিংয়ের গ্রেফতারির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উত্তেজনা শ্যামনগর ও জগদ্দল এলাকায়। বৃহস্পতিবার রাতেই ঘেরাও করা হয় জগদ্দল থানা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সোমবার শ্যামনগরের আতপুর এলাকায় ব্যাটারি কারখানায় স্থায়ী মজদুর মোর্চা ইউনিয়ন অফিসের উদ্বোধন হয়। কিন্তু অভিযোগ ওঠে ওই অফিসটি আদতে এক চিকিৎসকের চেম্বার। সেটি দখল করে মজদুর মোর্চার অফিস তৈরি করেছে। অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। বৃহস্পতিবার রাতেই মজদুর মোর্চার কার্যকরী সভাপতি সঞ্জয় সিংকে আটক করা হয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। সেই সঙ্গে আরও ৩ জনকে আটক করা হয়।

এরপর গভীর রাতে তাদের গ্রেফতার করেছে জগদ্দল থানার পুলিশ। এরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। জগদ্দল থানার সামনে ঘোষপাড়া রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় সঞ্জয় সিং গোষ্ঠীর সমর্থকরা। পরে সাংসদ অর্জুন সিংয়ের হস্তক্ষেপে অবরোধ ওঠে। শুক্রবার আদালতে তোলা হবে অর্জুন সিংয়ের ভাইপোকে। স্থানীয়দের দাবি, এই ঘটনা তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর লড়াই। জগদ্দলের বিধায়ক সোমনাথ শ্যামের নিয়ন্ত্রণাধীন মজদুর ইউনিয়ন এবং অর্জুন সিং ঘনিষ্ট ইউনিয়নের মধ্যে বিবাদ দীর্ঘদিনের। বৃহস্পতিবার রাতে তা চরমে ওঠে। গোটা ঘটনায় ওই কারখানার উৎপাদন লাটে উঠেছে। কারখানায় রয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী। যদিও গোটা ঘটনা নিয়ে ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং এখনও মুখ খোলেননি। উল্লেখ্য, বিজেপির টিকিটে জিতে সাংসদ হলেও সম্প্রতি তৃণমূলে ফিরেছেন অর্জুন। এরপর থেকেই জগদ্দল-ভাটপাড়া এলাকায় তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল চরমে উঠেছে বলে অভিযোগ।

About Post Author