Home » ফেন্সিং-এর কোনি অরিঞ্জিতা

ফেন্সিং-এর কোনি অরিঞ্জিতা

সময় কলকাতা স্পোর্টস ডেস্ক :

ফেন্সিংএর কথা বললেই তরবারি বা তরোয়ালের ঝলক মনে পড়ে। ফেন্সিং প্রথম অলিম্পিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ খেলা। আর অলিম্পিকে ফেন্সিং এর ভারতের মুখ হয়ে উঠতে অরিঞ্জিতা তার লড়াই শুরু করেছে । তরোয়াল হাতে ফেন্সিং এর লড়াইয়ে অরিঞ্জিতার যুদ্ধের কথা বললে কোনির কথা মনে পড়তে বাধ্য।দু হাতে,জল সরিয়ে সাঁতরে এগিয়ে চলেছে কোনি। পুলের পাড়ে দাঁড়িয়ে ক্ষিদ্দা ছোট্ট লড়াকু মেয়েটিকে বলে চলেছেন, “ফাইট কোনি ফাইট “….. ঠিক সেভাবেই ক্ষিদ্দার মত লড়ছেন বারাসাতের এক স্নেহ ব্যাকুল পিতা, তাঁর কন্যার সাঁতার যাবতীয় প্রতিকূলতাকে হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে চলার। মেয়েটির নাম অরিঞ্জিতা।

১৩ বছরের অরিঞ্জিতা একের পর এক প্রতিকূলতা জয় করে চলেছে অলিম্পিকে দেশের মুখ উজ্জ্বল করার লক্ষ্যে। পড়াশোনার পাশাপাশি সে মূলত খেলাতেই চোখ রেখেছে দেশের গৌরবের জন্য।ফেন্সিং আর এখানেই ক্ষিদ্দার মত তাঁর পাশে এসে বটগাছের ছায়া দিচ্ছেন খুদে অরিঞ্জিতার পিতা অরিন্দম দে। কোনোরকম আর্থিক সহযোগিতা নেই, অনুদান নেই,তবুও মেয়ের সাফল্য আনতে মরিয়া তিনি।

অরিঞ্জিতার লড়াইয়ের কাহিনীর পরতে পরতে প্রতিকূলতার বাধানিষেধ। ক্যারাটে প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ স্তরের পদক এনেছিল অরিঞ্জিতা। কিন্তু ক্যারাটে খেলে অলিম্পিকে যাওয়ার স্বপ্ন দেখা সম্ভব নয়, কারণ ক্যারাটে অলিম্পিকের ক্রীড়া তালিকায় নেই। ফলে স্বপ্ন দেখার চোখ দিয়ে অলিম্পিকে পাখির চোখ রেখে ফেন্সিং এর রিংয়ে নেমে পড়ে অরিঞ্জিতা। খেলার নিয়মাবলী খুবই দুর্বোধ্য। অরিঞ্জিতা নিয়ম কানুন আত্মস্থ করার পাশাপাশি নিজেকে ডুবিয়ে রেখেছে কঠোর সাধনায়।

রবার্ট ব্রুস বারবার হেরেও মাকড়সার প্রচেষ্টা দেখে উজ্জীবিত হয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সাফল্য তাঁর মুঠোয় এসেছিল।  অরিঞ্জিতার মাতামহ বলছেন, রবার্ট ব্রুসের মত লড়াই জারি রাখলে সাফল্য আসতে বাধ্য।

অরিঞ্জিতা হার মানতে জানে না। সে তার বাবার স্নেহের পরশে আরও লড়াই, আরও ফাইট দিতে বদ্ধপরিকর। ফেন্সিং-এ রাজ্যে সর্বোচ্চ স্তরের অনূর্ধ্ব ১৭ প্রতিযোগিতা জিতে পরবর্তী ধাপে ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যেতে চায়। অরিন্দম দে বলছেন,কোনির মত ক্ষিদ্দার মতই তাঁরা এগিয়ে যেতে পণ করেছেন। আর্থিক ভাবে প্রতিকূলতা তাঁদের প্রায় বিবশ করে রেখেছে। তবুও অসম্ভব এই লড়াইকে সফল করার চেষ্টা অরিঞ্জিতার। ক্ষিদ্দার মত পাশে রয়েছেন পিতা অরিন্দম দে।

সাফল্যের দিকে চোখ রেখে অলিম্পিককে পাখির যোগ করে লড়ছে একটি ছোট্ট মেয়ে। এক পিতা তার সবকিছু উজাড় করে মেয়ের পাশে থেকে লড়াইয়ের মন্ত্রে দীক্ষিত করে চলেছেন। বারাসাতের কন্যা অরিঞ্জিতা -পিতা অরিন্দমের সংগ্রাম যেকোনো ক্ষেত্রের সংগ্রামী মানুষের কাছে আদর্শ।

About Post Author