পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা,২৬ জানুয়ারি :
সময়টা ১৯৪৭ সাল।ভারত অস্ট্রেলিয়ার খেলা চলছে। অস্ট্রেলিয়ার বিল ব্রাউনকে আশ্চর্য ভাবে আউট করেছিলেন ভিনু মানকাড়। বিল ব্রাউন নন স্ট্রাইকার এন্ডে পপিং ক্রিজ ছেড়ে বেরোতেই বোলার ভিনু রান আউট করে দেন ব্রাউনকে। হইচই পড়ে যায়। টেস্টে সেই প্রথম এমন রান আউট। ৭৫ বছরেও এভাবে হওয়া রান আউট জট কেটেও যেন কাটে না। বিতর্ক যেন থেকেই যায়।

উল্লেখ্য, গতবছর মার্চ মাসের শুরুতেই মানকাডিংকে ‘আনফেয়ার প্লে’ থেকে বের করে আইনের ৩৮ নম্বর ধারায় লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। অতঃপর ২০২২ সালের ১ অক্টোবর থেকে বোলার কর্তৃক বোলিং করার মুহূর্তে ননস্ট্রাইকারকে রান আউটকে নিয়ম করে বৈধতা দিয়েছে আই সি সি। বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন আইসিসির ক্রিকেট কমিটির সুপারিশ মেনে এই নতুুন নিয়ম কার্যকর করা হয়েছিল । ফলে নন স্ট্রাইকার ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে গেলে বোলার তাঁকে আউট করতেই পারেন এবং নিয়মের মাধ্যমে এই রান আউট বৈধ।বোলার বোলিং অ্যাকশন শেষ করার আগেই নন স্ট্রাইকার যদি পপিং ক্রিজ ছেড়ে যান, তা হলে স্ট্যাম্প ভেঙে দিয়ে তাঁকে রানআউট করা হলে বলা হয় মানকাডিং।বলাইবাহুল্য, ব্রাউনকে রান আউট করার ঐতিহাসিক ঘটনার কারণে ভিনু মানকাডের নামানুসারে এই নাম দেওয়া হয়েছে।কিন্তু ৭৫ বছর ধরে এভাবে কোনও ব্যাটসম্যান আউট হলেই বিতর্ক খাড়া হয়েছে। ভদ্রলোকের খেলা ক্রিকেট এবং ক্রিকেট খেলার স্পিরিটের ক্ষতি করছে বোলারদের এভাবে ব্যাটসম্যানকে আউট করার বিষয়টি – এধরণের ছুৎমার্গ থেকেই যাচ্ছিল। রক্ষণশীল ঐতিহ্য বোধ যেন এই নিয়ম মেনে নিচ্ছিল না।এবার ঐতিহ্যবাহী এম সি সি এই নিয়মে সরাসরি বোলারদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) একটি বৈঠক করে বোলারদের পাশেই নিজেদের অবস্থান ঘোষণা করেছে ।

এবার মনে করা হচ্ছে ক্রিকেটের স্পিরিটের উল্লেখ করে কেউ এখন মহম্মদ শামি,রবিচন্দ্রন অশ্বিন বা দীপ্তি শর্মাদের অহেতুক খোঁচা দেবে বলেও মনে হয় না।গত সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ড ও ভারতের মধ্যে ম্যাচ চলাকালীন ৪৪তম ওভারে ভারতের অলরাউন্ডার দীপ্তি শর্মা ইংল্যান্ডের চার্লি ডিনকে মানকাডিং করে আউট করেন। ১৭০ রানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ডিন তার দলকে জেতানোর উদ্দেশ্যে ৮০ বলে ৪৭ রানে ব্যাট করছিলেন। সেই সময় মানকাডিংয়ে আউট হন তিনি। ভারত ১৬ রানে ম্যাচ জিতে নেয়।এবছরের গোড়ায় দেশের মাটিতে প্রথম একদিনের ম্যাচের একেবারে শেষ ওভারে দাসুন শনাকাকে ‘মানকাডিং’ করেন মহম্মদ শামি সেই সময় শনাকা ব্যাট করছিলেন ৯৮ রানে। দলের পরাজয় নিশ্চিত জেনেও কার্যত একার হাতে দেশের সম্মানরক্ষার জন্য লড়ে যাচ্ছিলেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক। সেই সময় স্ট্রাইকে ছিলেন কাসুন রাজিথা। নন স্ট্রাইকিং প্রান্তে দাঁড়িয়ে স্ট্রাইক পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে গিয়েছিলেন শনাকা। ঠিক সেসময় তাঁকে ‘মানকাডিং’ করে দেন শামি। কিন্তু সেটা হতে দেননি রোহিত। ভারতীয় অধিনায়ক আবেদন প্রত্যাহার করে নেন। এবং দিয়েছিলেন ‘স্পোর্টসম্যান স্পিরিট’-এর পরিচয়। সেসময় ভারতীয় স্পিনার অশ্বিন বলেছিলেন শনাকা-কে আউট বা নট আউট করার সিদ্ধান্ত আম্পায়ারের। তিনি নিজেও একাধিক এরকম আউট করেছেন।

গত বছর খানেক ধরেই ধীরে ধীরে ক্রিকেটের স্পিরিট নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ থাকছে না মানকাডিং বা বোলারের করা রান আউট ঘিরে ।এবার এমসিসির অবস্থান হয়ে উঠেছে তাৎপর্যপূর্ণ।এই প্রসঙ্গে এমসিসি ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান মাইক গ্যাটিং জানিয়েছেন,“এই বিষয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। ব্যাটাসম্যানরা যদি এই পদ্ধতিতে আউট হতে না চান, তবে তাদের অবশ্যই নিয়ম মেনে চলা উচিত। তা সত্ত্বেও তারা যদি এটা করে, তবে তাদের সতর্ক করা হবে, এমনটা আশা করা উচিত নয়।”ফলে সব পর্যায়ের ক্রিকেটে মানকাডিং এবার বৈধ বলেই কার্যত ঐক্যমতে পৌছনোর দিন এসে গিয়েছে ।।


More Stories
সুভদ্র কেন উইলিয়ামসনের আচমকা অবসর
আপনার ভুলে যাওয়া টাকা কি পড়ে আছে কোথাও? এখনই খুঁজে নিন — সরকারি পোর্টালে বিনামূল্যে!
FIFA Worldcup 2026 : কোরিয়ার চোরাগতিতে বিধ্বস্ত চেকিয়া