সময় কলকাতা স্পোর্টস ডেস্ক, ৬ মার্চ: একটি, দুটি নয় গুনে গুনে সাত-সাতটি গোল। রবিবারে ঘরের মাঠে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে সাত গোলের মালা পড়াল লিভারপুল। লিভারপুলের হয়ে এদিন জোড়া গোল করেন ডারউইন নুনেজ, কোডি গাকপো ও মহম্মদ সালাহ। ম্যাচের খুঁটি নাটি নিয়ে দেখে নেব সময় কলকাতার বিশেষ প্রতিবেদন।
এই মরশুমটা ভালো যাচ্ছিল না লিভারপুলের। লিগের তলার দিকে থাকা দলগুলির কাছে পয়েন্ট খোয়াতে হচ্ছিল জুর্গেন ক্লপের লিভারপুল। এমনকি লিভাপুলের হট সিটে ক্লপের টিকে থাকা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা বলেও দাবি করছিল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম। যদিও দীর্ঘ কয়েক দশক পর লিভারপুলকে একসঙ্গে প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতানো কোচের ওপরই আস্থা রেখেছিল ক্লাব কর্তৃপক্ষ। তাঁদের আস্থার মান রাখলেন জার্মান কোচ। রবিবার দুরন্ত ফর্মে থাকা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ঘরের মাঠে দুরমুশ করল ক্লপের প্রশিক্ষণাধীন লিভারপুল। এক দুই নয় একেবারে ৭-০ গোলে সদ্য ইংলিশ লিগ কাপ জয়ীদের হারিয়ে নয়া কীর্তি স্থাপন করলেন মহম্মদ সালাহ, ভার্জিল ভ্যান ডাইকরা। এদিন মূলত দুই অস্ত্রে চির প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাস্ত করলেন লিভারপুলের অভিজ্ঞ কোচ। প্রেসিং ফুটবলে বিপক্ষ রক্ষণকে চাপে রাখলেন। আর ইউনাইটেডের ফর্মে থাকা স্ট্রাইকার মার্কোস রাশফোর্ডকে নিরস্ত্র করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন ট্রেন্ট আর্নল্ডকে।

এদিন ম্যাচের শুরু থেকে গোলের সুযোগ তৈরি করলেও ইউনাইটেড বক্সে গিয়ে পথ হারাছিলেন নুনেজ, গাকপো, সালাহরা। এই মরশুমে একাধিক ম্যাচে গোলের সুযোগ নষ্টের খেসারত দিতে হয়েছে লিভাপুলকে। প্রথমার্ধে সেই প্রদর্শন ফের দেখা গেল। অপরদিকে প্রতি-আক্রমণে বেশ কয়েকবার লিভারপুলের বক্সে হানা দিয়েও সুবিধা করতে পারেনি ইউনাইটেড। প্রথমার্ধের ৪৩ মিনিটে প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে দেন লিভারপুলের ডাচ স্ট্রাইকার কোডি গাকপো। ফলে কিছুটা মানসিক শান্তি নিয়েই প্রথমার্ধের শেষে ড্রেসিংরুমে ফিরেছিল সালাহ-গাকপোরা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই অন্য লিভারপুলকে দেখা গেল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দলের হয়ে ব্যবধান বাড়ালেন উরুগুয়ের স্ট্রাইকার ডারউইন নুনেজ। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ইউনাইটেড। ম্যাচের ৫০ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল এবং দলের হয়ে তৃতীয় গোল করেন গাকপো। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে দলের হয়ে চতুর্থ গোলটি করেন মহম্মদ সালাহ। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে টানা ৬ ম্যাচে গোল করা প্রথম ফুটবলার হিসেবে নজির গড়লেন সালাহ। ৭৫ মিনিটে ব্যবধান ৫-০ করেন নুনেজ। ৮৩ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে দলকে ৬-০ গোলে এগিয়ে দেন ‘মিশরের মেসি’ মহম্মদ সালাহ। এই গোলের ফলে লিভারপুলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার নজির স্থাপন করলেন তিনি। ২০৫ ম্যাচ খেলে ১২৯ গোল করেছেন মিশরের এই উইঙ্গার।
ম্যাচের ৮৮ মিনিটে আবার গোল। এবার ব্যবধান ৭-০ করলেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার ফির্মিনহো। এদিন লাইভাপুলের বিধ্বংসী আক্রমণের কাছে কার্যত অসহায় আত্মসমর্পন করল ইউনাইটেডের রক্ষণ। এই হারে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ২৫ ম্যাচে ৪৯ পয়েন্টেই আটকে থাকল। তবে গোল পার্থক্য অনেকটাই পিছিয়ে গেল টেন হ্যাগের দল। লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনালের চেয়ে তারা পিছিয়ে ১৪ পয়েন্টে। এই জয়ের পর সম সংখ্যক ম্যাচ খেলে লিভারপুলের ৪২ পয়েন্ট হল।


More Stories
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে
কেকেআর-কে হারালেন, কে এই মুকুল চৌধুরী ?
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার