Home » সুপ্রিম কোর্টে ফের পিছিয়ে গেল ডিএ মামলার শুনানি

সুপ্রিম কোর্টে ফের পিছিয়ে গেল ডিএ মামলার শুনানি

সময় কলকাতা ডেস্ক,১৩ মার্চঃ সুপ্রিম কোর্টে ফের পিছিয়ে গেল ডিএ মামলার শুনানি। ১৫ মার্চের বদলে আগামী ২১ মার্চ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মামলার শুনানি হবে,এমনটাই জানিয়ে দিল হাইকোর্ট। শুক্রবারই সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, বিশেষ কিছু কারণে কয়েকটি মামলা ‘রিশিডিউল’ করতে হচ্ছে। তাতে ছিল বাংলার রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘভাতার মামলাও। গত ১০ মার্চ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একটা বড় অংশ ধর্মঘট পালন করেছেন। এরমধ্যেই রাজ্য সরকার বুঝিয়ে দিয়েছে, কেন্দ্রের থেকে বকেয়া পাওনা না পেলে আর ডিএ দেওয়া সম্ভব নয়। গত বছরই ৫ ডিসেম্বর প্রথম ডিএ মামলাটি শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্টে যায়। এমনকী শুনানির জন্য নতুন ডিভিশন বেঞ্চ গঠন করা হয়। এরপরই বিচারপতি হৃষীকেশ রায় এবং বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের নেতৃত্বে সেই মামলার শুনানির দিন পিছিয়ে ১৪ ডিসেম্বর করা হয়। সেসময় ডিএ মামলাটির শুনানি না হওয়ায় পরবর্তী শুনানির দিন ১৬ জানুয়ারি ঠিক হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা-ও হয়নি। রাজ্যের পেশ করা হলফনামায় ত্রুটি ছিল। ফলে ১৫ মার্চ শুনানির দিন স্থির করা হয়েছিল।


এদিকে,শনিবারি বকেয়া ডিএ চেয়ে সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলন প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন বাংলার রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। সবপক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসে দ্রুত সমস্যা সমাধানের পরামর্শ সি ভি আনন্দ বোসের। শনিবার একটি টুইট করে অনশন তুলে নেওয়ার আর্জি জানান তিনি। এদিন প্রথম টুইট বার্তায় রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস লেখেন,আন্দোলনকারীদের অনশন চার সপ্তাহ হয়ে গিয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল অনশনকারীদের জীবন। এই ঘটনায় রাজ্যপাল মর্মাহত। সমস্যা জটিল হলেও সহজভাবেই তার সমাধান সম্ভব। এই মুহূর্তে আমাদের ভাইদের জীবনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ আর কী হতে পারে!” একইসঙ্গে দ্বিতীয় টুইটে রাজ্যপাল লেখেন, “আন্দোলনকারী ভাইদের কাছে ভীষণই আবেগের বিষয় নিয়ে তাঁরা লড়াই করছে।”


উল্লেখ্য, গত চার সপ্তাহ ধরে মহার্ঘ্য ভাতা চেয়ে শহীদ মিনারের নীচে গত ৪৫ দিন ধরেই আন্দোলন করছে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একাংশ। সরকারি কর্মচারীদের যৌথ মঞ্চের দাবি, তাদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটাতেই হবে। এই দাবিতেই ধর্মঘটও করেছে তারা। পাল্টা রাজ্যের দাবি, কেন্দ্র রাজ্যের বকেয়া মেটাচ্ছে না। এমনবস্থায় বকেয়া ডিএ মেটানো সম্ভব নয়। এদিকে রাজ্য প্রশাসনের দাবি, শুক্রবার ধর্মঘটের জেরে রাজ্যে প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষক স্কুলে আসেননি। এই পাঁচ হাজার শিক্ষকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় স্কুল শিক্ষা দফতর। কেননা শুক্রবারের ধর্মঘট নিয়ে নবান্নের স্পষ্ট নির্দেশিকা ছিল, কেউ অনুপস্থিত থাকলেই তাঁর একদিনের বেতন কাটা হবে। যা নিয়ে পাল্টা হুমকিও দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন সরকার একদিনের বেতন কাটলেই তাঁরা আদালতের দারস্থ হবেন।

About Post Author