সময় কলকাতা স্পোর্টস ডেস্ক, ১৪ মার্চ: এক জয়ে দুই বাজি মারল এটিকে মোহনবাগান। গত বছর যে হায়দরাবাদ এফসির বিরুদ্ধে হেরে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল, এবার তাদেরই হারিয়ে মধুর প্রতিশোধ নেওয়া গেল। অপরদিকে এই মরশুমে আইএসএল ফাইনালে খেলার যোগ্যতাও অর্জন করে নিল সবুজ মেরুন ব্রিগেড।

সোমবার ঘরের মাঠ যুবভারতীতে আইএসএল সেমিফাইনালের দ্বিতীয় পর্বের ম্যাচে হায়দরাবাদ এফসির বিরুদ্ধে মাঠে নামে হুয়ান ফেরান্দোর ছেলেরা। প্রথম পর্বের ম্যাচ ০-০ ড্র হওয়ায় এদিন প্রীতম, শুভাশিসদের কিছুটা এগিয়েই রেখেছিলেন প্রাক্তন ফুটবলারা। তবে সেমিফাইনালের লড়াইটা মোটেও সহজ হল না শতাব্দী প্রাচীন ক্লাবের জন্য। ম্যাচের দুই অর্ধে একাধিক গোলের সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় দুই দলই। ম্যাচের নির্ধারিত সময় এবং অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে ১২০ মিনিটে কোনও গোল হল না। তাই ম্যাচ গড়াল টাইব্রেকারে।

এদিন সবুজ মেরুন তিন কাঠির নিচে অপ্রতিরোধ্য ছিলেন বিশাল কাইথ। যাকে মোহন জনতা ভালোবেসে নাম দিয়েছেন ‘দ্য ফ্লায়িং কাইট’ বা ‘উড়ন্ত ঘুড়ি’। ৫৩ হাজার সমর্থকের যুবভারতী দেখল নিজেকে কোন উচ্চতায় নিয়ে গেলেন বিশাল। হলিচরণ, ওগবেচেদের একের পর এক গোলমুখী শট জমা পড়ল শিমলার বছর ২৬ এর ছেলেটির বিশ্বস্ত গ্লাভসে। টাইব্রেকারে অনুমান শক্তিকে কাজে লাগিয়ে হায়দরাবাদের হাভিয়ের সিভেরিয়োর শট বাঁচান বিশাল। টাইব্রেকারের তৃতীয় শটটি পোস্টে মারেন হায়দরাবাদের নির্ভরযোগ্য ফরওয়ার্ড ওগবেচে। এটিকে মোহনবাগানের হয়ে হ্যামিল পেনাল্টি মিস করলেও বাকিরা গোল করতে ভুল করেন নি। শেষ শটে বল জালে জড়িয়ে ‘ভিক্ট্রি ল্যাপ’ শুরু করেন মোহন বাগান অধিনায়ক প্রীতম কোটাল।

ম্যাচ শেষে ম্যাচের নায়ক বিশাল কাইথ জয়ের জন্য কৃতিত্ব দিলেন মোহনবাগানের গোলরক্ষক কোচ আঙ্খেল পিনদাদোকে। তিনি বলেন, ‘‘বিপক্ষের কোন ফুটবলার কী ভাবে পেনাল্টি মারবে সেই পরামর্শ দিয়েছিলেন পিনদাদো। ওঁর পরামর্শেই টাইব্রেকারে আমার কাজটা সহজ করে দেয়।’’ অপরদিকে ম্যাচ শেষে গতবারের চ্যাম্পিয়ন হায়দরাবাদ এফসির কোচ মনোলো মার্কোজ ম্যাচে হারার পিছনে ক্লান্তিকেই দায়ী করলেন। আগামী শনিবার গোয়ার ফতরদা স্টেডিয়ামে আইএসএলের মেগা ফাইনালে বেঙ্গালুরু এফসির মুখোমুখি হবে এটিকে মোহনবাগান। এখন গোয়া থেকে প্রথম আইএসএল ট্রফিটা কলকাতায় আসে কিনা সেদিকেই তাকিয়ে মোহন সমর্থকরা।


More Stories
পাকিস্তান বধ, সমতায় অজিবাহিনী
গ্রেফতারির ভয়ে আগাম জামিনের আবেদন অরূপ বিশ্বাসের
ইউনিটি কাপ থেকে শূন্য হাতে ফিরছে ভারত