সময় কলকাতা ডেস্ক,৪ এপ্রিলঃ ফের অশান্ত রিষড়া। রাতে ৩ ঘণ্টা বিপর্যস্ত হাওড়ার ট্রেন। মধ্যরাত পর্যন্ত দুর্ভোগের শিকার যাত্রীরা। হুগলির রিষড়া স্টেশনের কাছে সোমবার রাতে অশান্তির জেরে হাওড়া-বর্ধমান শাখায় প্রায় তিন ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। স্টেশনের কাছে চার নম্বর রেল গেট এলাকায় ব্যাপক বোমাবাজি হয় বলে অভিযোগ। অশান্তির কারণে যাত্রী নিরাপত্তায় রিষড়া স্টেশন দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয় একটি আপ ব্যান্ডেল লোকালকে। দুর্ভোগে পড়তে হয় হাজার হাজার যাত্রীকে। প্রায় তিন ঘণ্টা পর রাত ১টার পর থেকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে পরিষেবা। এর পর পুলিশ রিষড়ার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে পরিষেবা।

এদিকে,রিষড়াকাণ্ডে সুকান্ত মজুমদারের সফর ঘিরে ধুন্ধুমার। অভিযোগ, এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকার কারণ দেখিয়ে আটকানো হয় বিজেপি রাজ্য সভাপতিকে। দেওয়া হয়। জিটি রোডে ব্যারিকেড ভেঙে দেন বিজেপি কর্মীরা। পুলিশের সঙ্গে তাঁদের ধস্তাধস্তি হয়। এরপর রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিজেপি কর্মীরা। তৈরি হয় মঞ্চও। তবে, বেশ কিছুক্ষণ বিক্ষোভ চলার পর পথ অবরোধ তুলে নেয় বিজেপি কর্মী সমর্থকেরা। এদিনের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বঙ্গ বিজেপির সভাপতি বলেন, ‘মানুষদের উপর হামলা হয়েছে। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয়, ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি। ১৪৪ ধারা জারি থাকলেও টিএমসি সাংসদ ঘুরছেন। কিন্তু আমাদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।
আরও পড়ুন রিষড়াকাণ্ডের জের, উত্তরবঙ্গ সফর কাটছাঁট রাজ্যপালের

প্রসঙ্গত, রবিবার বিকেলে রিষড়ায় রামনবমীর মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ, পুরশুড়ার বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষ, শ্রীরামপুরে বিজেপি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মোহন আদক-সহ একাধিক নেতা,বিধায়ক। অশান্তির জেরে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় বিজেপি সাংসদ তথা সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষের। যদিও নিরাপত্তা রক্ষীরা তাঁকে সময়মতো ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ায় বড় কোনও বিপদ হয়নি। ইতিমধ্যেই এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। সূত্রের খবর,রিষড়া ৫ নং ওয়ার্ড এলাকায় জিটি রোডের উপর আচমকাই মিছিলে হামলা চলে বলে অভিযোগ। চলে ইটবৃষ্টি। তাতে মোহন আদকের গাড়ির কাঁচ ভাঙে, আহত হন বিধায়ক বিমান ঘোষও। তাঁদের তড়িঘড়ি সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আহত বিধায়ককে হুইলচেয়ারে বসিয়ে নিয়ে যাওয়া হাসপাতালে। সরব বিজেপি। সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগে কার্যত ফেটে পড়েন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ। প্রতিবাদে জিটি রোড অবরোধ করে বিজেপি। ঘটনার পর থেকেই এখনও পর্যন্ত এলাকায় জারি ১৪৪ ধারা। অশান্তি রুখতে বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবাও।

এদিকে,ঘটনার পরেই ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যান শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়,উত্তরপাড়া কোতরং পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ যাদব,রিষড়ার চেয়ারম্যান বিজয় সাগর মিশ্র। যদিও গোটা ঘটনায় বিজেপিকেই দাবি করেছেন তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেন। ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পুলিশ কি উত্তরপ্রদেশের মতো বা গুজরাটের মতো এনকাউন্টার করবে? গুলি চালাবে? শান্ত বাংলাকে অশান্ত করতে এটা করা হচ্ছে। বাংলায় যত শান্তি বিরাজ করবে,বিজেপি ততই হারিয়ে যাবে।
আরও পড়ুন গরু পাচার মামলায় ফের ১২ দিনের জেল হেফাজত অনুব্রত মণ্ডলের


More Stories
পুলিশের জালে পলাতক ও অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মন
জেলায় জেলায় অনুপ্রবেশকারীদের ও সন্দেহভাজনদের আটক করে রাখা হচ্ছে হোল্ডিং সেন্টারে
বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের ভালোবাসায় মুগ্ধতার বিশেষ প্রয়াস