Home » ব্যর্থ রিঙ্কু সিংয়ের লড়াই, ইডেনে হায়দরাবাদের কাছে হার নাইটদের

ব্যর্থ রিঙ্কু সিংয়ের লড়াই, ইডেনে হায়দরাবাদের কাছে হার নাইটদের

স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ১৫ এপ্রিল: অধরা রইল জয়ের হ্যাটট্রিক। ঘরের মাঠ ইডেনে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে হেরে গেল কলকাতা নাইট রাইডার্স। এদিন প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২২৮ রান করে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। ৫৫ বলে ১০০ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন হায়দরাবাদের ব্রিটিশ ব্যাটার হ্যারি ব্রুকস। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২০৫ রান তোলে নাইট বাহিনী।

শুক্রবার টসে জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন কলকাতার অধিনায়ক নীতিশ রানা।  কিন্তু অধিনায়কের সিদ্ধান্তের প্রতি সুবিচার করতে পারলেন না নাইট বোলাররা। এদিন ঝড়ের গতিতে শুরু করেন হায়দরাবাদের ব্রিটিশ ওপেনার হ্যারি ব্রুক। উমেশ, ফার্গুসন, নারিন এদিন কোনও বোলারই বিশেষ সুবিধে করতে পারলেন না এই ব্রিটিশ ব্যাটারের বিপক্ষে। যদিও পঞ্চম ওভারে নাইটদের ম্যাচে ফেরান আন্দ্রে রাসেল। মাত্র পাঁচ বলের ব্যবধানে হায়দরাবাদের দুই ব্যাটার মায়াঙ্ক আগরওয়াল ও রাহুল ত্রিপাঠিকে ডাগআউটে ফেরান। এরপর আওয়ে দলের হয়ে রাশ ধরেন সানরাইজার্সের অধিনায়ক এইডেন মার্করাম। এই দুই ব্যাটারের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সমানে তখন অসহায় আত্মসর্মপণ করেছে নাইটদের বহু চর্চিত বোলিং লাইন আপ। এই জুটিতে স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ৭২ রান। এর মধ্যে অধিনায়ক মার্করাম একাই করেন ২৬ বলে ৫০ রান।

একটা সময় মনে হচ্ছিল এদিন আইপিএলের ইতিহাসে একদিকে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসের নজির গড়তে চলেছে সানরাইজার্স। ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা মার্করামকে ফিরিয়ে কেকেআর শিবিরে কিছুটা স্বস্তি ফেরান বরুণ চক্রবর্তী। এরপর অভিষেক শর্মার সঙ্গে জুটি গড়েন ব্রুকস। এই জুটিতে মিলে তোলে ৭২ রান। ফের একবার বল হাতে হায়দরাবাদকে ধাক্কা দেন রাসেল। অভিষেক শর্মাকে ফেরান তিনি। ১৭ বলে ৩২ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলে যখন অভিষেক ডাগআউটে ফিরছেন ২২ বছরের অভিষেক, ততক্ষন রানের পাহাড়ে পৌঁছে গিয়েছে হায়দরাবাদ। হায়দরাবাদের ইনিংস এরপর এগিয়ে নিয়ে যান ব্রুকস ও ক্লাসেন। ৫৫ বলে নিজের শতরান পূর্ণ করেন ব্রুকস। এটিই এই আইপিএলের প্রথম শতরান। নাইটদের হয়ে এই ম্যাচে তিনটি উইকেট নিলেন আন্দ্রে রাসেল। একমাত্র নারিন কিছুটা কম রান দিলেও বাকিদের নিয়ে ছেলেখেলা করলেন হায়দরাবাদের বোলাররা। ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২২৮ রানে শেষ হয় হায়দরাবাদের ইনিংস।

আরও পড়ুন   ইডেনের জয়ের হ্যাটট্রিকের খোঁজে কেকেআর

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই কেকেআর শিবিরে ধাক্কা দেন ভুবনেশ্বর কুমার। ফেরান ওপেনার গুরবাজকে। চতুর্থ ওভারে নাইট শিবিরে জোড়া ধাক্কা দেন জ্যানসেন। গত কয়েকটি ম্যাচে দুরন্ত ফর্মে থাকা ভেঙ্কটেশ আইয়ার ও সুনীল নারিনকে ফেরান দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার। এরপর নাইটদের ম্যাচে ফেরান নারায়ণ জগদীশন ও অধিনায়ক নীতিশ রানা। এই জুটিতে ৬২ রান তোলেন দুই নাইট ব্যাটার। নবম ওভারে জগদীশনকে ফেরান মায়াঙ্ক মারকেন্ডে। একাদশ ওভারে ফের মায়াঙ্ক ধাক্কা দেন নাইট শিবিরে। এবার ফেরান বিধ্বংসী নাইট ব্যাটার আন্দ্রে রাসেলকে।

এরপর নাইট অধিনায়ক নীতিশের সঙ্গে জুটি বাঁধেন গত ম্যাচের নায়ক রিঙ্কু সিং। ৪১ বলে ৭৫ রান করেন নাইট অধিনায়ক। এদিনও ৩১ বলে ৫৮ রানের দুরন্ত ব্যাটিং করেন রিঙ্কু। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ২০ ওভারে ২০৫ রানেই থামতে হয় নাইটদের। দুরন্ত ব্যাটিং করে এদিন ম্যাচের সেরা হ্যারি ব্রুক। এদিন ম্যাচ শেষে কিছুটা ক্ষোভের সুরই শোনা গেল নাইট অধিনায়কের গলায়। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, রিঙ্কু সিংয়ের পক্ষে রোজ শেষ ওভারে পাঁচটি ছয় মেরে ম্যাচ জেতানো সম্ভব নয়। এই কথার মধ্যে যে দলের ব্যাটার ও বোলারদের ক্রমাগত খারাপ ফর্মকে দুষলেন নাইট অধিনায়ক বলে মত ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের।

About Post Author