Home » গৌতম বুদ্ধ : নারী এবং আধুনিকতা

গৌতম বুদ্ধ : নারী এবং আধুনিকতা

পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা, ৫ মে : রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ” বৈরাগ্য সাধনে মুক্তি, সে আমার নয় “। বুদ্ধদেব সম্পর্কে তাঁর জন্মের আড়াই হাজার বছর পরেও এই বাক্যটি যেন আশ্চর্যভাবে মিলে যায়। আজও বুদ্ধদেবের সম্পর্কে আমরা কতটুকুই বা জানি, অনেককিছুই হয়তো জানি না। তথাগত বুদ্ধ সম্পর্কে আলোচনার প্রারম্ভে একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন। বুদ্ধদেব তপস্যা শুরু করেছিলেন পরম সত্য বা দিব্য জ্ঞান লাভের উদ্দেশ্যে। দিব্য জ্ঞান লাভের উদ্দেশ্যে তিনি কৃচ্ছতার মাধ্যমে সাধনা শুরু করেন। সে সময় নিরন্ন দিনগুলিতে সাধনার ফলে তিনি এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েন যে তাঁর উপলব্ধি হয় কেবল কৃচ্ছসাধনে মুক্তির প্রচেষ্টা বৃথা। মধ্যপন্থাকে অনুসরণ করার প্রয়োজনীয়তা তিনি উপলব্ধি করেন। গৌতম বুদ্ধ বুদ্ধ-গয়ার কাছে উরুবিল্ব নামক বর্ণিত স্থানে নৈরঞ্জনা নদীতে স্নান করে তপস্যা শুরু করেন। এখানেই তপ করে তিনি বোধিলাভ করেন।

এসময় উরুবিল্বের কাছেই অবস্থিত সেনানী গ্রামের কৃষক পরিবারের নারী সুজাতা সন্তান লাভের আশায় বৃক্ষদেবতার কাছে গিয়ে দেখতে পান ধ্যানরত বুদ্ধকে। তিনি সংবাদ পেয়েছিলেন এখানে এক দেবতাসম ধ্যানী বসে আছেন। কথিত আছে, এক হাজার গরু থেকে আটটি গরুকে উত্তম খাদ্যে পরিপুষ্ট করে সেই দুগ্ধজাত পায়েস নিয়ে পৌঁছান বুদ্ধদেবের কাছে। বুদ্ধদেব সেই পায়েসের ৪৯ ভাগ করেন। বুদ্ধদেব সেই পায়েসের এক অংশ গ্রহণ করলেও তাঁর সঙ্গীরা সেসময় বুদ্ধের নীতিতে অসন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে ছেড়ে চলে যান। কিন্তু বুদ্ধদেব ততদিনে উপলব্ধি করেছেন মধ্যপন্থার গুরুত্ব। তিনি অনুভব করেন অতিরিক্ত কঠোর জীবনযাপন ও নয়, স্বাভাবিক জীবনে থাকার গুরুত্ব। ভোগবিলাসের বিরোধী তিনি ছিলেন , আবার কঠোরতারও পরিপন্থী ছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন    শুক্রবার বুদ্ধ পূর্ণিমা, জেনে নিন এই দিনটির তাৎপর্য ও ইতিহাস

সুজাতা প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, সুজাতার বিষয় চৰ্চা বৌদ্ধ যুগের নারীদের স্থান নিয়ে আলোচনা প্রাসঙ্গিক করে তোলে।  নারীদের সম্পর্কে স্বাভাবিক সম্পর্কে বিশ্বাসী ছিলেন তথাগত।  আর তাঁর নীতির উদারতা বৌদ্ধযুগে নারীদের তৎকালীন রক্ষণশীলতা থেকে অনেকটাই মুক্তি দেয়। মাঙ্গলিক কর্মকাণ্ডে নিঃসন্তান বা বিধবাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার প্রথা আস্তে আস্তে দূরে সরে যেতে থাকে। কারণ বুদ্ধের উপদেশে প্রধান ছিল,নারী পুরুষ জাতি ধর্মনির্বিশেষে সাম্যের বাণী। দীর্ঘনিকায়ে বুদ্ধ বলেছেন ” সব মানুষ সমান,সে নারী হোক বা পুরুষ, ব্রাহ্মণ বা শূদ্র সে যাই হোক না কেন।” গৌতম বুদ্ধ তাঁর জীবনের পরবর্তী দিনগুলিতে বৌদ্ধসংঘে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের প্রবেশ অবাধ করেন। মহাস্থবীর আনন্দ ভিক্ষুণীসংঘ স্থাপনের অনুরোধ করলে তা তিনি মেনে নেন।সংঘে প্রবেশের ক্ষেত্রে বারবণিতাদের ও যথেষ্ট শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হত। এজন্য ৫৬৩-৫৬৪ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে জন্মগ্রহণ করা বুদ্ধদেব আজও প্রবল ভাবে আধুনিক এবং তিনি সঠিক ভাবে এডউইন আর্ণল্ড কথিত ‘লাইট অফ এশিয়া’।।

About Post Author