Home » চমকে দিলেন ট্রাম্প, কোন প্রেক্ষাপটে ভারত – মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি? কেন ট্রাম্পের অবস্থান বদল?

চমকে দিলেন ট্রাম্প, কোন প্রেক্ষাপটে ভারত – মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি? কেন ট্রাম্পের অবস্থান বদল?

Oplus_131072

পুরন্দর চক্রবর্তী,সময় কলকাতা, ৩ ফেব্রুয়ারি : চমকে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আচমকা ঘুরলেন তিনি, জানালেন ভারত মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি ও শুল্ক হ্রাসের কথা। প্রসঙ্গত, ট্রুথ সোশ্যাল-এ তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে অশোধিত তেল কেনা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ভারতীয় পণ্যের উপর কর কমে ১৮ শতাংশ শুল্ক হ্রাসের ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল আমদানির সাথে সম্পর্কিত কিছু উল্লেখ করেননি। তবে কেন ট্রাম্পের এই ঘোষণা? এই ঘোষণার কারণ দর্শাতে ট্রাম্প যতই নরেন্দ্র মোদির  অনুরোধের কথা বলুন  মার্কিন অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতেই এই পদক্ষেপ তা নিয়ে সন্দেহর অবকাশ নেই এবং এই চুক্তির নেপথ্যে রয়েছে আরেকটি যুগান্তকারী চুক্তি যা কয়েকদিন আগেই সম্পাদিত হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, আভ্যন্তরীণভাবে চাপে থাকা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই বাণিজ্য চুক্তি  অর্থনৈতিক কৌশলগত কারণে গ্রহণ করতে হচ্ছে এবং যার নেপথ্যে রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের চুক্তি।

কী আছে ভারত মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে? ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির অধীনে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করতে সম্মত হয়েছে। বিনিময়ে, ভারত মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক কমাবে, রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমিয়ে মার্কিন তেল কেনা বাড়াবে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাধা দূর করবে। এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতের রফতানি সুবিধা বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা থেকে বেশি জ্বালানি তেল কেনার ব্যাপারে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে।বাণিজ্য বাধা অপসারণ হওয়ার পাশাপাশি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০০ বিলিয়নেরও বেশি মূল্যের পণ্য—জ্বালানি, প্রযুক্তি ও কৃষি পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বাণিজ্য ছাড়াও, লিথিয়াম এবং বিরল খনিজ পদার্থ  নিয়ে ট্রাস্ট ইনিশিয়েটিভ  এর আওতায় কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার এনডিএ সংসদীয় দলের বৈঠকে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি  বলেন, শুল্ক নিয়ে একসময় যে সমালোচনা উঠেছিল, তার জায়গায় এখন ইতিবাচক ফলাফল স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। রাশিয়া প্রসঙ্গ নরেন্দ্র মোদি উহ্য রাখায় স্বাভাবিকভাবেই ট্রাম্পের অবস্থান বদল কেন- এ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের তরফে চুক্তির ঘোষণা রীতিমতো চমকপ্রদ কারণ ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে প্রথম দিকে আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকে কয়েক মাস ধরে আটকে ছিল।বারবার আলোচনার পরও, এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৫০% শুল্ক আরোপ করার পরেও, ট্রাম্প প্রশাসন জোর দিয়ে বলেছিল যে ভারতের সাথে যে কোনও বাণিজ্য চুক্তি নয়াদিল্লি রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি বন্ধ করার সাথে যুক্ত হবে। মোদি এই প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেছেন। তাহলে চুক্তির নেপথ্যে এবং ট্রাম্পের ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে যাওয়ার পেছনে কারণ কী?

 আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই চুক্তি সম্ভবত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের সাম্প্রতিক চুক্তির প্রেক্ষাপটে গৃহীত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, কারণ ট্রাম্প প্রশাসন শুল্ক বাণিজ্যে কড়াকড়ি করছে। মার্কিন ডলারের দাম পড়ছে। অন্যদিকে, কয়েকদিন আগেই ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। ভারতে কেন্দ্রীয় সরকারের এবারের বাজেটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চুক্তির প্রতিফলন দেখা গিয়েছে।

 অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিতভাবেই চাপে রয়েছেন।৮০০টি মার্কিন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ট্রাম্পের শুল্ক নীতির সমালোচনা করেছে, তারা মনে করে ট্রাম্পের শুল্কনীতি তাদের উপরে চাপ বাড়াতে বাধ্য করছে।নির্বাচনের পর থেকে শুল্ক বাণিজ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া এবং নিজের দেশের ভেতরেই বাণিজ্যের সুবিধা নিশ্চিত করার চাপ রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের।

 অন্যদিকে শুল্কনীতির আওতায় ভারতের উপরে অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানোর নীতির মাঝেই ভারত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য নীতি সম্পাদন করে ফেলেছে।  এমতাবস্থায়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার্কিন অর্থনীতি কে চাঙ্গা করতে এই পদক্ষেপ। বিশেষজ্ঞরা এও মনে করেন যে,  চীন ও রাশিয়ার প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের গুরুত্ব অপরিসীম। ফলশ্রুতি, এই চুক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি “পারস্পরিক লাভজনক” সম্পর্কের বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এককথায়,ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সম্প্রতি একটি বড় বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে, যা ট্রাম্পের শুল্ক নীতিকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। এই অবস্থায় ভারত-মার্কিন চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ পাল্টা পদক্ষেপ যা গ্রহণ করতে কার্যত বাধ্য হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।।

About Post Author