সময় কলকাতা ডেস্ক,৩০ মেঃ সংঘর্ষে জর্জরিত মণিপুর। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এখন মণিপুরে। মঙ্গলবার রাজ্যের সব রাজনৈতিক দল ও বিবাদমান দুই সম্প্রদায় মেইতেই এবং কুকিদের একাধিক গোষ্ঠীর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। এদিকে শাহের সফরের মধ্যেই পুনেতে এক অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার সেনাধ্যক্ষ অর্থাৎ চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ অনিল চৌহান জানান, মণিপুরের পরিস্থিতি শান্ত হতে সময় লাগবে। সেনা বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাছে। মণিপুরে বর্তমানে ১৪০ কলম অর্থাৎ ১৪ হাজার সেনা জওয়ান মোতায়েন আছে। এছাড়া অসম রাইফেলসের বেশ কিছু ব্যাটেলিয়ন মোতায়েন আছে রাজ্যে। এদিকে বৈঠকের আগেই সরকারের তরফে ঘোষণা করা হয়, হিংসায় নিহতদের পরিবারকে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার মিলে মোট ১০ লাখ টাকা করে এককালীন ক্ষতিপূরণ বাবদ দেওয়া হবে। সরকারিভাবে নিহতের সংখ্যা ৮০ বলেই জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন ‘স্বাধীনতার তখন আর এখন’,পার্থক্য দেখিয়ে টুইট মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

এদিকে,মণিপুরের অশান্তি রুখতে মঙ্গল্ববার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে দারস্থ হল কংগ্রেস। এদিন সকালে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করেন কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল। মণিপুরের অশান্তি রুখতে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপের দাবি জানান তাঁরা। তাঁদের দাবি, মণিপুর খুব ছোট একটি রাজ্য। কেন্দ্রীয় সরকার চাইলেই যে কোনও সময় মণিপুরের অশান্তি বন্ধ করতে পারে। হিংসায় জর্জরিত মণিপুরে ইতিমধ্যে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কার্যত সেকারণেই এদিন সকালে মল্লিকার্জুন খাড়্গের নেতৃত্বে কে.সি বেণুগোপাল ও মুকুল ওয়াসনিক সহ মণিপুর কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে বৈঠকও করেন। মণিপুরের শান্তি ও সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনতে রাষ্ট্রপতিকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণেরও আর্জি জানান তাঁরা। এমনকী মণিপুরের শান্তি ফিরিয়ে আনতে দলীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের নেতৃত্বে ১২ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করেন কংগ্রেস প্রতিনিধিরা।

আরও পড়ুন কলকাতা এলেই খুন হতে পারেন! প্রাণনাশের আশঙ্কায় ‘দ্য ডাইরি অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল’ ছবির পরিচালক
প্রসঙ্গত, শান্তি প্রক্রিয়ার মধ্যেই ফের নতুন করে মণিপুরে হিংসা ছড়িয়েছে। প্রাণ গিয়েছে একজনের। এই নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি ভাবে পৌঁছল ৭৩-এ। বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরেই মণিপুরে অশান্তি চলছে। এর মূলে রয়েছে মেটেই জনজাতির সঙ্গে আদিবাসীদের সংঘাত। মণিপুরের মেইতেই জনজাতিকে তফসিলি উপজাতির তকমা দেওয়ার দাবি দীর্ঘদিনের। মণিপুরের বিজেপি সরকার সেই দাবি মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। তাতেই ক্ষুব্ধ কুকি-সহ অধিকাংশ আদিবাসী সংগঠন। তাদের বক্তব্য, মেইতেইরাও যদি তফসিলি উপজাতির স্বীকৃতি পেয়ে যায়, তাহলে আদিবাসীদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে। তাছাড়া, মণিপুরের বিজেপি সরকার স্থানীয় বনাঞ্চলগুলিতে সমীক্ষা চালাচ্ছে। আদিবাসীদের আশঙ্কা, সরকার এবার বনভূমি ধ্বংস করতে চলেছে


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?