সময় কলকাতা ডেস্ক, ১২ জুন : বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেট তারকা কীর্তি আজাদ তৃণমূলের সংসদদের বিদ্রোহী হওয়ার পেছনে দেখছেন “এনডিএ-র ষড়যন্ত্র” এবং ” ভীতি প্রদর্শন “। আর তাই আত্মরক্ষার তাগিদে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঘুরতে হচ্ছে তারকা তৃণমূল সাংসদকে। সংবাদমাধ্যমকে অবাক করে দিয়ে কীর্তি আজাদ বলছেন, আত্মরক্ষার জন্য তাঁকে ব্যবহার করতে হতে পারে আগ্নেয়াস্ত্র।
আগেই বলেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আহত বাঘিনী। “ঘায়েল শেরনি “ভয়ঙ্কর এবং মমতার পাশেই থাকবেন তিনি। কীর্তি আজাদ এবার ফাঁস করলেন “এনডিএ-র ষড়যন্ত্রের” কথা। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, তাঁর উপরে প্রবল চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং বিদ্রোহীদের হয়ে কেন্দ্রীয় জোটে সামিল হতে তাকে বলা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে নিরাপত্তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাধ্য হয়ে আত্মরক্ষার জন্য তাঁকে আগ্নেয়াস্ত্র কাছে রাখতে হচ্ছে। কীর্তি আজাদ বলেছেন, “বিজেপিতে থাকাকালীন আমি ওয়াই প্লাস ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পেতাম। কিন্তু এখন নিরাপত্তারক্ষী সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকী আমার বাড়ির হোমগার্ডগুলিও নেই।” তিনি বলেছেন বিজেপির গুন্ডাদের হাত থেকে বাঁচতে তিনি আত্মরক্ষার চরম পথ নিতেই পারেন। বর্ধমান-দুর্গাপুরের সাংসদের অভিযোগ, বাংলায় তৃণমূলের হারের পরই দলের সাংসদদের উপর আক্রমণ করা হচ্ছে। ভয় দেখিয়ে অন্য তৃণমূল সাংসদদের বাগে আনা গেলেও তাঁকে বাগে আনা যাবে না বলে জানিয়েছেন কীর্তি আজাদ । তাঁর মতে, যাদের সঙ্গে দুর্নীতিতে যোগ রয়েছে তারা সহজে আত্মসমর্পণ করেছেন। এই প্রসঙ্গে বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি দোষ দস্তিদারের নামও নিয়েছেন তিনি। এই মুহূর্তে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রয়েছেন মাত্র গুটি কয়েক সাংসদ যারমধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম ভারত বিখ্যাত অভিনেতা শত্রুঘন সিনহা এবং ১৯৮৩ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য কীর্তি আজাদ। ধাপে ধাপে লোকসভার সাংসদরা বিদ্রোহী হচ্ছেন। প্রথম ধাপে চোদ্দো জন তৃণমূল সাংসদ বিদ্রোহীদের তালিকায় সই করেছিলেন। পরের ধাপে সই করেন লোকসভার আরও পাঁচ তৃণমূল সাংসদ। প্রথম ধাপে সই করেছিলেন কাকলি ঘোষদস্তিদার, শতাব্দী রায়, বাপি হালদার, শর্মিলা সরকাররা। সই ছিল প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, জগদীশ বর্মা বাসুনিয়া, অসিত মাল অরূপ চক্রবর্তীদেরও। সই করেছিলেন খলিলুর রহমান, আবু তাহের খান, কালীপদ সোরেন, দেব, জুন মালিয়া, পার্থ ভৌমিক। পরের ধাপে যাঁরা সই করেন তাঁরা হলেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, ইউসুফ পাঠান, মিতালি বাগ ও মালা রায়। যে কয়েকজন সংসদ অবশিষ্ট আছেন তাদের ওপরে চাপ অব্যাহত দাবী কীর্তি আজাদের। তবে তৃণমূলের অভ্যন্তরে অবশিষ্ট সাংসদদের মধ্যেও গোলযোগ চলছে। ইতিমধ্যেই সংঘাত বেধেছে কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে। কল্যাণ রীতিমতো চটেছেন অভিষেকের উপরে। তবে কীর্তি আজাদ মনে করছেন, দিদি সব গোলযোগ মিটিয়ে নেবেন। তিনি এও দাবি করেছেন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূল পুরনো জায়গায় ফিরে আসবে কারণ কর্মীরা সঙ্গে রয়েছেন। “এনডিএ-র ষড়যন্ত্র” এবং চাপের তত্ত্ব কার্যকর হবে না, বলছেন কীর্তি আজাদ।।


More Stories
“কংগ্রেসের হাত-ছাড়া ভুল ছিল”, বিস্ফোরক অনুব্রত দুষছেন আইপ্যাককে
অভিষেক না আমি বেছে নিন, মমতাকে বার্তা কল্যাণের
রাজনীতিকে বিদায়, সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা কোয়েলের