Home » মহারাজ তোমারে সেলাম, ৫১ পূর্ণ করলেন সৌরভ

মহারাজ তোমারে সেলাম, ৫১ পূর্ণ করলেন সৌরভ

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৮ জুলাই : ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে একটি মাত্র  একদিনের ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়ে  নিদারুণ ব্যর্থ হয়ে ফিরেছিলেন এক বঙ্গতনয়। ১৯৯৬ সালে আবার যখন ইংল্যান্ড সফরে তাঁকে সুযোগ দেওয়া হল  তখন বেশ কিছু ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ তাঁর কথা মাথায় রেখে বলেছিলেন,  অনেকেই  দলে সুযোগ পেলেও তারা সফলকারী দলের সংখ্যা বৃদ্ধি মাত্র করবে। সেই বঙ্গ তনয় তাঁর অভিষেক টেস্টে চোখ ধাঁধানো সেঞ্চুরি শুধু করেননি  একের পর এক সাফল্যের মুকুট পরেছেন তিনি। তিনি ভারতীয় দলের অধিনায়কত্বও করেছেন পরবর্তী সময়ে।তিনি ভারতীয় ক্রিকেটের মহারাজ। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়  শনিবার ৫১ বছর পূর্ণ করলেন। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের তরফে তাঁকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। দেশ-বিদেশ থেকে এসেছে শুভেচ্ছা।মহারাজ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের  জন্মদিন উপলক্ষ্যে  তাকে নিয়ে সময় কলকাতার একটি কোলাজ। ভারতীয় ক্রিকেটে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মুল অবদান কী? কেন তাঁকে ভারতীয় ক্রিকেটের মহারাজ হিসেবে স্মরণে রাখবে সময়?

সৌরভ গাঙ্গুলী  কেন ভারতীয় ক্রিকেটের মহারাজ? এনিয়ে প্রথমেই বলে রাখা ভালো পরিসংখ্যানের তত্ত্বকথা দিয়ে  সৌরভকে বেঁধে রাখা তাঁর অবমূল্যায়ন।শুধুমাত্র ১৬ টি টেস্ট শতরান বা ২২ টি একদিনের ম্যাচে সেঞ্চুরি দিয়ে তাঁকে বিচার করা ভুল।দু ধরণের ফরম্যাটে চল্লিশের ওপরে রান দিয়ে তাঁকে বিচার করা ভুল। তাঁকে বিচার করা যাবে না বাঁ হাতি ব্যাটসম্যানের ব্যাটিং সৌন্দর্য দিয়েও। তাঁর সমসাময়িক অনেক ক্রিকেটার রয়েছেন যাদের ব্যাটিংগড়  তাঁর চেয়ে অনেক উঁচুতে। ব্যাটম্যান হিসেবে শচীন টেন্ডুলকার বা রাহুল দ্রাবিড়ের সাফল্য ঢের বেশি।তাহলে কেন তিনি স্মরণীয়? একজন উল্লেখযোগ্য বাঁ হাতি ব্যাটার যিনি অভিষেক লগ্নে একের পর এক সেঞ্চুরি করেছেন  বা একাধিকবার কামব্যাক করেছেন তাঁর মানসিক জোর দেখিয়ে তা তাঁকে ক্রিকেটের তাজ এনে দেয় নি।

মহারাজের সাফল্যকে প্রথমেই দেখতে হবে তাঁর লিডারশিপ কোয়ালিটি দিয়ে। আজহারউদ্দিন, জাদেজা, নয়ন মোঙ্গিয়া যখন বেটিং কেলেঙ্কারিতে নির্বাসিত তখন আজাহার পরবর্তী পর্বে  তিনি হাল ধরেছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটের। ভারতীয় ক্রিকেট গৌরবের ইতিহাস সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের অধিনায়কত্বের  সময় থেকেই লেখা হতে থাকে। এরকম নয় যে, তাঁর আগে বা পরে ভারত ও ক্রিকেট অধিনায়ক হিসেবে  তাঁর মত সাফল্য কোনও অধিনায়কের ছিল না। অজিত ওয়াদেকরের ক্যারিবিয়ান  সফরে জয়লাভ, ধোনির সীমিত ওভারের ক্রিকেটে একের পর এক সাফল্য, বিরাটের আগ্রাসন সবকিছুর মধ্যেও ব্যতিক্রমী  সৌরভ অধ্যায় যা সম্পূর্ণ আলাদা সৌরভ বয়ে এনেছিল ভারতীয় ক্রিকেটে  । তিনি গর্বকে নুয়ে পড়তে দেন নি, একসূত্রে বেঁধেছেন  শচীন, দ্রাবিড়, কুম্বলের মত সেরা মানের ক্রিকেটারদের যারা দেশে ও দেশের বাইরে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। তিনি সাহস জুগিয়েছেন অসম্ভব প্রতিভাবান  একঝাঁক তারকাকে যাদের মধ্যে যুবরাজ,সেহবাগ হরভজন, নেহেরা, জাহির খান প্রমুখ নাম উল্লেখযোগ্য। তিনি এনেছিলেন ক্রিকেট  মাঠে  শরীরী ভাষায় রূপান্তর । হারার আগে হার না মানা তিনি শিখিয়েছেন। সৌরভ বুঝিয়েছেন ফ্লিন্টফকে উত্তর তাঁর দেশে গিয়ে দেওয়া যায়। ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি জিতে তাঁর জার্সি খুলে উল্লাস ছিল তাঁর বিশ্বাস প্রমাণিত হওয়ার উল্লাস। তিনি বুঝেছিলেন, যুবরাজ, কাইফ, হরভজন, সেহবাগ সঙ্গে থাকলে বাঘের গুহায় ঢুকে বাঘ শিকার করার মন্ত্র তাঁর জানা। আর এই ক্রিকেটাররাই পরবর্তী সময় বিশ্ব কাঁপিয়েছেন। ভারতের একের পর এক বিশ্ব জয়ের অভিযানের মহারথীরা সৌরভের মন্ত্রপূত কবজে বলিয়ান।তাই তিনি মহারাজ!

 

About Post Author