Home » সীমান্তে ভোটের ভাগ্য গড়তে চলেছেন একদল ভাগ্যহীন, নিজভূমে পরবাসী মানুষ

সীমান্তে ভোটের ভাগ্য গড়তে চলেছেন একদল ভাগ্যহীন, নিজভূমে পরবাসী মানুষ

সময় কলকাতা ডেস্ক,৯ জুলাই : মাঝে কয়েকটা ঘন্টা। কিছু জায়গায় হবে পুনরায় ভোট গ্রহণ। তারপরে ভোটের ফল। এই সময় ভোটের ফলাফলের দিকে উদগ্রীব হয়ে তাকিয়ে থাকবেন  সীমান্তবর্তী এলাকার কিছু প্রান্তিক ভাগ্যহীন মানুষ। তাঁরা গণতন্ত্রের  উৎসবে সামিল হয়ে পঞ্চায়েত নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। ভাগ্যহীন মানুষগুলির উৎসবের দিনের প্রচেষ্টা ভাগ্য স্থির করে দেবে রাজনৈতিক দলের যে রাজনৈতিক দলগুলি তাঁদের নিয়ে ভাবার ফুরসৎ পায় না। তাঁরা তাই চোখ রাখছেন মঙ্গলবারের দিকে। তাঁদের ভাগ্য বদল হোক না হোক, তাঁরা জানেন তাঁরা ভাগ্য গড়তে চলেছেন। সামান্য হলেও প্রভাব ফেলতে চলেছেন তাঁরা। ‘ভাগ্যহীন’ একদল মানুষ তাকিয়ে পঞ্চায়েত নির্বাচনে তাঁদের দেওয়া ভোটের নিরিখে ফলাফলের দিকে। তাঁরা নিজেরাই বলেন দেশ বিভাগে তারা ভাগ্যের হাতে মার খেয়েছেন। তবুও দেশ তাঁদের হৃদয় জুড়ে।তাঁরা কারা?

তাঁরা নিজভূমে পরবাসী একদল মানুষ।  তাঁরা বছরের পর বছর যতই অভাব অভিযোগের জীবন যন্ত্রনা নিয়ে বাঁচেন। সীমান্তের জিরো পয়েন্টে কাটলেও ভোট আসলে কিন্তু সেই যন্ত্রনা ভুলে বি এস এফ এর যাবতীয় তল্লাসির মুখোমুখি হয়েও তাদের ভোট দিতে আসেন তাঁরা।দক্ষিন দিনাজপুর জেলার ভারত বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক হিলি সীমান্তের ভারতীয় হাড়িপুকুর গ্রামের মানুষদের নিস্তরঙ্গ জীবনে উৎসবের সৌরভ বয়ে নিয়ে আসে ভোট। এবারও পঞ্চায়েত নির্বাচনে সামিল হয়েছিলেন তাঁরা।

বালুরঘাটের অদূরে  হিলির হাড়িপুকুর গ্রামে প্রায় ৮০ টি পরিবারের মানুষজনের বসবাস। এই গ্রামে একদিকে ভারতীয় পরিবারের বাস, অন্যদিকে বাংলাদেশি পরিবারের বসবাস।গ্রামের ভেতর রয়েছে মসজিদ, সেই মসজিদেই  নামাজ পড়ে দুই প্রতিবেশি রাষ্ট্রের ধর্মপ্ৰিয়  মানুষজন। নিজ ধর্মের পালনে উন্মুখ হলেও পর ধর্মের প্রতি রয়েছে শ্রদ্ধা।। হাড়িপুকুরে রয়েছে প্রায় ৩৩২ জন ভোটার।তবে তাদের ভোট উৎসবে সামিল হওয়ার জন্য  বি এস এফ এর তল্লাসির পর তাদের ভোট দিতে আসতে হয় প্রায় কিলোমিটার খানেক দুরত্ব পার করে।এবার যেমন হয়েছে তেমন করেই সাধারণত স্থানীয়  প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসে তাঁরা দিয়ে থাকেন তাঁদের ভোট। এবারও পঞ্চায়েত নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তারা, এসে ভোটদান কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন তাঁরা।তাঁদের কাছে কোনও পুজো – পরবের চেয়ে কম নয় নির্বাচনের দিন।তাঁদের চোখ এখন ভোটের ফলাফলের দিকে। ভারতের মূলস্রোতে তাঁরা যে রয়েছেন, তা তাঁদের হৃদয়কে জানান দেওয়ার শুভক্ষণ যে নির্বাচনের সঙ্গে দূরে থাকা  দুটি দিন – ভোটদান ও ফলাফল ঘোষণার দিন। তারা রাজনৈতিক দলের কাছে কিছু পাওয়ার প্রত্যাশী নন। তথাপি সীমান্তবর্তী,প্রান্তিক  ভাগ্যহীন মানুষেরা রাজনৈতিক দলের  ভাগ্য গড়ার প্রতীক্ষায়।।

 

About Post Author