সময় কলকাতা ডেস্ক,২২ জুলাই: উত্তপ্ত মণিপুরের ২ মহিলাকে নিগ্রহের ঘটনায় তোলপাড় গোটা দেশ। ইতিমধ্যেই লজ্জাজনক একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। ভিডিয়োটি দেখার পরই কেন্দ্রের তরফে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। ভিডিয়োটি ভাইরাল হতেই দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। বুধবার এই ঘটনার পরই ভিডিয়ো দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং মূল অভিযুক্ত হুইরেম হেরোদাস মেইতি সহ চারজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল। শনিবার আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ। উত্তপ্ত মণিপুরে মহিলাদের লাঞ্ছনার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হল। এদিকে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার জেরে শুক্রবার ক্ষুব্ধ জনতা মূল অভিযুক্ত হুইরেমের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় বলেই জানা গিয়েছে। ওই বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, দুই মহিলাকে বিবস্ত্র করে হাঁটানো হচ্ছে। তাদের ঘিরে ভিড় করে রয়েছে বেশ কিছু পুরুষ। অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তি দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এমনকী এই ঘটনার পরেই তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং।

জানা গিয়েছে, মণিপুরের রাজধানী ইম্ফল থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে কাংপোকপি জেলাতে এই ঘটনাটি ঘটেছে। যদিও এই ঘটনার পরই সংরক্ষণ ইস্যুতে কুকিদের সঙ্গে মেইতেইদের সংঘাত শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপহরণ, গণধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে ১২টি তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অধিবেশন শুরু হতেই মণিপুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দোষীদের কড়া শাস্তি দেওয়া হবে। তাদের জন্য গোটা দেশ লজ্জিত হচ্ছে। সকল মুখ্যমন্ত্রীদের কাছে অনুরোধ, রাজ্যের আইন ব্যবস্থা আরও কঠোর করুন। দেশের কোনও প্রান্তেই মহিলাদের অসম্মান করা যাবে না। মা-বোনেদের সম্মান রক্ষার্থে যেন কোনও খামতি না থাকে। রাজনীতির ঊর্ধ্বে গিয়ে মহিলাদের সুরক্ষা ও সম্মান রক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।’
আরও পড়ুন মণিপুরে মহিলাদের নিগ্রহের ঘটনায় কড়া সতর্কবার্তা কেন্দ্রের

প্রসঙ্গত,গত ৩ মে একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে হিংসার ঘটনার সূত্রপাত উত্তরপূর্বের এই রাজ্যে৷ মেইতেই জনজাতিকে তফশিলি উপজাতিভুক্ত করার বিরোধিতা করছে কুকি সম্প্রদায়৷ আর এ নিয়ে একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনা ঘটছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে৷ তারপর থেকে প্রায় তিন মাস হতে চলল৷ এই প্রথম কংগ্রেস নেতা অশান্ত মণিপুরের অবস্থা নিজের চোখে দেখতে যাচ্ছেন৷ বর্তমানে মণিপুরে রাজ্যজুড়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ৩০০ টিরও বেশি ত্রাণশিবিরে বাস করছেন৷ ৩ মে পাহাড়ে ‘ট্রাইবাল সলিডারিটি মার্চ’ হচ্ছিল৷ মেইতেই জনজাতিকে তফশিলি উপজাতির স্বীকৃতি যাতে না-দেওয়া হয়, তার প্রতিবাদে এই মিছিল হচ্ছিল৷ সেখানে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে৷ মেইতেইরা মণিপুরের জনসংখ্যার ৫৩ শতাংশ এবং তারা ইম্ফলের উপত্যকায় বাস করে৷ এদিকে আদিবাসী নাগা ও কুকিরা জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ৷ তারা সাধারণত পাহাড়ি জেলাগুলিতে থাকে৷ মণিপুরে সংঘর্ষের কারণে ইতিমধ্যে প্রায় ১৪৫জনের প্রাণ গিয়েছে। আহত অসংখ্য। এলাকা ছাড়া প্রায় ৫০ হাজার পরিবার। প্রাণ রক্ষায় আশপাশের রাজ্যে পালিয়েছে বহু পরিবার। হিংসার আগুনে পুড়েছে প্রায় ২৫০টি গির্জা এবং ১৭টি মন্দির।


More Stories
বারাসাতে মিছিল কি তৃণমূলের শেষের শুরুর ইঙ্গিত ?
রাজ্যসভায় নীতিশ, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী কে এবার?
কেরলের নামবদল : প্রেক্ষাপট ও বিতর্ক