সময় কলকাতা ডেস্ক,২০ জুলাইঃ বিগত দু’মাস ধরেই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি মণিপুরে। জাতিদাঙ্গার কারণে চলছে মৃত্যু মিছিল। কয়েক হাজার মানুষ পরিবার নিয়ে ঘর ছাড়া। এই পরিস্থিতিতে উত্তপ্ত মণিপুরের ২ মহিলাকে নিগ্রহের লজ্জাজনক একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে উঠেছে নিন্দার ঝড়। ভিডিয়োটি দেখার পরই তীব্র নিন্দা করেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং। এমনকী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। এবার কেন্দ্রের তরফে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে, টুইটার সহ অন্যান্য় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে কেন্দ্রের তরফে একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছে যাতে কোনওভাবেই এই ভিডিয়ো শেয়ার না করা হয়। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, দুই মহিলাকে বিবস্ত্র করে হাঁটানো হচ্ছে। তাদের ঘিরে ভিড় করে রয়েছে বেশ কিছু পুরুষ। বুধবার ভিডিয়োটি ভাইরাল হতেই দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। এই ঘটনার পরই ভিডিয়ো দেখে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তি দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে সরকার।
আরও পড়ুন মণিপুরের ঘটনায় রাজ্যের আইন ব্যবস্থা কঠোর করার আর্জি প্রধানমন্ত্রীর

জানা গিয়েছে, মণিপুরের রাজধানী ইম্ফল থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে কাংপোকপি জেলাতে এই ঘটনাটি ঘটেছে। যদিও এই ঘটনার পরই সংরক্ষণ ইস্যুতে কুকিদের সঙ্গে মেইতেইদের সংঘাত শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপহরণ, গণধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে ১২টি তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অধিবেশন শুরু হতেই মণিপুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দোষীদের কড়া শাস্তি দেওয়া হবে। তাদের জন্য গোটা দেশ লজ্জিত হচ্ছে। সকল মুখ্যমন্ত্রীদের কাছে অনুরোধ, রাজ্যের আইন ব্যবস্থা আরও কঠোর করুন। দেশের কোনও প্রান্তেই মহিলাদের অসম্মান করা যাবে না। মা-বোনেদের সম্মান রক্ষার্থে যেন কোনও খামতি না থাকে। রাজনীতির ঊর্ধ্বে গিয়ে মহিলাদের সুরক্ষা ও সম্মান রক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।’

প্রসঙ্গত,গত ৩ মে একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে হিংসার ঘটনার সূত্রপাত উত্তরপূর্বের এই রাজ্যে৷ মেইতেই জনজাতিকে তফশিলি উপজাতিভুক্ত করার বিরোধিতা করছে কুকি সম্প্রদায়৷ আর এ নিয়ে একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনা ঘটছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে৷ তারপর থেকে প্রায় তিন মাস হতে চলল৷ এই প্রথম কংগ্রেস নেতা অশান্ত মণিপুরের অবস্থা নিজের চোখে দেখতে যাচ্ছেন৷ বর্তমানে মণিপুরে রাজ্যজুড়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ৩০০ টিরও বেশি ত্রাণশিবিরে বাস করছেন৷ ৩ মে পাহাড়ে ‘ট্রাইবাল সলিডারিটি মার্চ’ হচ্ছিল৷ মেইতেই জনজাতিকে তফশিলি উপজাতির স্বীকৃতি যাতে না-দেওয়া হয়, তার প্রতিবাদে এই মিছিল হচ্ছিল৷ সেখানে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে৷ মেইতেইরা মণিপুরের জনসংখ্যার ৫৩ শতাংশ এবং তারা ইম্ফলের উপত্যকায় বাস করে৷ এদিকে আদিবাসী নাগা ও কুকিরা জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ৷ তারা সাধারণত পাহাড়ি জেলাগুলিতে থাকে৷ মণিপুরে সংঘর্ষের কারণে ইতিমধ্যে প্রায় ১৪৫জনের প্রাণ গিয়েছে। আহত অসংখ্য। এলাকা ছাড়া প্রায় ৫০ হাজার পরিবার। প্রাণ রক্ষায় আশপাশের রাজ্যে পালিয়েছে বহু পরিবার। হিংসার আগুনে পুড়েছে প্রায় ২৫০টি গির্জা এবং ১৭টি মন্দির।


More Stories
শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের দুটি দাবি মেনে নিল কেন্দ্রীয় সরকার
কুণাল-কল্যাণ :কলকাতায় চ্যাংদোলা, দিল্লিতে সাসপেন্ড
শিক্ষা দুর্নীতিকে গুরুতর পাপ বলার পরেও বিরোধীদের কাঠগড়ায় প্রধানমন্ত্রী