Home » কিডনির অসুখ নিয়ে অসম লড়াই, বঙ্গের এক অসহায় দুর্গার নাম অজন্তী হাজরা

কিডনির অসুখ নিয়ে অসম লড়াই, বঙ্গের এক অসহায় দুর্গার নাম অজন্তী হাজরা

সময় কলকাতা ডেস্ক,২১ আগস্ট :দুর্গাপুজো আসছে। কাশফুলের বনে দোলা দেবে, শিউলি ফুল ঝরে পড়বে। আকাশে পেঁজা তুলোর মত মেঘ। সোনালি রোদ্দুর আসবে।  বঙ্গে দুর্গার বোধন হবে।দুর্গার মৃন্ময়ী রূপে ধরণী হবে উজ্জ্বল ।আর এত কিছুর মধ্যে ঘরে ঘরে যে দুর্গারা বাস করেন ,তাঁরা তাঁদের জীবন বৃত্তে স্বাভাবিক থেকে তাঁদের দৈনন্দিন  কাজ করে চলবেন। অনেকের কাজের মহিমা খালি চোখে ধরা পড়ে না। আমরাও ঘরের দুর্গামাকে পূজন-আরাধন করতে ভুলে যাই। তবুও তাঁরা অনন্যা। সময়ের দুর্গা তাঁরাই। তাঁরা অনেকেই অসহায়। এরকম এক মা দুর্গার বাস ময়নাগুড়িতে যিনি স্বগুণে ও সীমিত সাধ্যে দশভুজা, নাম তাঁর অজন্তী হাজরা। ষাটের কোঠায় বয়স, কিডনির অসুখ নিয়ে স্রেফ মনের জোরে  অসহায় এক দুর্গা অজন্তী হাজরা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ।তাঁর অসম লড়াই -প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে।

ময়নাগুড়ির অজন্তী হাজরা দেশের ও দশের জন্য অসামান্য কিছু করেন নি।তিনি বিজ্ঞানী নন, চিকিৎসক নন, কোনও গবেষণা করেন নি কোনওদিন,তিনি কবি বা সাহিত্যিক নন, গায়িকা নন, রাজনৈতিক দলের নেত্রী নন।তিনি যা করছেন নিজের ঘরের দুটি শিশুকে মানুষ করার চেষ্টা করছেন। তাঁর মেয়ের দুই সন্তানকে। চলতে ফিরতে কষ্ট হয়, কিডনির সমস্যা ধরা পড়েছে বহুদিন আগেই, নিজের দিন চলে না, তবুও দুই নাতনি লক্ষী ও আরাধ্যার ভরণ পোষণ করছেন। সঙ্গতি থাকলে কথা ছিল না, তিনি দেবী না হয়ে মানবী থেকে যেতেন, অনেকেই নিজেদের উত্তর পুরুষকে প্রতিপালন করেন।ময়নাগুড়ির আমগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের হাজরা পরিবারের দিদা ও নাতনিদের ইতিহাস তো গোলাপের কাহিনী নয়।

ধাইধাইঘাট এলাকার অজন্তী মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন নিজের যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর বিক্রি করে। সামান্য বাঁশ, টিন আর মাটি দিয়ে তৈরি বাড়ি টুকু সম্বল হিসেবে অবশিষ্ট ছিল। রোগের চিকিৎসা হয় না অর্থের অভাবে।তবুও দিন চলছিল।আচমকা পট পরিবর্তন হতে থাকল মেয়েকে ঘিরে।কিন্তু মেয়ে গৌরী বিয়ের পরে সুখী হয় নি। স্বামী নেশাসক্ত হওয়ায় সব খুইয়ে মায়ের বাড়িতে ওঠে স্বামী ও দুই কন্যা নিয়ে। অল্পদিনেই স্বামী নেশার কারণে ভবঘুরে হয়ে চলে যাওয়ার পরে মেয়েও পরপুরুষের হাত ধরে দেশান্তরী হয়।

দুটি নাবালিকার ভার এসে পড়ে অসুস্থ এক বৃদ্ধার কাঁধে।তাতে কী? দমে যান নি অজন্তী হাজরা। বাড়িতে বসে থাকেন নি আর।ষাটের কোঠায় বয়স,অশক্ত শরীরে কিডনির সমস্যাকে ভুলে গিয়ে অদম্য লড়াই শুরু করেন অসহায় অজন্তী।শুয়ে বসে না থেকে অসুস্থ শরীরে লোকের বাড়িতে কাজ করতে থাকেন।লোকের বাড়িতে কাজ করে যে দুটো পয়সা আসে তাতে নিজের খাওয়া পরা,ওষুধ না জুটলেও নাতনিদের বাঁচিয়ে রেখেছেন, তাঁদের পড়ার খরচ জোগাচ্ছেন।তবুও সময়কেই ভয় সময়ের দুর্গা অজন্তীর। শরীরে যে রোগ বাসা বেঁধেছে তার চিকিৎসা করা হয় না অর্থাভাবে । যদি তিনি না থাকেন কী হবে দুটি নাবালিকার! তাঁদের মুখ চেয়ে বাঁচতে চাইছেন তিনি, এদিকে দিনে দিনে খরচ বাড়ছে – দিনে দিনে লড়াই বাড়ছে। একরাশ দুশ্চিন্তা নিয়ে ছুটে চলেছেন সময়ের দুর্গা অজন্তী হাজরা।অশুভ সংহারে দূর্গাকে দশটি অস্ত্র দিয়ে বিষ্ণু,মহাদেব, বরুণ ইন্দ্র প্রমুখ দেবতারা সাহায্য করেছিলেন। বিপদ সংহারে অজন্তীর পাশে কেউ নেই।স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য  গোবিন্দ রায় মৌখিক অশ্বাস দিয়েছেন নিশ্চয়তা দেন নি। অনিশ্চয়তা মুঠোয় করেই লড়াই চলছে ময়নাগুড়ির দুর্গার।।

About Post Author