সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩সেপ্টেম্বর : বদলার ম্যাচ নাকি ক’দিন আগের সাক্ষাৎকারের জয় ধরে রাখার ম্যাচ? আর কয়েক ঘন্টা বাদেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। তার আগে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। ১৩২ তম ডুরান্ড কাপ ফাইনালে টক্কর হবে ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগানের। যে জিতবে তাদের তাঁবুতে এবার নিয়ে ১৭ বার শোভা পাবে ডুরান্ড কাপ। দুই বড় দলের টিম ম্যানেজমেন্ট, কোচ ও কোচিং স্টাফরা জানেন, সমর্থকদের কাছে রানার্স আপ হওয়ার কোনও মূল্য নেই। মূল্য নেই পরিসংখানের যে পরিসংখ্যান বলে দু দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে ডুরান্ড কাপে এগিয়ে আছে ইস্টবেঙ্গল। উল্লেখ্য,২০০৪ সালের ডুরান্ড ফাইনালে মোহনবাগানকে ২-১ গোলে হারিয়ে দুদলের ডুরান্ড ফাইনালে শেষ সাক্ষাৎকার জিতে নিয়েছি ইস্টবেঙ্গল। ২০২৩ সালের ফাইনালের চিত্র পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করা যায় না। দু দলই তাদের সর্বশক্তি নিয়ে ঝাপাবে। মোহনবাগান এই টুর্নামেন্টে ইস্টবেঙ্গলের কাছে একবার হেরেছে, ফলে এই ম্যাচ তাদের কাছে বদলার ম্যাচ। আর ইস্টবেঙ্গল জানে চার বছর পরে ডুরান্ড কাপে এসে গ্রুপ স্টেজে জয় যে ফ্লুক ছিল না তা প্রমাণ করতে হবে। সবকিছুর উর্দ্ধে ডার্বি ফাইনাল মর্যাদার লড়াই। জিততে হবে যে কোনও মূল্যে। কোন দল এগিয়ে? ইস্টবেঙ্গল নাকি মোহনবাগান?
চোখ বন্ধ করে বলা যায় যে, এবছর ইস্টবেঙ্গলের পারফরমেন্স বিগত তিন বছরের তুলনায় ভালো হলেও, ইস্টবেঙ্গল দলের শক্তি আগের চেয়ে অনেকটা বৃদ্ধি পেলেও শক্তির নিরিখে অনেকটাই এগিয়ে আছে মোহনবাগান। অবশ্যই কাগজে কলমে এই ফারাক রয়েছে কারণ ৭০ কোটি টাকার দলের সঙ্গে ৩০ কোটি টাকার দলের ভারসাম্যগত পার্থক্য থাকবেই। তাছাড়া মোহনবাগান দলের অধিকাংশ প্লেয়ার একসঙ্গে দীর্ঘদিন খেলে এসেছেন। যারা নতুন দলে এসেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ের টুর্নামেন্ট খেলার অভিজ্ঞতা। তবুও ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগান ম্যাচে আগে থেকে ভবিষ্যৎবাণী করা খুব শক্ত। ম্যাচের টেম্পারমেন্ট বুঝে যে দল নিজের হাতে ম্যাচের রাশ নিতে পারবে, শেষ হাসি হাসবে তারাই। ইস্টবেঙ্গল দলের যতটা শক্তি আছে তাকে সুসংহত ও সুসংবদ্ধ করেছেন এই মরশুমের কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাত।
দুদলের প্রাক্তনীরা মুখিয়ে আছেন ম্যাচের ফলাফলের দিকে। প্রাক্তন নাইজেরিয় তারকা চিডির বাজি লাল হলুদ। সবুজ তোতা ব্যারেটো আবার ডুরান্ড কাপ চেয়েছেন কামিংসদের কাছে। এনিয়েও সন্দেহ নেই কামিংস, সাদিকু, পেট্রাটোস, মনবীর প্রত্যেকেই গোল করার ক্ষেত্রে ক্ষুরধার। আশিক কুরুনিয়ন , সাহাল, অনিরুদ্ধ থাপা বা লিস্টন কোলাসো রয়েছেন মাঝমাঠে। রয়েছেন হুগো বুমোসের মত প্লে মেকার প্লেয়ার। ডিফেন্স নিয়ে কিছু প্রশ্নচিহ্ন থাকলেও শুভাশীষ বোসের মত ডিফেন্ডার রয়েছেন। মোহনবাগানের যা দল সেই দল থেকে দুটি প্রথম সারির দল খেলাতে পারেন কোচ।
ইস্টবেঙ্গল এতটা শক্তিশালী না হলেও নাওরেম মহেশ বা নন্দকুমার আছেন যারা উইং দিয়ে বিপক্ষের বিপদ ডেকে আনতে পারেন। ফরওয়ার্ড লাইনে গোল গেটার হিসেবে সিভেরিও এবং ক্লেটন ডি সিলভা আছেন। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার অথচ ভালো ডিস্ট্রিবিউশনের ক্ষমতা সম্পন্ন সাওল ক্রেসপো আছেন। সৌভিক এবছর আবার পুরোনো ফর্মে।রক্ষণে ভরসা দিচ্ছেন প্রবীণ হরমোনজোত খাবরা। খারাপ খেলছেন না অস্ট্রেলিয়ান এলসে। নিশু কুমার বা মন্দার রাও রয়েছেন ডিফেন্সে। তবুও মোহনবাগানের শক্তিশালী অ্যাটাক ৯০ মিনিট ধরে প্রতিহত করা বিরাট চ্যালেঞ্জ।
ইতিমধ্যেই বাক-যুদ্ধে জড়িয়েছেন দুদলের কর্মকর্তারা । তাঁরা নিশ্চিতভাবেই ম্যাচের ফ্যাক্টর হতে পারেন না। ম্যাচের ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে দুদলের কোচের মগজাস্ত্র। কুয়াদ্রাত নাকি ফেরান্দো কে দিতে পারবেন কিস্তিমাত করার চাল? যাই হোক না কেন, মোহনবাগানের কাছে বদলার ম্যাচে মোহনবাগান জিতলে গ্রুপ লিগে ইস্টবেঙ্গলের জয়ের কথা কেউ মনে রাখবে না। অন্যদিকে, এও সত্যি যে,ইস্টবেঙ্গল জিতলে এবার ইস্টবেঙ্গলকে নিয়ে সর্বভারতীয় সব দলই রীতিমত দুশ্চিন্তায় পড়বে। ফাইনালের ফলই বলবে শেষ কথা। কে না জানে ফাইনালের আপ্তবাক্য – জো জিতা ওহি সিকান্দার!


More Stories
ইনিংস ও ৩০০ রানে জয় ভারতের
স্বপ্নের অভিষেক, সুতারে ধরাশায়ী আফগানিস্তান
অভিষেকে মানব যেন মহামানব, আফগানিস্তান বিপাকে