সময় কলকাতা ডেস্ক,১৮ সেপ্টেম্বর :একতায় ভাঙনের আগেই অনুমান করা হয়েছিল,এরকম আঘাত আসতে পারে সেরকম অনুমেয় ছিল আর ঠিক সেই পথে ইন্ডিয়া জোট শিবিরের ঐক্যে আপাতদৃষ্টিতে ধাক্কা খেল ।বিরোধী ব্লকের জন্য একটি আঘাত এল সিপিআই-এম-এর সিদ্ধান্তে। একটি দলীয় সর্বগৃহীত সিদ্ধান্তে বাংলা এবং কেরালায় জোটের বিরুদ্ধে অবস্থানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিপিআই-এম , যেখানে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের অংশীদার মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল এবং কংগ্রেস।উপরন্তু, বিজেপি-বিরোধী ফ্রন্টের সমন্বয় সভায় কোনও প্রতিনিধির নাম না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।এখন দেখার এতে লোকসভা ভোটকে সামনে রেখে বিরোধী জোটের ভাবনায় কতটা ধাক্কা আসে !
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন,সিপিএম বাংলায় “বিজেপি এবং তৃণমূল উভয়ের থেকে” দূরত্ব বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা বিরোধী জোটের ত্রুটির কোথাও না কোথাও প্রতিফলন ঘাটাবে। আগামী বছর জাতীয় নির্বাচনে বিজেপিকে পরাজিত করার প্রয়াসে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করার লক্ষ্য রাখে ইন্ডিয়া জোট এবং জোটে রয়েছে তৃণমূল, বাম ও কংগ্রেস। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা,এক্ষেত্রে সিপিআই-এম সিদ্ধান্ত কিছুটা হলেও জোটের ভাবনায় আঘাত হানছে।বিরোধী ভোটের বিভাজন রোধ করতে সপ্তাহান্তে দিল্লিতে সিপিএমের পলিটব্যুরোর বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজ্যসভার প্রাক্তন সদস্য পলিটব্যুরোর সদস্য নীলোৎপল বসু বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত “জোট গঠনের সম্ভাবনাকে অস্বীকার করে না।” আবার তিনি এও বলেছেন,”ভেদ আছে (ভারত ব্লকের মধ্যে), এবং এটি একটি বাস্তবতা।” অর্থাৎ ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনকে লক্ষ্য রেখে একদিকে জোট গঠনে সম্ভাবনা থাকলেও ভাবনায় কিছু নীতিগত ফারাক থাকার কথা মেনে নেওয়া হয়েছে যা দূর করা সম্ভব নয়।
“বেঙ্গালুরু ইন্ডিয়া ব্লকের বৈঠকের আগে, সীতারাম ইয়েচুরি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে পশ্চিমবঙ্গে, আমরা মনে করি লড়াইটি হবে বিজেপি এবং তৃণমূল উভয়ের বিরুদ্ধেই, কেরালায় ইউডিএফ এবং এলডিএফের মধ্যে লড়াই হবে৷ আপনি নির্বাচনী সমন্বয় করতে পারবেন না৷
জাতীয় স্তরে, এটি শুধুমাত্র রাজ্য স্তরে ঘটতে পারে,”নীলোৎপল বসু জানান ।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, সিপিএম গত সপ্তাহে ভারত সমন্বয় কমিটির বৈঠকে যোগ দেয়নি, ১৪ সদস্যের প্যানেলে একটি আসন খালি রাখা হয়েছিল। অন্যদিকে, বামপন্থীদের সিদ্ধান্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অস্থিরতা কমাবে কারণ বাম নেতাদের সাথে একই মঞ্চ ভাগ করে নিয়ে রাজনৈতিক প্রচারের ক্ষেত্রে তাঁর স্পষ্ট অস্বস্তি থাকা স্বাভাবিক। তবুও সেটুকুই সব নয় এবং বৃহত্তর স্বার্থ নয়। সিপিআই-এমের সিদ্ধান্ত সার্বিকভাবে জোট ভাবনায় কতটা প্রভাব ফেলতে পারে তা সময়ই বলে দেবে।
আরও পড়ুন শিবমন্দিরে নামাজ পাঠ, উত্তরপ্রদেশে গ্রেফতার ৩


More Stories
শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার জয়প্রকাশ
বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি তৃণমূল থেকে বহিস্কৃত ঋতব্রতকে
অভিষেকের দুয়ারে ইডি