“আমার দুর্গা পথে প্রান্তরে স্কুল ঘরে থাকে,
আমার দুর্গা বিপদে আপদে আমাকে মা বলে ডাকে।
আমার দুর্গা আত্নরক্ষা শরীর পুড়বে, মন না।
আমার দুর্গা নারী গর্ভের রক্ত মাংস কন্যা।
আমার দুর্গা গোলগাল মেয়ে, আমার দুর্গা তন্বী।
আমার দূর্গা কখনও ঘরোয়া, কখনো আগুন বহ্নি।”
সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৯ অক্টোবর: গ্রামের এমন দুর্গাদের চর্যাপদ চর্চা যারা শিউলিঝরা ঘাসবন দিয়ে ছুটে চলে কোমল পায়ে,অবাক ও মুগ্ধ বিস্ময়ে কাশবন আর শরতের পৃথিবী দেখে আর তাদের প্রত্যেকেই নারীশক্তির ক্ষমতায়নের প্রতীক। যে সময় দেবী মর্ত্যলোকে আসেন সেসময় মাটির পৃথিবীর এক কোণে,দুর্গাপুরের হর্ষবর্ধন রোডে এক ঝাঁক দুর্গাদের ও তাঁদের স্বপ্ন নিয়ে শারদীয়া উৎসব উদযাপনে ব্রতী এক নারীশক্তিকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে শহরের ক্যানভাসে গ্রামের দুর্গা।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন –
“তোমার পূজার ছলে তোমায় ভুলেই থাকি। বুঝতে নারি কখন্ তুমি দাও-যে ফাঁকি॥ ফুলের মালা দীপের আলো ধূপের ধোঁওয়ার। পিছন হতে পাই নে সুযোগ চরণ-ছোঁওয়ার, স্তবের বাণীর আড়াল টানি তোমায় ঢাকি॥”
আরও পড়ুন দুর্গাপুরের যৌনপল্লী থেকে উদ্ধার প্রতিবেশী দেশের নাবালিকা
মণ্ডপের মা দুর্গা মৃন্ময়ী। আমরা দুর্গাদের ভুলেই থাকি।আমাদের নিত্যকার জীবনে আমাদের দুর্গারা থাকেন আমাদের গৃহে, প্রতিটি কর্মস্থানে। প্রতিটি মানবীর মধ্যে রয়েছেন দুর্গা যারা ইতিহাসে, বাস্তবে, কাহিনীতে কোনঠাসা হয়ে থেকেছেন সীতা,কুন্তী,খনা, রূপ কানোয়ার হয়ে । এমনকি বিভূতিভূষণের দুর্গাও তাঁর ব্যতিক্রম নয়। গ্রামের রক্তমাংসের দুর্গাদের অন্য চোখে দেখেছেন এক মানবী যার চোখেও মানবী থেকে দেবীত্বে যাত্রার স্বপ্ন। তাঁর নাম সোমা চৌধুরী। রক্তমাংসের দুর্গারা বাস্তবকে চলচ্চিত্রে রূপায়িত হতে দেখে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে থেকেছে ,বহুবার দেখেছেন মেকআপ আর্টিস্ট সোমা চৌধুরী। তিনি উমাবরণের কারিগর। তিনি ও এক দুর্গা। তাঁর সাথে মিশেছে সহস্র দুর্গার স্বপ্ন।দুর্গাদের প্রতিদিনের সংগ্রামে ভরা জীবনে উৎসব নিয়ে আসে এক চিলতে আনন্দ। গ্রামের মেঠো পথ দিয়ে আলতো পায়ে ছুটে চলা পথের পাঁচালীর দুর্গা যেভাবে ট্রেন দেখেছিল অচেনার আনন্দ নিয়ে, সেভাবেই ডাগর চোখে বাংলার গ্রামে গঞ্জে ছড়িয়ে থাকা দুর্গারা দেখে থাকে শুটিং এর মহড়া।
আরও পড়ুন ৫১৪ বছরে জলপাইগুড়ির বৈকুন্ঠপুর রাজবাড়ির দুর্গাপুজো
তাঁদের কৈশোর আর মেয়েবেলার বিস্ময় চাপা থাকে না। তাদেরও স্বপ্ন জাগে। উৎসবের দিনে গ্রামের দুর্গাদের মেকআপের ছোঁয়ায় সাজিয়ে আরও নান্দনিক করে তুলেছেন।দুর্গাপুরের হর্ষবর্ধন রোড হয়ে উঠেছে মানবী দুর্গাদের স্বপ্নপূরণের ক্যানভাস। কিশোরী দুর্গাদের মুগ্ধতা আর এক তরুণী দুর্গার ভাবনার মিশেলে মানবী দুর্গাদের দেখা মিলেছে গৌরী রূপে। ঘরের কন্যা, স্ত্রী ও জননীদের মধ্যে নিত্য দেবীরূপ বিরাজ করছে তা অন্য আঙ্গিকে দেখিয়েছেন সোমা চৌধুরী। তথাপি উৎসবের দিনের সঙ্গে প্রতিদিনের জীবনের ফারাক থাকে এই দুর্গারূপী মানবীদের প্রতিদিন দেবীরূপে দেখতে ভুলে যাওয়ার মধ্যে। তাই দুর্গাপুরের নারীদের দেখার পরে কবি মল্লিকা সেনগুপ্তের ভাষায় বলতে হয়,
“জাগো মা জাগো মা আজও অসুর দলনী /আজ বলো সেই কথা যে কথা বলো নি। / জাগাও তোমার যত কন্যাদের ও মা/ জাগো সাধারণ মেয়ে দেবীর উপমা ”
“আমার দুর্গা ত্রিশূল ধরেছে, স্বর্গে এবং মর্ত্যে।
আমার দুর্গা বাঁচতে শিখেছে নিজেই নিজের শর্তে।”
বহু-উমাবরণ করে নেওয়া এক দুর্গার শিল্পগুণে উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে পশ্চিম বর্ধমানের শিল্পনগরী। সোমা ও উমার মেলবন্ধনে দুর্গাপুরের মানবী দুর্গাদের মধ্যে দিয়ে পুজোর লগ্ন হয়ে উঠেছে সার্থক। দুর্গাদের মধ্যে যেন “আশ্চর্য মানবী দেবীর মুখোশে”, আর এখান থেকেই যেন মানবী থেকে দেবীত্বে যাত্রা শুরু।।


More Stories
সাত-বউ, পাঁচটি রাজপ্রাসাদ শ্রীরামপুরের কাউন্সিলর টাইগারের!
তৃণমূলের শ্বাসকষ্টের আরেক শিকার অভিষেক ঘনিষ্ঠ শুভ্রকান্তির পদত্যাগ
অর্জুন সিংকে ‘চমকানো’ বনিকে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরালো পুলিশ