Home » ঘুষের বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন মামলায় প্রকাশ্যে কেন্দ্রের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট

ঘুষের বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন মামলায় প্রকাশ্যে কেন্দ্রের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৪ নভেম্বরঃ ঘুষের বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন মামলায় এবার প্রকাশ্যে এল নয়া তথ্য। তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্রের সংসদের লগইন আইডি শুধুমাত্র দুবাই থেকেই নয়, নিউজার্সি ও বেঙ্গালুরু থেকেও ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই সময় মহুয়া উপস্থিত ছিলেন কলকাতা ও তারপর উপস্থিত ছিলেন দিল্লিতে। এবার ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজির মন্ত্রকের লগ থেকে এমনটাই জানা গেল। ইতিমধ্যেই মহুয়া মৈত্রর পদ খারিজের সুপারিশ করেছে লোকসভার এথিক্স কমিটি। এবার আরও কড়া হচ্ছে সংসদীয় ওয়েবসাইটে লগ ইনের নিয়ম। জানা গিয়েছে, কোনও ভাবেই তৃতীয় পক্ষ যেন ওই ওয়েবসাইটে ঢুকে কোনও সাংসদের তরফে প্রশ্ন করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে এবার থেকে একটি ওটিপিও সংশ্লিষ্ট সাংসদের রেজিস্টার্ড মোবাইলে পৌঁছবে। একমাত্র সেই ওটিপি দিয়েই ওই ওয়েবসাইটে ঢোকার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা যাবে।

আরও পড়ুন     শিক্ষামুলক ভ্রমণে গিয়ে ওড়িশায় জলপ্রপাতে ভেসে গেল আশুতোষের ছাত্র

প্রসঙ্গত, মহুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিজের লগ ইন আইডি ও পাসওয়ার্ড অন্য কারওকে দেওয়ার। দুবাই থেকে পাসওয়ার্ড দিয়ে সাংসদের ইমেল অ্যাকাউন্টে লগ ইন হওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলায় এথিক্স কমিটির সামনে মহুয়া জানিয়েছিলেন, তাঁর বলে দেওয়া প্রশ্ন অন্য অফিসের এক কর্মীকে দিয়ে তিনি টাইপ করিয়েছিলেন। যতবার তিনি প্রশ্ন তৈরি করেছিলেন, ততবারই অ্যাকাউন্টে লগ ইন করে প্রশ্ন টাইপ করা হয়েছে। আর তাঁর এই বক্তব্য থেকেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। কেন সাংসদ নিজের ইমেল আইডি, পাসওয়ার্ড অন্য কাউকে দিলেন? কেন বিদেশ থেকেও লগ ইন? এই প্রশ্ন জোরালো হওয়ার মাঝেই এবার সংসদের ওয়েবসাইটে লগ ইনের নিয়মে বদল আনার কথা জানা গেল। অন্যদিকে, সংসদে প্রশ্ন মামলায় আসতে চলেছে বড় বদল। এবার থেকে সাংসদদের হয়ে সংসদে প্রশ্ন করতে পারবেন তাঁদের আপ্তসহায়ক। সংসদে অধিবেশন চলাকালীন কোনও প্রশ্ন করতে হলে তা সাংসদকেই লিখতে হবে। সাংসদদের আপ্তসহায়করা অনলাইনে প্রশ্ন জমা দিতে পারবেন। আপ্তসহায়কদের এই অধিকার অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

 

জানা গিয়েছে সংসদে প্রশ্ন করতে হলে সাংসদদের নিজেদেরই করতে হবে। আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে এই নয়া নিয়ম চালু হতে পারে বলেই জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই এথিক্স কমিটি মহুয়া মৈত্রর ‘কঠোর শাস্তির’ সুপারিশ করছে। মহুয়ার ব্যাপারে ৫০০ পৃষ্ঠার খসড়া রিপোর্ট তৈরি করেছে। এই রিপোর্ট তৈরির জন্য কমিটির চেয়ারম্যান বিনোদ সোনকার সংবিধান বিশেষজ্ঞদেরও সাহায্য নিয়েছেন বলে খবর। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, সংসদ থেকে অবিলম্বে মহুয়াকে বহিষ্কার করা উচিত। আর কেন্দ্রের সরকারের উচিত মহুয়ার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত শেষ করা। মহুয়ার বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সাংবিধানিক সংস্থা লোকপাল। অর্থাৎ এথিক্স কমিটি যে সুপারিশ করতে চলেছে, তার প্রক্রিয়া এক প্রকার শুরুও হয়ে যায়। তবে, এথিক্স কমিটির খসড়া রিপোর্ট এটি। এথিক্স কমিটির বৈঠকেই এই খসড়া রিপোর্ট পেশ করা হয়। তার পর সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে ওই রিপোর্ট বৈঠকে পাশ করানো হয়।

About Post Author