সময় কলকাতা ডেস্ক, ১২ ডিসেম্বর: আত্মঘাতী হামলায় ফের রক্তাক্ত পাকিস্তান। উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের একটি পুলিশ স্টেশনে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। সূত্রের খবর, পুলিশের সঙ্গে এখনও গুলির লড়াই চলছে জেহাদিদের। পুলিশ সূত্রে খবর, খাইবার পাখতুনখোয়ার প্রদেশের ডেরা ইসমাইল খান এলাকার থানায় ঢুকে তাণ্ডব চালায় দুষ্কৃতীরা। জঙ্গিদের নিকেশ করতে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে পাক নিরাপত্তাকর্মীরা। বোমা বিস্ফোরণে ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। আহত হয়েছেন একাধিক। পাক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়ার প্রদেশে হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। ইতিমধ্যেই হামলার দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তানের অন্যতম সন্ত্রাসী সংগঠন তেহরিক-ই-জিহাদ। সূত্রের খবর, জঙ্গিরা একটি বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি থানার গেটের সামনে দাঁড় করিয়ে রেখে গুলি চালাতে শুরু করে।
আরও পড়ুন AFC CUP: মুর্তাদা ফলের দুরন্ত গোল, এএফসি কাপে বসুন্ধরাকে হারিয়ে নয়া ইতিহাস ওড়িশা এফসির
এর আগেও গত জুলাই মাসে রাজনৈতিক সভা চলাকালীন জোরাল বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশ। এই ঘটনায় ৩৯ জনের মৃত্যর খবর পাওয়া গিয়েছিল। গুরুতর জখম হয়েছিলেন ১৪৪ জন। জানা গিয়েছে, রাজনৈতিক সভামঞ্চে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন স্থানীয় এক নেতা। সেসময় আচমকাই জোরাল বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশ। গোটা ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন বিদেশমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচনের প্রচারের জন্য খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জামিয়াত উলেমা ইসলাম-ফাজলের সভার আয়োজন করা হয়েছিল। যার কারণে ওইদিন বহু মানুষ সভাস্থলে উপস্থিত হয়েছিল। এরপর সভা চলাকালীন হঠাৎই বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে সভা এলাকা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় অন্তত ৩৯ জনের। গুরুতর জখম হন শতাধিক মানুষ। এই বিস্ফোরণের নেপথ্যে জঙ্গিদের হাত রয়েছে বলেই দাবি জামিয়াত উলেমা ইসলাম-ফাজল প্রধান মৌলানা ফাজলুর রেহমানের।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের মাটিতে লাগাতার নাশকতা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরিক-ই-জিহাদ। পাক প্রশাসনের অভিযোগ, টিটিপি জঙ্গিদের মদত দিচ্ছে তালিবান। পাকিস্তানে হামলা চালিয়ে আফগানিস্তানে আশ্রয় নিচ্ছে এই জঙ্গিরা। যদিও ইসলামাবাদের এই অভিযোগ মানতে নারাজ আফগানিস্তানের তালিবান সরকার। তালিবান মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন পাক মদতপুষ্ট হক্কানি গোষ্ঠী। যদিও হক্কানিদের একেবারেই পছন্দ করে না তালিবান। কার্যত সেই কারণেই কিছুদিন পর পরই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ লেগেই চলেছে। আর পাকিস্তানিদের এই খেসারত দিতে হচ্ছে রক্তের বিনিময়ে।


More Stories
সীমান্ত সমস্যা সমাধানে শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষিত দ্রুত পদক্ষেপে কোন বার্তা?
ভিনগ্রহী তত্ত্ব প্রমাণে ১৬২টি নতুন ফাইল প্রকাশিত
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার