সময় কলকাতা ডেস্ক, ২১ ডিসেম্বর: বিচারপতি অমৃতা সিনহার স্বামী প্রতাপচন্দ্র দে’র তোলা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করল সিআইডি। বৃহস্পতিবার প্রেস নোট জানায় সিআইডি। সিআইডি জানিয়েছে, প্রতাপচন্দ্র দে সিআইডির ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা করছেন। প্রসঙ্গত, কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী প্রতাপচন্দ্র দে সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপালকে চিঠি দিয়ে জানান, জিজ্ঞাসাবাদের নাম করে তাঁকে ‘হেনস্থা’ করছে সিআইডি। গত সপ্তাহেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রতাপচন্দ্র দে-কে ডেকে পাঠিয়েছিল সিআইডি। বিচারপতি সিনহার স্বামী প্রতাপচন্দ্রের অভিযোগ, সিআইডি তাঁকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের নামে কার্যত হেনস্থা করেছে। দীর্ঘক্ষণ না খেতে দেওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি ওষুধ খেতে চাইলে তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন আইনজীবী। তবে সিআইডি প্রেস নোট দিয়ে জানিয়েছে, প্রতাপবাবু সিআইডির ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। তদন্তের লক্ষ্যভ্রষ্ট করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও প্রেস নোটে অভিযোগ সিআইডির। তদন্ত প্রক্রিয়ার অডিয়ো-ভিডিয়ো রেকর্ড করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজও রয়েছে। সিআইডির দাবি, জিজ্ঞাসাবাদপর্বে প্রতাপবাবুকে চা-জল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে যথেষ্ট ভাল ব্যবহারও করা হয়েছে। তদন্তের ক্ষেত্রে প্রয়োজন এমন প্রশ্নের বাইরে যাওয়া হয়নি বলেও প্রেস বিবৃতিতে দাবি সিআইডির।
আরও পড়ুন কলকাতার রাজপথে ডিএ আন্দোলনকারীদের শর্তসাপেক্ষে সভা করার অনুমতি হাইকোর্টের
এদিকে, বৃহস্পতিবারই স্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা বয়ান দিতে চাপ দেওয়ার জন্য অভিযোগ তুলে চিঠি দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহার স্বামী প্রতাপচন্দ্র দে-র। একইসঙ্গে সিআইডির বিরুদ্ধে মানসিক নিগ্রহের অভিযোগও তুলেছিল বিচারপতি সিনহার স্বামী। অভিযোগ তুলে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখলেন তিনি। যদিও এবিষয়ে তিনি আগেই কলকাতা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অ্যাসোসিয়েশনকেও চিঠি দিয়েছিলেন। এদিকে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২২ ডিসেম্বর অর্থাৎ আজই তাঁকে ভবানী ভবনে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকী তাঁর ফোনও জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেই খবর। এর আগে গত শনিবার বেলা ১১টায় ভবানী ভবনে হাজিরা দেন তিনি। ওইদিন ভবানী ভবনে দীর্ঘ ন’ঘণ্টা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। এবার ফের তলব করা হল।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ষাটোর্ধ্ব এক বিধবা এবং তাঁর মেয়ে অভিযোগ করেন, আইনত পৈতৃক সম্পত্তি পেলেও তাঁর দাদার পরিবার তা থেকে তাঁকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করছে। তাঁর আরও অভিযোগ, মারধরও করা হয় তাঁকে। যার প্রমাণ রয়েছে সিসিটিভি ফুটেজে। তিনি আত্মীয়দের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন। তাঁর আত্মীয়দের হয়ে মামলা লড়ছিলেন বিচারপতির স্বামী। বৃদ্ধার দাবি, স্ত্রীর পদমর্যাদা কাজে লাগিয়ে তদন্তে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন আইনজীবী। বৃদ্ধার আরও অভিযোগ, বিচারপতির দফতরে ডেকে পাঠানো হয় তদন্তকারীকে। তাঁকে রীতিমতো ধমক দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ বৃদ্ধার। এই অভিযোগের তদন্ত এবং নিজের পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে ওই বৃদ্ধা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। জানা গিয়েছে, অভিযোগকারিণী সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থও হন। সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত। পরে অবশ্য এই মামলায় বাড়তি পদক্ষেপ করা যাবে না বলেই জানায় সুপ্রিম কোর্ট। ডিসেম্বরের শুরুতে আদালত জানিয়ে দেয়, অভিযোগের নিষ্পত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা যাবে। এর পরই পদক্ষেপ নেয় সিআইডি।


More Stories
গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার দুই কাউন্সিলর
আরজিকর কাণ্ডের আইনি ফাঁসে রচনা
গ্রেফতারির ভয়ে আগাম জামিনের আবেদন অরূপ বিশ্বাসের