Home » কলকাতার রাজপথে ডিএ আন্দোলনকারীদের শর্তসাপেক্ষে সভা করার অনুমতি হাইকোর্টের

কলকাতার রাজপথে ডিএ আন্দোলনকারীদের শর্তসাপেক্ষে সভা করার অনুমতি হাইকোর্টের

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২১ ডিসেম্বর: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। শেষমেশ ডিএ আন্দোলনকারীদের নবান্ন বাসস্ট্যান্ডে শর্তসাপেক্ষে সভা করার অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা জানান, ৭২ ঘণ্টার বেশি ধর্নার কর্মসূচি করা যাবে না। একইসঙ্গে ৩০০ জনের বেশি উপস্থিত থাকতে পারবেন না সেখানে। যদিও এ নিয়ে রাজ্যের পক্ষে আপত্তি তোলে রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক কার্যালয় নবান্ন। এদিন বিচারপতি জানান, রেড রোডে বা যেখানে ১৪৪ ধারা জারি, সেখানে রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হলে, এখানে নয় কেন। বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট শর্তসাপেক্ষে সেই কর্মসূচি করার অনুমতি দিল। আগামী ২২, ২৩ এবং ২৪ ডিসেম্বর অর্থাৎ শুক্রবার থেকে রবিবার নবান্ন বাসস্ট্যান্ডের সামনে কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথমঞ্চ।

আরও পড়ুন   সংসদ চত্বরে উপরাষ্ট্রপতিকে বিদ্রুপ কল্যাণের, এবার মুখ খুললেন জগদীপ ধনকড়

পেরিয়ে গিয়েছে প্রায় ৩৩০ দিন। এখনও ডিএ-র দাবিতে কলকাতার রাজপথে আন্দোলনের ঝাঁঝ আরও বাড়াচ্ছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আন্দোলনকারীরা। কার্যত সেকারণেই রাজ্য সরকারী কর্মচারীরা ডিএ-র দাবিতে নবান্নের সামনে অবস্থান বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। এছাড়াও নতুন বছরের শুরুতেই মহা মিছিলের ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। শিয়ালদহ, হাজরা, হাওড়া থেকে মিছিল হওয়ার কথা আছে। বকেয়া ডিএ-র দাবিতে রাজ্য সরকারি কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন। চলতি মাসের ১৯ থেকে ২২ তারিখ পর্যন্ত সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ নবান্ন বাসস্ট্যান্ডে সভা করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করে। কিন্তু তাদের সভার অনুমতি এখনো দেয়নি রাজ্য পুলিশ। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, গোটা বিষয়টি নিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছে প্রশাসন। এরপরই আন্দোলনের জল গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত। তারা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। প্রথমে হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত তাঁদের আবেদন ফিরিয়ে দেন। তবে‌ শেষ পর্যন্ত বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার দাবিতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনে নেমেছেন রাজ্য সরকারি কর্মীদের সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। দীর্ঘসময় ধরে ধর্মতলার শহিদ মিনারে চলেছে তাঁদের আন্দোলন। মাস খানেক আগে তাঁরা অনশনও শুরু করেছিলেন। গত ২৪ এপ্রিলের আগে গত ১৫ মার্চ ডিএ মামলার শুনানি পিছিয়ে ২১ মার্চ সময় দিয়েছিল সর্বোচ্চ আদালত। রাজ্যের দাবি, হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে কর্মচারিদের ডিএ দিতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত ৪১ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। যা রাজ্য সরকারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। কিন্তু রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের দাবি, ডিএ তাঁদের অধিকার। তা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। হাইকোর্টের নির্দেশের পরও রাজ্য সরকার ডিএ না দেওয়ায় সম্প্রতি আন্দোলনে নেমেছে রাজ্য সরকারি কর্মচারি সংগঠনগুলির যৌথমঞ্চ। ধর্মতলায় শহিদ মিনারের নিচে তাঁরা অনশন আন্দোলন শুরু করেছেন। বাম-কংগ্রেস, বিজেপি-সহ বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল আন্দোলনকারীদের সমর্থন করছে। এরমধ্যে প্রতীকী ধর্মঘটও করেছে রাজ্য সরকারি কর্মচারি সংগঠনগুলি। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে বারবার শুনানি পিছিয়ে যাওয়ায় সমাধান সূত্র বের হতে দেরি হচ্ছে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

About Post Author