Home » রেশন দুর্নীতি মামলায় ধৃত শঙ্করের ভাই মলয় আঢ্যকে ফের তলব ইডির

রেশন দুর্নীতি মামলায় ধৃত শঙ্করের ভাই মলয় আঢ্যকে ফের তলব ইডির

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৩ জানুয়ারিঃ রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। বছরের শুরু থেকেই রেশন দুর্নীতির তদন্তে তেড়েফুঁড়ে ময়দানে নেমেছে ইডি। রেশন দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ঘনিষ্ঠ বনগাঁ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান শংকর আঢ্য। এবার শঙ্করের ভাই মলয় আঢ্যকে চতুর্থবারের জন্য তলব করল ইডি। এর আগে তাঁকে তিনবার তলব করা হলেও হাজিরা দেননি। ফের মঙ্গলবার তাঁকে হাজিরা দেওয়ার জন্য নোটিস পাঠানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, শঙ্কর আঢ্যর আইসক্রিম ব্যবসা ‘অঞ্জলি আইসক্রিম’ সংস্থাতে ডিরেক্টর মলয় আঢ্য। আরও এক সংস্থার ডিরেক্টর মলয়। দুই সংস্থার দফতরে তল্লাশি চালায় ইডি। মলয়ের সঙ্গে এসব বিষয়েই কথা বলতে চায় ইডি। এর আগে শঙ্কর আঢ্যর মেয়ে ঋতুপর্ণা আঢ্যকে তলব করেছিল ইডি। প্রায় ৬ ঘণ্টা ইডির সওয়ালের মুখে পড়েন ঋতুপর্ণা।

আরও পড়ুন  কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশে বড়সড় রদবদল, একইসঙ্গে বদলি ৫৫ অফিসারের

উল্লেখ্য, শনিবারই ইডি হেফাজত শেষ হয়েছে শঙ্করের। এদিনই তাঁকে ইডির বিশেষ আদালতে পেশ করার আগে স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য সিজিও কমপ্লেক্স নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ব্যাঙ্কশাল আদালতে তাঁকে পেশ করা হুলে বিচারক শংকরবাবুকে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। এদিন বিকেলেই তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে (Presidency Jail)। এই জেলেই রয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও মানিক ভট্টাচার্য। প্রেসিডেন্সি জেল সূত্রে খবর, তেইশ-চুয়াল্লিশ সেল ব্লকে রাখা হয়েছে শঙ্কর ওরফে ডাকুকে। যেহেতু তিনি ‘হাইপ্রোফাইল’ বন্দি। সেই কারণে বাড়তি নজরদারি রয়েছে শঙ্করের সেলে। বসানো হয়েছে একাধিক সিসি ক্যামেরাও। জানা গিয়েছে, জেলের রুটি মুখে রুচচ্ছে না শঙ্করের। তিনি বাড়িতে বানানো রুটি, তরকারি,মাছ-মাংস খেতে চেয়েছেন। এমনকী জেলে মল ত্যাগের জন্য পরিষ্কার কমোডও আবদার করেছেন। যদিও সব আবদারেই কার্যত ‘না’ শুনতে হচ্ছে তাঁকে।

প্রসঙ্গত, রেশন দুর্নীতির তদন্তে শংকর আঢ্যর আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য পেতে ইতিমধ্যেই কলকাতা ও সল্টলেকের ৪ জায়গায় তল্লাশি চালান ইডি। তার মধ্যে যেমন রয়েছে রেশন দুর্নীতি মামলায় ধৃত শঙ্কর আঢ্যর অফিস, তেমনই রয়েছে সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে তাঁর চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট অরবিন্দ সিংয়ের অফিসও। তাঁর কলকাতার বাড়ি, অফিসে চিরুনি তল্লাশি চালানোর পর উদ্ধার হয় প্রচুর বাংলাদেশি মুদ্রা। ভারতীয় টাকায় যা প্রায় ৮ লক্ষের কাছাকাছি। রেশনে মোট ১০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলেই জানিয়েছে ইডির আইনজীবী। যার মধ্যে ২৭০০ কোটি টাকা পাচার হয়েছিল দুবাইয়ে। বিগত প্রায় এক দশক ধরে এই কারবার চলছে। শঙ্কর আঢ্যর সংস্থার মাধ্যমেই ওই বিপুল পরিমাণ টাকা বিদেশে পাচার করা হয় বলে দাবি ইডির। উল্লেখ্য, টানা ১৭ ঘণ্টা ম্যারাথন জেরার পর অবশেষে গত ৫ জানুয়ারি রাত ১২টা নাগাদ রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ঘনিষ্ঠ বনগাঁ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্যকে গ্রেফতার করে ইডি।

About Post Author