পুরন্দর চক্রবর্তী ও সোমনাথ আদক,সময় কলকাতা , ১ ফেব্রুয়ারী : এরকম কথা প্রচলিত আছে যে, মনমোহন সিং যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ছিল গান্ধী পরিবারের হাতেই। ২০১৩ সালে নরেন্দ্র মোদী মনমোহন সিং কে সরাসরি নাইট ওয়াচম্যান আখ্যা দেন, তাঁকে মোদী বলেছিলেন ‘গান্ধী পরিবারের হাতের পুতুল ‘। চম্পাই সোরেন সম্পর্কে এরকমই এক বিশেষণ চালু বহুদিন ধরে। শিবু সোরেন আজ থেকে ১৫ বছর আগেই চম্পাই সোরেনের মধ্যে খুঁজে পেয়েছিলেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীকে। অবিন্যস্ত সাজপোশাক, ঢিলেঢোলা শার্ট-প্যান্ট, পায়ে চপ্পল, মাথায় ধূসর চুল। এরকমভাবেই তাকে দেখে অভ্যস্ত ঝাড়খণ্ডের মানুষ। শিবু সোরেনের ডাকে অবিভক্ত বিহার ভেঙে পৃথক আদিবাসীভূমি ঝাড়খণ্ড গড়ার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তিনি। সেই সময় থেকেই সিংভূমে ‘টাইগার’ নামে পরিচিতি পেতে থাকেন তিনি। টাইগার নামে পরিচিতি থাকলেও শিবু সোরেনের “হনুমান” আখ্যাও তিনি পান। ছ’বার বিধায়ক হয়েছেন তিনি। ১৯৯১ সাল থেকে একবারই হেরেছেন বিধায়ক পদে।২০০৫ সাল থেকে টানা চারবার সেরাইকেলা আসনে ঝাড়খন্ড মুক্তিমোর্চার বিধায়ক হলেও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে জামশেদপুরে বিজেপির কাছে ভরাডুবি হয়েছিল তার। অথচ তিনি এবার ঝাড়খন্ডে জেএমএম- কংগ্রেস জোটের মুখ্যমন্ত্রী মুখ হয়ে উঠেছেন তিনি।

এবং হেমন্ত সোরেন পত্নী কল্পনা নয়, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে এখন এগিয়ে দুমকার ভূমিপুত্র ৬৭ বছর বয়সী চম্পাই সোরেন । চম্পাই সোরেন ইতিমধ্যেই মাকে সমর্থনকারী ৪৭ জন বিধায়কের তালিকা রাজ্যপাল সিপি রাধাকৃষ্ণানের হাতে তুলে দিয়েছেন। যদিও রাজ্যপাল এখনও তাঁকে সরকার গঠনের জন্য ডাকেননি। তিনি সরকার গঠনের জন্য ডাক পান কিনা সেদিকেই চোখ ঝাড়খন্ড ও দেশের রাজনৈতিক মহলের।

জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ডের জেএমএম- কংগ্রেস- আরজেডি দলের বিধায়করা বুধবার রাতেই রাজ্যপালকে জানিয়েছিলেন পরিবহন মন্ত্রী চম্পাই সোরেনকে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তারা বেছে নিচ্ছেন। এর আগে আলোচনায় উঠে এসেছিল, ঝাড়খণ্ডের সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের স্ত্রী কল্পনার নাম। তবে দুর্নীতি মামলায় হেমন্ত গ্রেফতারের পর চম্পাইয়ের উপরেই ভরসা রাখছে শাসক দলের বিধায়করা। ৬০০ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে বুধবার রাতে ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন ঝাড়খণ্ডের সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, সম্ভবত ইডি আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলার পরেই তিনি রাজভবনে গিয়ে ইস্তফা দেন। তারপর রাতেই তাঁকে গ্রেফতার করে ইডি।

রাজনৈতিক মহলের অভিমত, চম্পাই সোরেন অবশ্যই মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন, রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি সেই দিকে এগোচ্ছে। টাইগার মুখ্যমন্ত্রী হলেও ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন নির্ণায়ক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা থেকে যাবে শিবু সোরেনের পরিবারের হাতেই। শিবু সোরেনের পরিবারের হাতের পুতুল তকমা আরও পাকাপোক্তভাবে চম্পাই সোরেনের গায়ে চেপে বসে কিনা তা ভবিষ্যত সময় স্থির করে দেবে।।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?