সময় কলকাতা ডেস্ক, ২২ ফেব্রুয়ারি: কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বুধবার থেকে ফের দিল্লি চলো-র ডাক দিয়েছিল কৃষকদের বিভিন্ন সংগঠন। এদিন দিল্লির উদ্দেশ্যে কৃষকেরা যাত্রা শুরু করলে পুলিশ বাধা দেয়। কৃষকেরা ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে গেলে পুলিশ লাঠি চালায় ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে সংঘর্ষে এদিন মৃত্যু হয় এক পুলিশ কর্মীর। মৃত ওই পুলিশ কর্মীর নাম বিজয় কুমার। আহত হন ১২ জন পুলিশ কর্মী। জানা গিয়েছে হরিয়ানার তোহানা সীমানায় কৃষকদের মিছিল আটকানোর দায়িত্ব ছিল ওই সাব ইন্সপেক্টরের। এদিন কর্তব্যরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। প্রাথমিক চিকিৎসার করা হলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। কৃষকদের বিক্ষোভ আটকাতে গিয়ে এখনো পর্যন্ত তিনজন পুলিশ কর্মী মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে কৃষকদের নেতা সারওয়ান সিং পান্ধ জানান, আগামী দু’দিনের জন্য কৃষকদের দিল্লি চলো আন্দোলন বন্ধ থাকবে। শুক্রবার বিকেলের পর থেকে দিল্লী চলো নিয়ে আবার আলোচনায় বসবেন কৃষক নেতারা।
আরও পড়ুন ভয়াবহ ভূমিধস জম্মু কাশ্মীরে,বন্ধ শ্রীনগর জাতীয় সড়ক
এদিকে, বুধবারই আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে জখম হন ২৪ বছরের আন্দোলনরত এক কৃষক। গুরুতর যখন অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পরই কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী অর্জুন মুন্ডা কৃষকদের বিস্তর আলোচনায় বসার আর্জি জানান। তিনি বলেন, ‘আমি কৃষক নেতাদের কাছে সমস্ত বিষয় নিয়ে আলোচনায় এগিয়ে আসার আবেদন করছি।’ এর আগে গত রবিবারই কৃষক আন্দোলন চলাকালীন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছিল বছর সত্তরের মনোজিৎ সিং-এর। তার আগে গত ১৬ই ফেব্রুয়ারি বিক্ষোভের মাঝে প্রাণ হারান ৭৮ বছরের জ্ঞান সিং।
প্রসঙ্গত, কৃষকদের জন্য পেনশন, ফসলের জন্য ন্যূনতম সমর্থন মূল্যের গ্যারান্টি দেওয়ার আইন, শস্যবিভাগ এবং তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর বাতিলের দাবিতে ফের দিল্লি চলো ডাক দিয়েছিল পাঞ্জাব হরিয়ানা সহ একাধিক রাজ্যের কৃষকেরা। কৃষকরা জানিয়েছিল, সরকারের দেওয়া প্রস্তাবে তাদের স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে না। কার্যত সে কারণেই সরকারের পক্ষ থেকে যে প্রস্তাব এসেছে, তা খারিজ করেছে কৃষকেরা। ফলে বুধবার থেকে দিল্লির সীমান্ত এলাকাগুলিতে কৃষকদের বিক্ষোভ শুরু হয়। রবিবার কেন্দ্র ও কৃষকদের মধ্যে চতুর্থ দফা আলোচনা হয়। যেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে পুরনো ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে শুধুমাত্র ডাল, ভুট্টা এবং তুলা কেনার নিশ্চয়তা দিতে চাওয়া হয়েছিল। আগামী পাঁচ বছরের জন্য এই ব্যবস্থা চালু রাখার প্রস্তাবও দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু কৃষকরা কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
মোদি ও বিজেপিকে খোঁচা : আগাম জামিন পেলেন নিয়ে নেহা সিং রাঠোর