Home » ” ম্যাডাম বললেই প্রতিবাদ “, কে এই সন্দেশখালির প্রতিবাদী গীতা বর? ম্যাডাম-ই বা কে?

” ম্যাডাম বললেই প্রতিবাদ “, কে এই সন্দেশখালির প্রতিবাদী গীতা বর? ম্যাডাম-ই বা কে?

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৪ ফেব্রুয়ারি :  গীতা বর । তিনি হয়ে উঠছেন সন্দেশখালির  প্রতিবাদী মুখ। কিছুটা হলেও স্বতন্ত্র তিনি। ম্যাডামের নির্দেশ পেলে তবেই তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন আন্দোলনে।

‘ম্যাডামের’ নির্দেশ পেলেই লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া গীতা বর  প্রতিবাদের মুখ বেশ কিছুদিন ধরেই কিন্তু তাঁর মুখ সাধারণত গামছায় ঢাকা থাকে। আজকাল একদম দেখা যায় না তাঁর মুখ। তাঁকে দেখা যায় সন্দেশখালির উত্তেজনা প্রবণ বেড় মজুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের কাঠপোল,বটতলা, দাশপাড়া সহ বিভিন্ন এলাকায়। তিনি বলছেন, প্রতিবাদ করাই তাঁর কাজ।  ফোনের মাধ্যমে তাঁর কাছে ম্যাডামের নির্দেশ এলেই তিনি যেখানে আগুন জ্বলছে সেখানে ছুটে যান। কে এই ম্যাডাম, কার নির্দেশে আগুন হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন গীতা? কেন এই ছুটে চলা?

প্রচন্ড সংগ্রাম করে বাঁচতে হয় গীতা বরদের। বেড়ার বাড়ি। বৃষ্টিতে জল পড়ে ঘরে । খুব দীনহীন দশা। স্বামী বিশেষভাবে সক্ষম। পরিচারিকার কাজ করে দিন গুজরান করে চলা গীতা বর এখন বুঝেছেন পুলিশকে অভিযোগ জানিয়ে লাভ নেই। নিজেদের টুকু বুঝে নেওয়ার জন্য তাই লড়াই।

গীতা বর বললেন, “সরকারের বিরুদ্ধে নয়। মস্তানদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। ” ‘ম্যাডাম’ বললেই যে প্রতিবাদ এবং ম্যাডাম এলাকায় এলে তিনি যে আগলে রাখেন তাও তিনি জানিয়েছেন। তিনি দুটি কথা বারবার বলে থাকেন, প্রতিবাদ ও সুবিচার। আর বলেন, মায়েরা যেখানে যেখানে প্রতিবাদ করছেন সেখানে মুখে কাপড় জড়িয়ে তিনি পাশে থাকবেন।

শঙ্খ ঘোষ বলেছিলেন, মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে। এখন সন্দেশখালির কাব্য প্রতিবাদী গীতা বরদের সৌজন্যে খানিকটা অন্যরকম। এখানে মুখ ঢেকে যায় গামছায় অথবা কাপড়ে । গীতা বুঝিয়েছেন গামছা বা কাপড়ে মুখ ঢাকা থাকলেও তাঁর প্রতিবাদ মিথ্যে হতে পারে না। গীতা বর বলেছে,ন মাঝে মধ্যে তিনি মুখ খুলেও পথে নেমেছেন। তাঁর বক্তব্য, এখন মার খেতে হয়। তাই ঢেকে রাখা মুখ নিয়ে ম্যাডামের ফোন এলেই বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদের বিভিন্ন বার্তা বয়ে নিয়ে যান।  গীতা বরের মত ‘অগ্নিকন্যা ‘র নেপথ্যে থাকেন ম্যাডাম। গীতা বললেন, ” ম্যাডাম বললেই প্রতিবাদ।” এই ম্যাডাম কে? কিছুতেই নাম না বলতে চাইলেও কথা বলতে বলতে আচমকা বেরিয়ে এল “ফাল্গুনী ম্যাডামের” নাম।  তৃণমূলের সুকুমার মাহাতো প্রমুখ অবশ্য অনেক দিন আগে থেকেই গীতা বরকে চেনেন। তাদের অভিযোগ ছিল নেপথ্যে রয়েছে বিজেপির মদত।

জমি, ভেড়ি, বাড়িকে ঘিরে অত্যাচার ও বিভিন্ন শারীরিক নির্যাতনের পরে সুবিচারের দাবিতে গর্জে ওঠা আন্দোলনের পাশাপাশি শাসক দলের বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমর্থন থাকতেই পারে, নেপথ্যেও ‘ফাল্গুনী ম্যাডাম’ থাকতেই পারেন, প্রতিবাদীদের মুখ ঢাকা থাকতেই পারে তবুও মিথ্যে হতে পারে না গীতা বরের মত মহিলাদের প্রতিবাদ। কারণ সন্দেশখালির আগুনের শিখা ছিল লেলিহান।দীর্ঘদিন ধরে শাজাহানের লোকজন,উত্তম বা শিবু হাজরারা তাঁদের ওপরে যে অত্যাচার করেছেন তারপরে বাঁচার জন্য পথ খুঁজতে কাপড় মুখে জড়িয়ে পথে নামতেই পারেন সব হারানো, সহায় সম্বলহীন গীতা বরদের মত মানুষজন।।

About Post Author