সময় কলকাতা ডেস্ক, ৮ মার্চ : মরিচঝাঁপির সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসহায় উদ্বাস্তুদের নির্যাতন ও গণহত্যার ইতিহাস যা বিগত শতকের সত্তরের দশকের শেষ ভাগে ঘটেছিল। মরিচঝাঁপির সঙ্গে জড়িয়ে আছে পূর্ব পাকিস্তানে ভিটে মাটি থেকে উৎখাত হয়ে নতুন বাসস্থান খুঁজে নেওয়ার আশায় সব হারানো অসংখ্য হিন্দু শরণার্থীর রাষ্ট্রের রোষে মৃত্যু বা মৃত্যুর চেয়েও খারাপ এক জীবনলাভের ইতিহাস। প্রায় ৫০ বছর আগের এই ইতিহাস রক্তাক্ত এবং কলঙ্কিত হয়ে আছে আজও।
দেশভাগের ফলে পূর্ব পাকিস্তান থেকে দরিদ্র ছিন্নমূল মানুষদের উড়িষ্যা ও মধ্যপ্রদেশের এক অংশে, মূলত অনুর্বর দণ্ডকারণ্যে পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছিল যেখানে তাঁদের বেঁচে থাকা মুশকিল হয়ে উঠলে, তাঁদের পশ্চিমবঙ্গে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দেওয়া হয়।কেউ কেউ ফিরলেও অধিকাংশ মানুষ পশ্চিমবঙ্গের মূল ভূখণ্ডে ঢুকতে না পেরে আশ্রয় নেন সুন্দরবনের দক্ষিণ ২৪ পরগনার মরিচঝাঁপিতে। মরিচঝাঁপিকে সংরক্ষিত বনাঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে বাম সরকার এবং সেখান থেকে উদ্বাস্তুদের উচ্ছেদের নামে নিপীড়ন ও দমননীতি প্রয়োগ করে। অসুস্থতা ও অপুষ্টিতে মৃত্যু ছাড়াও পুলিশ ক্যাম্পে উদ্বাস্তু হামলার পাল্টা হিসেবে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় অসংখ্য মানুষের। ১৯৭৯ সালের ৩১ জানুয়ারি, কার্যত গণহত্যা হয় প্রত্যক্ষভাবে। ৪৫ বছর কেটে গেছে। সেদিনের যে মানুষরা আজও শিউরে ওঠেন সেই দিনগুলির কথা তাঁদের যখন মনে পড়ে।।
আরও পড়ুন সতীদাহ প্রথার সাথে জড়িয়ে থাকা ইতিহাস


More Stories
ভারতরত্ন সম্মান : ইতিহাস ও বিতর্ক
“ইতিহাসের পাতা থেকে” কালজয়ী : সাহিত্যের মণিমুক্তো
স্বামী বিবেকানন্দের মা বীর জননী আখ্যা পেয়েছিলেন, কিন্তু কার জন্য? জানেন কি?