স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ৭ জুনঃ আয়োজনের কোনও ত্রুটি ছিল না। অফিসের দিন, প্রচণ্ড গরমকে উপেক্ষা করে যুবভারতীমুখী হয়েছিল প্রায় ৬০ হাজার সমর্থক। উপস্থিত ছিলেন দেশের প্রাক্তন ফুটবলাররাও। উপলক্ষ ভারতীয় ফুটবলের কিংবদন্তী সুনীল ছেত্রীর বিদায়ী ম্যাচ। বৃহস্পতিবারের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন হয়ে উঠেছিল সুনীলময়। মাঠে উপস্থিত ছিল সুনীলের পরিবারও। কিন্তু এত কিছুর পরও দিনের শেষে সব ফ্যাকাসে করে দিলেন ইগর স্টিমাচের ছেলেরা।

ঘরের মাঠে কুয়েতকে হারাতে পারলে, বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে তৃতীয় রাউন্ডের পথে এক পা বাড়িয়ে রাখতে পারত ভারত। কিন্তু তাদের ম্যাচ গোলশূন্য শেষ করে সেই কাজটি কার্যত আরও কঠিন করে ফেলল তারা। ভারতের গ্রুপে শীর্ষে রয়েছে কাতার। তাদের পয়েন্ট ৪ ম্যাচে ১২। এখনও একটিও ম্যাচ হারেনি গত বিশ্বকাপের আয়োজকরা। ৫ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। তিন নম্বরে কুয়েত। তাদের সংগ্রহ ৫ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট। ৪ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে আফগানিস্থান। বৃহস্পতিবার কাতারের বিরুদ্ধে নামবে আফগানরা। সেই ম্যাচে কাতারের জেতার সম্ভাবনা প্রবল। শেষ রাউন্ডে আফগানিস্থান বনাম কুয়েত ম্যাচ অমীমাংসিত শেষ হলেও চাপ বাড়বে মেন ইন ব্লু শিবিরের। শেষ ম্যাচে ভারতকে খেলতে হবে শক্তিশালী কুয়েতের বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচে দোহায় গিয়ে ভারতের জিতে আসার সম্ভাবনাও খুব ক্ষীণ। ফলে কুয়েতের বিরুদ্ধে ড্র করে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায়ের মুখে ভারত।
আরও পড়ুনঃ Luka Modric: ‘এই খেলার তুমি একজন কিংবদন্তী…’, বিদায়ী ম্যাচের আগে সুনীলকে বার্তা মদ্রিচের
আরও পড়ুনঃ T20 World Cup 2024: বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল উগান্ডা, পাপুয়া নিউগিনিকে হারাল লড়াই করে
অধিনায়কের বিদায়ী ম্যাচে নিরাশ করলেন তাঁর সতীর্থরা। গোটা ৯০ মিনিট উদ্দেশ্যহীন ফুটবল খেললেন তারা। জেতার কোনও তাগিদ ছাংতেদের খেলার মধ্যে খুঁজে পাওয়া গেল না। বিপক্ষ শক্তিশালী হলে বড় ব্যবধানে হেরে যুবভারতী ছাড়তে হত স্টিমাচ ব্রিগেডকে। বরং অনেক ইতিবাচক ফুটবল খেলল কুয়েত। ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণ তৈরি করেছিল সফরকারী দল। মহম্মদ আব্দুল্লাহের শট কোনওমতে রুখে দেন গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং সাধু। ৯ মিনিটের মাথায় আবার বিপক্ষের আক্রমণ ভেস্তে দেন তিনি। ভারত প্রথম সুযোগ তৈরি করে ১১ মিনিটে। লিস্টনের ক্রস সুনীলের কাছে পৌঁছনোর আগে বিপদমুক্ত করেন বিপক্ষের ডিফেন্ডার। অনিরুদ্ধ থাপার কর্নার থেকে আনোয়ারের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। বলের দখল নিজেদের পায়ে রেখে আক্রমণ তৈরি করছিল কুয়েত। নিজেদের মধ্যে ছোট ছোট পাস খেলছিল তাদের ফুটবলাররা। ২৪ মিনিটে গোলের সহজ সুযোগ তৈরি করেছিল তারা। আলসুলেমানের থেকে পাস নিয়ে আগুয়ান গুরপ্রীতের মাথার উপর থেকে বল তুলে দেন আলরাশিদি। অল্পের জন্য তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। প্রথমার্ধে আনোয়ারের একটি হেড রুখে দেন কুয়েত গোলরক্ষক। প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময় দিশাহীন ফুটবল খেলে ভারত। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন পরিবর্ত হিসাবে নামা রহিম আলী। কিন্তু বিপক্ষের গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল জালে রাখতে পারেননি। সুনীল কেন্দ্রিক ভারতের আক্রমণগুলি সহজেই নির্বিষ করে দিচ্ছিলেন কুয়েতের ডিফেন্ডাররা। অন্যদিকে ভারতের পতন একাধিকবার রুখে দেন গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং সাধু। সব মিলিয়ে গোলের খাতা খুলতে পারেনি কোনও দল। এখন প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শেষ ম্যাচে ভারতকে অবিশ্বাস্য কিছু করে দেখাতে হবে।


More Stories
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে
কেকেআর-কে হারালেন, কে এই মুকুল চৌধুরী ?
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার