সময় কলকাতা ডেস্ক, ৮ আগস্ট : প্রয়াত বাম জমানার শেষ সেনাপতি #বুদ্ধদেবভট্টাচার্য। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। বৃহস্পতিবার সকালে এই খবর নিশ্চিত করেন তাঁর ছেলে সুচেতন ভট্টাচার্য। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে প্রাতঃরাশ করার পরেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর সকাল ৮টা ২০ মিনিটে পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতেই তিনি প্রয়াত হন। আপাতত বালিগঞ্জে পাম অ্যাভিনিউয়ের দু’কামরার ফ্ল্যাটেই তাঁর মরদেহ রাখা হচ্ছে। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ বাংলার রাজনৈতিক মহল। তাঁর প্রয়াণের সঙ্গেই শেষ হল বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি অধ্যায়।
আরও পড়ুন Sri Lanka vs India : ২৭ বছর পর শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে হার ভারতের
দীর্ঘদিন ধরেই নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। #COPD-তে আক্রান্ত ছিলেন বুদ্ধদেব। অসুস্থতার কারণে শেষ কয়েক বছর রাজনীতি থেকে তিনি দূরে ছিলেন। আগেও একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয় তাঁকে। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রবল শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বুদ্ধদেব। সেই সময়েও কয়েক দিন ভেন্টিলেশনে রাখতে হয় তাঁকে। কিন্তু, বুধবার রাতে বুদ্ধদেবের শ্বাসকষ্টের সমস্যা বেড়ে গিয়েছিল। অক্সিজেন সাপোর্টেই ছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালেই অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমতে থাকে বুদ্ধবাবুর। তবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই সকাল ৮টা ২০ মিনিটে বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুর খবর পাওয়া মাত্রই তাঁর পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতে ছুটে আসেন বিমান বসু, মহম্মদ সেলিম, সূর্যকান্ত মিশ্র-সহ দলের নেতা কর্মীরা। সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে তাঁর মরদেহ শায়িত থাকবে। এরপর বিকেল চারটে নাগাদ শুরু হবে শেষযাত্রা। বুদ্ধদেব মুখ্যমন্ত্রিত্বে তাঁর পূর্বসূরি জ্যোতি বসুর মতোই মরণোত্তর দেহদান করেছিলেন। সেকারণেই তাঁর ইচ্ছেকে মর্যাদা দিয়েই দেহদান করা হবে।
১৯৬৬ সালে সিপিএমের প্রাথমিক সদস্যপদ নেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। ১৯৭২ সালে সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৭৭ সালে বিধানসভা ভোটে প্রথমবার লড়াইয়ের ময়দানে নামেন। ১৯৯৬ সালের পর স্বরাষ্ট্র দফতরের মন্ত্রী ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। ১৯৯৯ সালে ডেপুটি মুখ্যমন্ত্রী হন তিনি। এরপর জ্যোতি বসু অবসর নেওয়ার পর ২০০০ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা ১১ বছর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বুদ্ধদেব। প্রথমে কাশীপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন তিনি। এরপর ১৯৮৭ সালে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে ভোটে দাঁড়ান। ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা এই কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন বুদ্ধবাবু। এরপর ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট শাসনের অবসান হয়।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য পদ্মভূষণ উপাধি প্রত্যাখ্যান করেন। কেন্দ্রীয় সরকার তাঁর নাম মনোনীত করলেও তিনি এই সম্মান নিতে অস্বীকার করেন।
#LateBuddhadevBhattacharya
#Latestbengalinews
#প্রয়াতবুদ্ধদেবভট্টাচার্য


More Stories
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
বিজেপিকে একমাত্র রুখতে পারেন দিদি : অখিলেশ যাদব
এবার কলকাতায় পাঁচজায়গায় একযোগে সিবিআই হানা