সময় কলকাতা ডেস্ক, ১২ আগস্টঃ আরজিকর হাসপাতালে চিকিৎসক খুনের ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য। দফায় দফায় চলছে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ। শুক্রবার থেকে কর্মবিরতিতে নেমেছেন জুনিয়র চিকিৎসক ও পড়ুয়ারা। শনিবারও রাজ্যের প্রায় সমস্ত হাসপাতালের চিকিৎসকরাই বিক্ষোভে সামিল হয়েছিল। আরজিকর হাসপাতালের ওই তরুণী চিকিৎসকের হত্যার পর বারবার নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ঘটনার পর থেকেই আরজিকর হাসপাতালের অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছে কর্তব্যরত চিকিৎসক থেকে শুরু করে জুনিয়র চিকিৎসকেরা। এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছিল। স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে আরজিকর মেডিক্যাল কলেজের সুপারকে সঞ্জয় বশিষ্ঠকে ইতিমধ্যেই অপসারণ করা হয়েছে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বুলবুল মুখোপাধ্যায়কে। কিন্তু তখনও প্রশ্ন ওঠে সুপার অপসারিত হলেও, বহাল তবিয়তে কেন থাকবেন অধ্যক্ষ? এই পরিস্থিতিতে চাপ বাড়তে থাকে অধ্যক্ষের। এসবের মাঝেই পড়ুয়াদের আন্দোলনের মুখে পড়ে শেষমেশ পদত্যাগ করলেন আরজিকর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ।
যদিও সোমবার সকাল থেকেই শোনা যাচ্ছিল, আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে বদলি করে দেওয়া হচ্ছে সন্দীপ ঘোষকে। তাঁকে পাঠানো হচ্ছে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালের দায়িত্বে। তার কিছুক্ষণ পরেই নিজের পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন সন্দীপ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘ আমার কাছে বদলি সংক্রান্ত কোনও নোটিস নেই। আমি নিজে থেকেই পদত্যাগ করেছি। আমার নামে সম্পূর্ণ মিথ্যা অপপ্রচার হয়েছে। ডাক্তারদের মধ্যেই চোর-ডাকাত রয়েছে। খুব শীঘ্রই সেই মুখোশগুলো খুলে যাবে। আমি অর্থোপেডিক সার্জেন, আমার দুটো হাত রয়েছে, আমি কিছু করে খেতে পারব।’ এদিকে, আরজিকর হাসপাতালে চিকিৎসক খুনের ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে কেন মেডিক্যাল কলেজগুলিতে রেস্ট রুমের ব্যবস্থা থাকবে না? আর জি কর হাসপাতালে গিয়ে সেই একই প্রশ্ন করেছেন সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম। এ দিকে, নৃশংস এই ঘটনার পর খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযুক্তের শাস্তির দাবি জানান।

শনিবার নবান্নে বসে উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক। সেখানে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম,চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য , মুখ্যসচিব বিপি গোপালিকা ,রাজ্য পুলিশের ডিজি সহ শীর্ষ কর্তারা। জানা গিয়েছে, এবার থেকে আরজি কর হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসক ও নার্সদের থাকার জন্য অ্যানেক্স বিল্ডিং তৈরি করবে রাজ্য সরকার। নির্মাণ কাজ শুরু করতে দ্রুত আরজি কর যাচ্ছেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। পাশাপাশি প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজে নিরাপত্তা আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর। জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতো বেলগাছিয়া ট্রাম ডিপোতে আরজি কর হাসপাতালের হস্টেলের জন্য জমি দেবে নবান্ন। সেখানে তৈরি হবে বিল্ডিং। ওই বিল্ডিংয়ের একটা ফ্লোর নির্যাতিতা ডাক্তার ছাত্রীর স্মৃতিতে করা হবে। তবে যেহেতু নির্যাতিতার নাম সামনে আনা সম্ভব নয়, তাই কী নামে হবে সেটা আলোচনা করে ঠিক হবে। এদিন অন্যান্য সরকারি হাসপাতালগুলির নিরাপত্তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। সূত্রের খবর, হাসপাতালের প্রতিটা ইন ও আউট গেটে সিসিটিভি বাড়ানো হবে। হাসপাতালের প্রতি গেটের নিরাপত্তা বাড়ানো হবে। হাসপাতালগুলিতে প্রয়োজন মত সিসিটিভিও বাড়ানো হবে বলে খবর।
#RGkarHospital
#RGkarPrincipalSandeepGhoshresigned
#RGkarPrincipalSandeepGhosh
#RGKARDoctorDeath
#Latestbengalinews


More Stories
ডিমথেরাপিতে গ্রেফতার ২, কথা রাখলেন পথপ্রদর্শক কুণাল!
স্বরূপ বিশ্বাসের বাড়িতে পুলিশ, সঙ্গে কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনী
গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার দুই কাউন্সিলর