Home » সাষ্টাঙ্গে নত হয়ে ক্ষমাস্বীকার, মুখ্যমন্ত্রীর নামে কুরুচিকর পোস্ট করার জন্য শাস্তিবিধান!

সাষ্টাঙ্গে নত হয়ে ক্ষমাস্বীকার, মুখ্যমন্ত্রীর নামে কুরুচিকর পোস্ট করার জন্য শাস্তিবিধান!

Oplus_131072

সানি রায়, সময় কলকাতা, ১৬ জুন : সাষ্টাঙ্গে প্রণাম হলো সনাতন ধর্মে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের একটি রূপ। এখন ভয়ে- ভীতিতে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করে নত হয়ে ক্ষমা চাইতে হচ্ছে একদা দাপুটে তৃণমূল নেতাদের। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নামে সামাজিক গণমাধ্যমে কুরুচিকর পোস্ট করার জন্য তাঁকে দেওয়া হয়েছে এরকম “শান্তিপূর্ণ”  শাস্তিবিধান!

যত কাণ্ড যেন ধুপগুড়ির এই খট্টিমারিতেই। একের পর এক কোটি টাকার দুর্নীতি, নেতাদের হুশিয়ারি ধমকানি চমকানির পর এবার তৃণমূলের নেতাকেই দেখা গেল জনরোষের ভয়ে।ধূপগুড়ির খট্টিমারিতে একসময়ের দাপুটে তৃণমূল নেতাকে প্রকাশ্য সভায় করজোড়ে ক্ষমা চাওয়ালেন বিজেপি নেতৃত্ব। পুলিশ প্রশাসন দিয়ে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানো নয়, বরং গ্রামের সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতেই নিজের ভুল স্বীকার করেন ওই নেতা। সকলের সামনে করজোড়ে ক্ষমা চেয়ে তিনি সাষ্টাঙ্গে নত হয়ে ক্ষমাস্বীকার করেন।

এই নজিরবিহীন ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে ধূপগুড়ির খট্টিমারি এলাকা।ঘটনার সূত্রপাত,চার দিন আগে ধূপগুড়ি ব্লকের ঝাড় আলতা ২ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল নেতা জগবন্ধু অধিকারী নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নামে একটি কুরুচিকর পোস্ট করেন। সামাজিক মাধ্যমে পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। এর প্রতিবাদে স্থানীয় বিজেপির একটি প্রতিনিধিদল ওই তৃণমূল নেতার বাড়িতে গেলেও তাঁর দেখা পায়নি। পরবর্তীতে বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জগবন্ধু অধিকারীকে নির্দিষ্ট সময় ও স্থানে আয়োজিত প্রকাশ্য সভায় এসে নিজের ভুলের জন্য দুঃখপ্রকাশ করার এবং সামাজিক মাধ্যম থেকে আপত্তিকর সমস্ত বিষয় মুছে ফেলার আহ্বান জানানো হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে খট্টিমারি স্কুল চৌপতির একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে বিজেপির আদি ও নব্য নেতৃত্বের উপস্থিতিতে এক তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তৃণমূল নেতা জগবন্ধু অধিকারী দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর নিজের কৃতকর্মের জন্য সকলের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। উপস্থিত সাধারণ মানুষের সামনে মাথা নত করে ক্ষমা চেয়ে তিনি জানান, ভবিষ্যতে আর কোনো বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না। এই সময় ঝাড় আলতা ২ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য সশরীরে উপস্থিত থেকে পুরো বিষয়টি আপস-মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য তৃণমূল নেতা জগবন্ধু অধিকারী নির্বাচনী সময়ে একাধিক বিবাদে জড়িয়ে ছিলেন। একাধিক সময় বিভিন্ন জায়গাতে দাদাগিরি এমনকি রাজনৈতিক সংঘর্ষে লিপ্ত থাকতে দেখা গিয়েছিল। তৃণমূল ক্ষমতা থাকাকালীন সময়ে এই নেতার বিরুদ্ধে কেউ পদক্ষেপ নিতে না পারলেও নতুন সরকার ক্ষমতায় আসতে জনরস উপড়ে উঠেছিল। তবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে একেবারে শান্তিপূর্ণভাবেই তৃণমূলের এই দাপুটে নেতাকে শেষবারের মতন হুঁশিয়ারি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হল বিজেপির তরফে। তবে এরকম শাস্তিবিধান  শান্তিপূর্ণ মনে করা হলেও প্রশ্ন উঠছে একটাই, এরকম ক্যাঙ্গারু কোর্ট বা সালিশি সভার আদলে এই ঘটনার দেখাদেখি, আইন যদি সার্বিকভাবে মানুষ নিজের হাতে তুলে নেয় তাহলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কতটা সম্ভব হবে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে ? তবে এই ঘটনাটিতে যে শুভ বুদ্ধিসম্পন্ন কিছু মানুষের প্রচেষ্টায় অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় সনাতনী নিয়মে অল্পের ওপর দিয়ে প্রবল জনরোষ থামানো গিয়েছে তা মেনে নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা।।

About Post Author