Home » আরজিকর কাণ্ডে নির্যাতিতার বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

আরজিকর কাণ্ডে নির্যাতিতার বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১২ আগস্টঃ  আরজিকর হাসপাতালের মৃত ডাক্তারি পড়ুয়ার সোদপুরের বাড়িতে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার দুপুর পৌনে ১ টা নাগাদ নির্যাতিতার বাড়িতে আসেন তিনি। নিহত ছাত্রীর বাবা, মায়ের সঙ্গে কথা বলছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। নিহত ছাত্রীর পরিবার কী ধরনের পদক্ষেপ চাইছেন, তদন্তের বিষয়ে তাঁদের কোনও বক্তব্য রয়েছে কি না, এবিষয়ে বিস্তারিত জানতে সরাসরি নিহত ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সংবাদ মাধ্যমকে বাড়িতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলেই সূত্রের খবর। এদিন  নির্যাতিতার বাড়ি থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কার জানান,  ‘ রবিবারের মধ্যে কিনারা না করতে পারলে CBI-কে দিয়ে দেব। আমি চাই পুলিশ যত তাড়াতাড়ি পারে দোষীদের গ্রেফতার করুক। যদি রবিবার পর্যন্ত না পারে, কারণ ভিতরেও তো অনেকে আছেন। তাই এই কেসটা তখন আমরা আর নিজেদের হাতে রাখব না। সিবিআইকে দিয়ে দেব।আমি প্রথম দিন থেকেই বলেছি। 

এরপরই সিবিআই প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘ সিবিআই-এর সাকসেস রেট কম। তাপসী মালিককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনা এখনও অবধি বিচার পায়নি। নন্দীগ্রামে যখন ১৪ জন গুলিতে মারা যায়, সেই কেস আজও সিবিআই সলভ করতে পারেনি। রিজওয়ানুর ইস্যু, রবীন্দ্রনাথের নোবেল চুরির বিচারও করতে পারেনি। কলকাতা পুলিশ হল পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পুলিশ। তবুও যদি কেস সলভ না হয় তাহলে মানুষের সন্তুষ্টির জন্য সিবিআই-এর হাতে তুলে দেব। কেননা কেস সলভ না হলে অনেকেই হয়ত ভাবতে পারে পুলিশ ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না। ‘

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে আরজিকরের চারতলায় সেমিনার হলে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও খুন করা হয় ডাক্তারি পড়ুয়াকে। ওই ঘটনার পরদিনই নিহত ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আমি মামলাটি ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। অভিযুক্তদের কঠোরতম শাস্তি পাওয়া উচিত। যদিও আমি মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে নই, তবে এক্ষেত্রে প্রয়োজনে অভিযুক্তদের ফাঁসি দেওয়া হবে। সিবিআই তদন্ত হোক বা যে কোনও তদন্ত হোক, আমাদের কোনও আপত্তি নেই। কারণ রাজ্য সরকারের কিছু লুকোনোর নেই। আমি স্পষ্টভাবে বলছি, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।’

আরও পড়ুন   RG KAR Hospitalঃ প্রবল চাপের মুখে পদত্যাগ করলেন আরজিকর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ

এদিকে, আরজিকর হাসপাতালে চিকিৎসক খুনের ঘটনায় দফায় দফায় চলছে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ। আরজিকর হাসপাতালের ওই তরুণী চিকিৎসকের হত্যার পর বারবার নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পড়ুয়াদের আন্দোলনের মুখে পড়ে সোমবার সকালেই  পদত্যাগ করেছেন আরজিকর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। এসবের মাঝেই এবার হাসপাতালের চার ডাক্তারকে তলব করল লালবাজার। জানা গিয়েছে, যে চারজনকে ডেকে পাঠানো হয়েছে, তাঁদের মধ্যে একজন হাউজস্টাফ আর বাকি তিন জন চিকিৎসক। তাঁদের  সোমবারই লালবাজারে আসতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ তদন্তে জানতে পেরেছে, স্নাতকোত্তর স্তরে দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া ওই ছাত্রী বৃহস্পতিবারও রাত ২টো পর্যন্ত হাসপাতালের ওয়ার্ডে ডিউটি করেন।

পরে কর্মরত আরও চার জুনিয়র ডাক্তারের সঙ্গে রাতের খাওয়া সেরে পড়াশোনার জন্য সেমিনার হলে চলে যান। ঘটনার রাতে আরজিকর হাসপাতালের ওই তরুণী চিকিৎসক একটি ফুড ডেলিভারি অ্যাপের মাধ্যমে খাবার অর্ডার করেছিলেন। তাঁরা এক সঙ্গে পাঁচ জন রাতের খাবার খেয়েছিলেন। শুক্রবার সকাল থেকে আর খোঁজ মিলছিল না তাঁর। পরে সেমিনার হল থেকে মেলে অর্ধনগ্ন দেহ। পুলিশের অনুমান, ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে ওই ছাত্রীকে। সূত্রের খবর, সেদিন রাতে নির্যাতিতার সঙ্গে তাঁদের ঠিক কী কথা হয়েছিল, কোনও রকমে অস্বাভাবিকত্ব সেদিন রাতে তাঁরা দেখেছিলেন কিনা, তা জানতে চাইবেন তদন্তকারীরা। সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই ওই চার ডাক্তারের বয়ান রেকর্ড করবে পুলিশ।

#RGkarHospital , 

#RGkarPrincipalSandeepGhoshresigned , 

#RGkarPrincipalSandeepGhosh  ,

#RGKARDoctorDeath ,

#Latestbengalinews

About Post Author