সুজয় ভট্টাচার্য, সময় কলকাতা, ১ সেপ্টেম্বর : সায়নীর পঞ্চম সিন্ধু জয়। সপ্তসিন্ধু বিজয় সায়নীর বরাবরের পাখির চোখ।সায়নীর লক্ষ্যপূরণের স্বপ্ন বা তার উত্তর যদিও পুরাণে বা ঋকবেদে মিলবে না। ভারতীয় পুরাণে, সপ্ত সিন্ধু মানে সাতটি পবিত্র নদী, ঋগ্বেদ এবং জেন্দ আবেস্তাতেও তেমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলি বেশিরভাগই উত্তর-পশ্চিম ভারত বা উত্তর পাকিস্তানে পাঞ্জাব অঞ্চলে অবস্থিত। সাঁতারে এবং বর্তমানে ক্রীড়ার পরিভাষায় সপ্তসিন্ধুর সংজ্ঞা অন্য এবং যার ভৌগলিক পরিধি বিশ্বব্যাপী। সপ্তসিন্ধু জয় যেন সপ্তসাগর জয়।কালনার মেয়ে ও সাঁতারে বিশ্বের মানচিত্রে অনন্যা হয়ে ওঠা সায়নী দাস সপ্তসিন্ধু বিজয়ের লক্ষ্যে পঞ্চম সিন্ধু উত্তর আয়ারল্যান্ডের নর্থ চ্যানেলের জলে ঝাঁপ দিয়ে ঘড়ি ধরে তেরো ঘন্টা বাইশ মিনিটে সাঁতার কেটে জয় করলেন নর্থ চ্যানেল আর গড়লেন নজির।
প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকূলতা ছিল শত সহস্র । লক্ষ্যে অবিচল সায়নী টপকেছেন সব বাধা। বরফের মত ঠান্ডা হাড় হিম করা জল, দমকা হাওয়ার সঙ্গে স্রোতের প্রতিকূলে থেকেও শুক্রবার সায়নী বুঝিয়ে দিলেন ব্রজেন দাস, আরতি সাহা, বুলা চৌধুরীদের তিনি যোগ্য উত্তরসূরী। তাঁদের রেকর্ড ভেঙে আরও দূরে পাড়ি দিতেই তিনি এসেছেন।
এই জয়ের সঙ্গে দুটি রেকর্ডও সায়নী করে ফেললেন। কোনও মহিলা সাঁতারু হিসাবে তিনি যেমন ভারতের প্রথম নর্থ চ্যানেল জয়ী , অন্যদিকে তেমনই তিনি এশিয়া মহাদেশের মধ্যে প্রথম মহিলা যার মুকুটে সপ্তসিন্ধুর পাঁচটি চ্যানেল জয়ের শিরোপা।

উল্লেখ্য,সপ্তসিন্ধু জয়ের লক্ষ্যে কালনা শহরের বাসিন্দা সায়নী দাস ইংলিশ চ্যানেল, ক্যাটালিনা (ক্যালিফোর্নিয়া), মলোকাই চ্যানেল (হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ), মাত্র চার মাস আগে কুক প্রণালী (নিউজিল্যান্ড) জয় করেন। একের পর এক ঐতিহাসিক জয়ের পর পঞ্চম সিন্ধু অর্থাৎ আয়ারল্যান্ডের নর্থ চ্যানেল জয়ের জন্য কোনও বিশ্রাম না নিয়েই কঠিন-কঠোর অনুশীলন চালিয়ে যান। বিদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাকে কখনও হাড়কাঁপানো ঠান্ডা গঙ্গায়, কখনও বরফ জলেও আইস বাথ করতে দেখা গিয়েছে। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি ও জলের চরিত্রকে বুঝে নিতে সায়নী তাঁর বাবা ও কোচ রাধেশ্যাম দাস, মা রূপালী দাসকে নিয়ে প্রায় একমাস আগে সেখানে পৌঁছে যান । নির্ধারিত সময়ের প্রথম দিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নর্থচ্যানেলে জলে নামার অনুমতি না মিললেও শুক্রবার সেখানে নামার অনুমতি মেলে। আয়ারল্যাণ্ডের সময় সকাল সাড়ে সাতটা ও ভারতীয় সময় প্রায় সাড়ে এগারোটা নাগাদ তিনি পঞ্চম সিন্ধু জয়ের লক্ষ্যে নামেন।
দীর্ঘ চ্যানেলের হিমশীতল জলে বেশীক্ষণ থাকার কারণে হাইপোথারমিয়া ও রক্ত জমাট বাঁধার মত দুর্ঘটনা যেখানে ঘটতে পারে, ভয়াল-ভয়ংকর সামুদ্রিক প্রাণীর হাতছানিকে উপেক্ষা করে তিনি জয়ী হন। সাঁতার চলাকালীন তাঁর পাশের একটি বোটের সামনে ভারতের জাতীয় পতাকাকে উড়তে দেখা যায়। তাঁর পঞ্চম সিন্ধু জয় বঙ্গ ও ভারতের নারীশক্তির আরেকটি অসমসাহসী ও অনন্য নজির। বিশ্বজয়ের দিকে এক ধাপ এগিয়ে গেলেন সায়নী।।
# সায়নীর পঞ্চম সিন্ধু জয়


More Stories
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে
কেকেআর-কে হারালেন, কে এই মুকুল চৌধুরী ?
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার